ডাক্তার-রোগীর সম্পর্ক কী হওয়া উচিত?

একজন রোগী এই সমাজেরই অংশ, সমাজের অস্থিরতা, সমাজের অবক্ষয় তাকেও অস্থির করে তোলে। তাই জনগণকেও চিন্তা করতে হবে চিকিৎসক শুধু চিকিৎসকই নন, তিনিও জনগণের একটি অংশ। মাঝে-মধ্যে ডাক্তার-রোগীর অসামঞ্জস্য দ্বন্দ্বের পেছনের সামাজিক অবস্থাকে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। আমাদের জীবনযাপন, জীবনদর্শন আর সামাজিক অবস্থানের উন্নতির মাধ্যমে আমরা ডাক্তার হই বা রোগী হই, নিজেদের জন্য একটা সম্মানিত অবস্থান তৈরি করতে পারব। সামাজিক পরিবর্তনের মতো বিজ্ঞানও পরিবর্তিত হয়। উচ্চতর প্রশিক্ষণ একজন চিকিৎসকের জন্য অপরিহার্য। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন চিকিৎসক তার কর্মদক্ষতা বাড়াতে পারেন। এমনকি নিজের ব্যবহারেরও পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। রোগী আসে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা আর সহায়তার জন্য, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। চিকিৎসকও একজন মানুষ, সুতরাং রোগী তথা জনগণ যদি চিকিৎসকের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হয় সময় আর অবস্থানের কথা চিন্তা করে, তাহলে মাঝে-মধ্যে ঘটে যাওয়া অপ্রাসঙ্গিক ঘটনাগুলো নতুন করে ঘটার সম্ভাবনা নেই।
ডাক্তার-রোগীর সুসম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে- আস্থা, বিশ্বাস, পরস্পরের প্রতি সম্মান, জ্ঞানবুদ্ধি এবং রোগ আর জীবন সম্পর্কে মূল্যবোধ। এই ভিত্তিগুলো যার আছে তিনি ডাক্তার। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসককে পিতার স্থান দখল করে নিতে হয়। রোগীর বয়স, শিক্ষা, মানসিক অবস্থা, চিকিৎসকের অবস্থানের কথা ভেবে একটা সুসম্পর্ক তৈরি করা যায়। এতে করে রোগীর আত্মবিশ্বাস জš§ায়, ভালো স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা যায়। আমাদের দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী অর্ধশিক্ষিত অথবা অশিক্ষিত, যখনই কেউ রোগে আক্রান্ত হয় সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে চিকিৎসকের উচিত তাদের নিজেদের অবস্থান ও ক্ষমতার কথা রোগীকে জানানো এবং সীমিত ক্ষমতার কথা চিন্তা করে তাদের প্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। রোগীদেরও উচিত ডাক্তারের আস্থাভাজন হওয়া, নিজের মতামত দূরে রেখে চিকিৎসকের প্রতি অনুগত হওয়া। ঊঃযরবং প্রসঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর সেই বিখ্যাত সাতটি উবধফষু ঝরহ-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। যার দ্বারা গান্ধীজি সমাজের সব পেশার প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন, যা বর্তমানে বিরাজমান সর্বত্র। ডাক্তার এবং রোগীর সুসম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে মিডিয়া একটা ভালো ভূমিকা নিতে পারে। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, অনেক ক্ষেত্রে মিডিয়া সঠিক ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়। এ কথা কি একবার তারা ভেবেছেন? নাকি তারা তাই চেয়েছেন? অন্য টিভি চ্যানেলগুলো কিন্তু এসে আমাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তথ্য উপস্থাপন করেছে। গুজব যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে, বীভৎস রূপ নিতে পারে, ইতিহাসের পাতায় তার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। সুতরাং ইচ্ছা করে ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সমাজে শান্তি আনা সম্ভব হবে না। চিকিৎসক হিসেবে আমি বলব ডাক্তার, রোগী, হাসপাতালের যে সম্পর্ক সেটা হওয়া উচিত পূজারি, দেবতা, মন্দির বা উপাসনালয়ের মতো। – অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত