ডা. রাশিদা বেগমের ম্যারাডোনা প্রেমী হয়ে উঠার গল্প

ড. রাশিদা বেগমের ম্যারাডোনা প্রেমী হয়ে উঠার গল্পফুটবল বিশ্বকাপের উম্মাদনায় কাঁপছে বিশ্ব। সেই উম্মাদনার কমতি নেই বাংলাদেশও। দেশের সব বয়সের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মেতেছেন। বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার খ্যাতিমান চিকিৎসক অধ্যাপক ডাক্তার রাশিদা বেগম তাঁদের মধ্যে একজন শত ব্যাস্ততার মাঝেও নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফুটবল বিশ্বের জীবন্ত কিংবদন্তি ম্যারাডোনা প্রেমী হয়ে উঠার গল্প লিখেছেন।

প্রেম একবারই এসেছিল সরবে
সেই ১৯৮৬ সালের কথা। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা। বৈবাহিক সূত্রে খেলা দেখতে বাধ্য হলাম। বাধ্য হলাম মানে জোর করে বাধ্য করেছে তা নয়। সিচুয়েশন এমনই হোল যে খেলা না দেখে উপায় ছিল না। বৈকালিক ঘুম আমার শুধু প্রিয়ই নয় প্রয়োজনও বটে। বিকালে না ঘুমালে এক ফোটা রাত জাগতে পারি না এবং মাথা ব্যথা হয়। সেখানে সেই ঘুমের প্রতি কর্তা আমার এতই নির্দয় যে ক্যাত করে দরজায় একটা শব্দ করে ঘরে ঢুকেই ঘুমন্ত মানুষকে জিজ্ঞেস করে, ” ও রাসু, রাসু কি কর? ঘুমাও?” কাজেই বেডরুমে লাইট জ্বেলে খেলা দেখাতো কোন ব্যাপারই নয়। তার উপর গ্যালারী থেকে ভেসে আসা ও ও ও সুরেলা শব্দ সব মিলিয়ে ঘুমের তেরটা। যদিওবা একটু ঘুম এসে গেল তো ওহ্ ফ্রী কিক বলেই পিঠে একটা ফ্রী কিল। কি হোল? না না না কিছু না, ঘুমাও। এভাবেই বাধ্য হয়ে খেলা দেখা শুরু।

আর তখনই ম্যারাডোনার ঈশ্বরের হস্তক্ষেপে হোক কিংবা আশীর্বাদে হোক বিশ্বকাপ জয়। সেই জয়ে শুধু বিশ্বকাপই জয় করলনা, জয় করল বিশ্বের কোটী কোটী মানুষের হৃদয়ের সাথে আমারও হৃদয়। খেলা কিছু বুঝে কিছু না বুঝে পরে গেলাম ফুটবলের অবুঝ প্রেমে। সেই প্রীতি এমনই হোল যে ১৯৯০ সালে এফ সি পি এস এর এনাটমী পরীক্ষার আগের রাতে একবার টি ভি স্ক্রীনের দিকে আর একবার বই এর দিকে তাকিয়ে হলেও পুরো খেলা দেখেছি। ফলে সেই চোখ বুলানো জিনিশ থেকে প্রশ্ন পেয়েও ভুল করতে ভুল হয়নি। যদিও আমার ঈশ্বরের আশীর্বাদ আমার উপরে ছিল। (উল্লেখ্য, একটু দেরী করে ফ্যামিলি কমপ্লিট করে পোস্টগ্রাজুয়েশনে এসেছি)।

এবারে রোজা, মেয়ে, জামাই, নাতীর উপস্থিতি সব মিলিয়ে খেলা দেখতে তেমন আগ্রহ এবং সময় কোনটাই হয়নি। তবে দর্শকদের নানান ব্যঙ্গাত্মক আর বিরূপ কথাবার্তায় বুঝা গেল আর্জেন্টিনার অবস্থা ভাল নয়। নানান রকম অংক কষাকষি, সমীকরন মিলানোর ধুম।

তাই নাকি? বসলাম খেলা দেখতে। সেকি? অবস্থা খারাপ কোথায়? জিতে গেলতো মেসি, জিতে গেল আর্জেন্টিনা।

যে কোন দলেরই ভাল খেলা উপভোগ্য। ভাল খেলোয়াড় প্রশংসা ও ভালবাসার দাবীদার। সে যে দলেরই হোক। তবুও একপাল ভিনদেশী খেলোয়াড়দের কে হারল কে জিতল তাতে এই যোজন যোজন দূরে থাকা মানুষদের কি-ই বা এসে যায়। কেনইবা ব্যঙ্গ বিদ্রূপ!

তবে ম্যারাডোনা, মেসির দল ভাল খেলুক না খেলুক- জিতুক না জিতুক — প্রেম একবারই এসেছিল সরবে।

অধ্যাপক রাশিদা বেগমের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

মানবকণ্ঠ/ডিএইচ