ডাকসু নির্বাচন করে দেখাতে চাই আমরাই পারি: শোভন

ছাত্রলীগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আয়োজন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তিনি বলেন, ‌‌‘দীর্ঘ ২৮ বছর পর নির্বাচন করে আমরা দেখিয়ে দিতে চাই যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগই ডাকসু নির্বাচন করতে পারে।’ বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য’ র্শীষক সমাবেশে থেকে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সমাবেশ থেকে ঢাবি ছাত্রলীগের ১৪ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যুগে যুগে মানুষকে পথ দেখিয়েছে। ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস। আমাদের ডাকসু নির্বাচন দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে হচ্ছে না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ডাকসু নির্বাচন করে দেখাতে চাই। আমরা প্রমাণ করতে চাই যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগই ডাকসু নির্বাচনের আয়োজন করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আবাসন সংকট। এছাড়াও ক্যান্টিনের খাবার। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আমরা যদি ডাকসু নির্বাচন করি, তাহলে আমার মনে হয় এই দুইটা সমস্যা সমাধান হবে। আমি নিজেই ব্যক্তিগতভাবে অনেক দিন হলের খাবার খেতে পারিনি।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমরা অনতিবিলম্বে ডাকসু নির্বাচন চাই। শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। না হলে সাধারণ ছাত্রদের কথা বলবে কারা। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সিন্ডিকেটে গিয়ে তাদের কথা বলুক।’

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আন্দোলনকে সফল করার জন্য গণরুমের কোনো প্রয়োজন নেই। সিট দখলের ওপর ভিত্তি করে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই। ইতোমধ্যে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সফল হয়েছি। অথচ আমরা লক্ষ্য করেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ডিজিটাল হয়নি। আমাদের পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখনো পুরোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।’

তিনি সান্ধ্যকালীন কোর্সের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় টাকা নেয়ার কোনো কারখানা নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় সান্ধ্যকালীন শিক্ষাদানের কোনো ট্রেনিং সেন্টার নয়। আজকে সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে শিক্ষকরা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকবেন, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসে সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে, এটা কোনোভাবে আমরা মেনে নেব না।’

ঢাবি ছাত্রলীগের ১৪ দফা দাবি: সমাবেশে থেকে ঘোষিত ছাত্রলীগের ১৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- অনতিবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার রূপরেখা প্রণয়ন, প্রশাসনিক-একাডেমিক-পরীক্ষা-ভর্তি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা, বিশ্বের সর্বাধুনিক কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ, ক্যাম্পাসে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও রিকশা ভাড়া নির্ধারণ, গবেষণা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদান, ‘সান্ধ্যকালীন কোর্স’ নিয়ে বিচার বিশ্লেষণের জন্য ‘শিক্ষা কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি ও বাস্তবায়ন, ক্যান্টিনের খাবারের মান যথোপযুক্ত করা, অযৌক্তিকভাবে হল- বিভাগ ও পরীক্ষা ফি’র বর্ধিত করণ প্রত্যাহার, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য রুট বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত পরিবহনের মাধ্যমে যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য নবীনবরণ প্রদান ও আবাসন সংকটের আপৎকালীন সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট’ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে ‘আন্তর্জাতিক সেমিনার’ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বঙ্গবন্ধুতনয়া শেখ হাসিনার জীবনদর্শন, উন্নয়ন ভাবনা, জনগণের ক্ষমতায়নের রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে ‘শেখ হাসিনা গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন।

ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ