ডিএসইতে সূচক বেড়েছে ১২০৮ পয়েন্ট

পুঁজিবাজারে ২০১৭ সালটি ছিল আশীর্বাদের। এ বছরই প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) একদিনের লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করে। বছর শেষে যা গড়ে ৮৬৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এ ছাড়া পুঁজিবাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডিএসইর প্রধান সূচক ৬ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে। বছরের শেষ দিনে যা ৬২৪৪ পয়েন্ট অবস্থান করে। এর ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ সূচকের উত্থান হয়েছে ১২০৮ পয়েন্ট। তবে বারবার সময় বাড়িয়েও ডিএসই তাদের কৌশলগত বিদেশি অংশীদার নিয়োগ করতে পারেনি। এই ব্যর্থতায় আটকে আছে ডিমিউচুলাইজেশনের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন।

২০১৮ সালের প্রথম দিন সকালে লেনদেন শুরু হয় ডিএসইএক্স সূচক ৫০৩৬ পয়েন্ট থেকে। প্রথম দিনেই ৪৭ পয়েন্ট সূচক বেড়ে যাত্রা শুরু হয় এ সূচকের। এরপর উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বাড়তে থাকে এ সূচক। এরপর ৩১ আগস্ট কোরবানি ঈদের আগে শেষ কার্যদিবসে প্রথমবারের মতো এ সূচক ৬ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। এরপর ২৬ নভেম্বর ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে তথা ৬৩৩৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে উঠে যায় এ সূচক। এরপর ৬২৪৪ দশমিক ৫২ পয়েন্টে শেষ হয় বছরের লেনদেন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ সূচকের উত্থান হয়েছে ১২০৮ পয়েন্ট বা ২৩ শতাংশ। অন্যান্য সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ১৯৮ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট এবং পিএসই৩০ সূচক বেড়েছে ৪৭২ দশমিক ৩১ পয়েন্ট।

মূল্য সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও বড় অগ্রগতি হয়েছে বিদায়ী বছরে। এ বছর মোট লেনদেন হয়েছে ২৪৭ কার্যদিবস। এ সময়ে টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে গড়ে প্রতি কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ৮৬৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। আগের বছরে মোট লেনদেন হয়েছিল ২৪১ কার্যদিবস। মোট লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ১৫৭ কোটি ১০ লাখ টাকার। এ হিসেবে গড়ে প্রতি কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ২৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় বিদায়ী বছরে লেনদেন বেড়েছে ৮০ শতাংশ।

এই লেনদেন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা ছিল প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ। আলোচিত এই বছরে বিদেশিদের মোট লেনদেন হয়েছে ১১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। যা টাকার অঙ্কে ২০১৬ সালের চেয়ে ২ হাজার ৬৭৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বেশি। আর শতাংশের হিসাবে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। এটি ডিএসইর ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে বিদেশিদের লেনদেন হয়েছে ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

ডিএসইর তথ্যমতে, এই লেনদেনের মধ্যে ২০১৭ সালে প্রবাসী ও বিদেশিরা ৬ হাজার ৫৭৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন। এর বিপরীতে বিক্রি করেছেন ৪ হাজার ৮৭১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে বিদেশিরা ৫ হাজার ৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন। এর বিপরীতে শেয়ার বিক্রি করেছেন ৩ হাজার ৭১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সব মিলে আলোচিত এই বছরে প্রবাসী ও বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ হয়েছে ১ হাজার ৭০৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ৩৬৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বেশি। শতাংশের হিসাবে ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি।

তবে ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না বিএসইসি। এরমধ্যে নতুন শুরু হওয়া বুক বিল্ডিং পদ্ধতির দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে নতুন কোম্পানি আসার হার কমে গেছে। এর ফলে আইপিওর বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের আবেদন বেড়ে গেছে। একটি কোম্পানি এলেই বিচার-বিবেচনা না করেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন তারা। বিদায়ী বছরের সর্বনিম্ন ২২ থেকে ৬৪ গুণ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের আবেদন জমা পড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য মতে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০১৭ সালে ৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে মোট ২১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে। অথচ এর আগের বছর ২০১৬ সালে ১১টি কোম্পানিকে মোট ৮৪৯ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছিল। তারও আগে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ১২টি কোম্পানিকে ৮৩০ কোটি টাকা, ২০১৪ সালে ২০ কোম্পানিকে ১ হাজার ২৬৩ কোটি, ২০১৩ সালে ১২ কোম্পানিকে ৮৩০ কোটি, ২০১২ সালে ১৭ কোম্পানিকে ১ হাজার ২০৮ কোটি, ২০১১ সালে ১৩ কোম্পানিকে ১ হাজার ৬৭৭ কোটি এবং ২০১০ সাল পুঁজিবাজারের মহাধসের বছরেও ১৮টি কোম্পানিকে ১ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস