ডাক্তার-রোগীর সম্পর্ক

ডাক্তার-রোগীর সুসম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে- আস্থা, বিশ্বাস, পরস্পরের প্রতি সম্মান। আর তাই অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসককে পিতার স্থান দখল করে নিতে হয়। রোগীর বয়স শিক্ষা, মানসিক অবস্থা চিকিৎসকের অবস্থানের কথা ভেবে একটা সুসম্পর্ক তৈরি করা যায়। চিকিৎসকরা আতঙ্কিত, রোগীরা ভীতসন্ত্রস্ত এবং দ্বিধাগ্রস্ত। রোগীদের সঙ্গে একেক ডাক্তারের ব্যবহার একেক রকম। কারো ব্যবহারে রোগীরা ভীষণ মুগ্ধ, আবার কোনো কোনো ডাক্তারের রুক্ষ আচরণে রোগীরা চরম বিরক্ত। ডাক্তার আর রোগী এ দু’য়ের মধ্যে ডাক্তারের দায়িত্ব রোগীর চেয়ে শতগুণ বেশি। যে কোনো দিন যে কেউ রোগী হতে পারেন, এমন কি ডাক্তার সাহেব নিজেও, তার নিকটাত্মীয় স্বজনও। কিন্তু যে কেউ চাইলেই যখন-তখন ডাক্তার হতে পারেন না। একজন রোগী এই সমাজেরই অংশ, সমাজের অস্থিরতা, সমাজের অবক্ষয় তাকেও অস্থির করে তোলে। আবার জনগণকেও চিন্তা করতে হবে চিকিৎসক শুধু চিকিৎসকই নন, তিনিও জনগণের একটি অংশ। মাঝে-মধ্যে ডাক্তার-রোগীর অসামঞ্জস্য দ্বন্দ্বের পেছনের সামাজিক অবস্থাকে উড়িয়ে দেয়া যাবে না।
দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী অর্ধশিক্ষিত অথবা অশিক্ষিত, যখনই কেউ রোগে আক্রান্ত হয় সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে চিকিৎসকের উচিত নিজেদের অবস্থান ও ক্ষমতার কথা রোগীকে জানানো এবং সীমিত ক্ষমতার কথা চিন্তা করে তাদের প্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। আবার রোগীদেরও উচিত ডাক্তারের আস্থাভাজন হওয়া, নিজের মতামত দূরে রেখে চিকিৎসকের প্রতি অনুগত হওয়া। ডাক্তার-জনগণ সম্পর্ক সব দেশে সব সময় একটি অতি সংবেদনশীল ও নাজুক সম্পর্ক। ডাক্তারদের ওপর জনগণের নির্ভরতা এতো বেশি যে অনেক সময় বলা হয় ডক্টর ইজ নেক্সট টু গড। কিন্তু নির্ভরতা যেখানে বেশি আস্থার সংকট ও সেখানে মাঝেমধ্যে তীব্র হতে পারে। সম্প্রতি সেন্ট্রাল হাসপাতালে ঢাবির এক ছাত্রী ব্লাড ক্যান্সারে মারা গেলে আবারো ডাক্তারদের ওপর হামলা, ক্লিনিক ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। প্রায়ই চিকিৎসায় গাফিলতি, অবহেলার অভিযোগে এমনকি ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ডাক্তারদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। কেন এই ভুল বোঝাবুঝি? এর নিরসন হবে কিভাবে? এসবই এখন জাতির সামনে প্রশ্ন। জামা ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিন জার্নালে এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে কি কি কারণে ডাক্তার-রোগীর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা যায় দ্বন্দ্ব সৃষ্টির কারণ: ১. অনুচিত, অসহায় অবস্থায় রোগী রেখে দেয়া (৩২%) ২. রোগী ও তার স্বজনদের মতামতকে কম মূল্য দেয়া (২৯%) ৩. তথ্য সরবরাহ ভালোভাবে না করা (২৬%) ও ৪. রোগী ও তার স্বজনদের মনোগত অবস্থান ও পরিপ্রেক্ষিত বুঝতে না পারা (১৩%)। এক কথায় জনগণের কিছু ধারণাগত বিশ্বাস এর কারণে এই অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভের জš§ হয়। ডাক্তার বোগীর সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন- হাসান মাহমুদ রিপন