ডাকসুর সাবেক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

ডাকসুর সাবেক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

দীর্ঘ ২৮ বছর প্রতীক্ষার পর সোমবার অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ভোটের পরিবেশ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এ নিয়ে মানবকণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন ডাকসুর সাবেক তিন কর্ণধার। সরকারে এবং বিরোধী দলে থাকা এসব নেতৃবৃন্দ তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বহুল প্রতিক্ষিত এ ভোট যতটা আশান্বিত করেছিল, ভোট শুরুর মুহূর্ত থেকে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগে ততটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ ভোট ডাকসুর ইতিহাসে ‘কলঙ্কিত’ হয়েছে থাকবে।

ইতিহাসে এমন কলঙ্ক আর হয়নি : মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম
ডাকসুর ইতিহাসে এমন কলঙ্ক আর হয়নি বলে দাবি করেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের ডাকসুর প্রথম নির্বাচিত ভিপি মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনে যা ঘটেছে তা আমাদের গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ফের কলঙ্কিত করেছে। আইয়ুব, এরশাদ আমলেও ডাকসু নির্বাচনে এমন কলঙ্ক হয়নি। সরকার যে নির্বাচনী সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে তা রুখে দেয়া জরুরি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বর্তমান এই সভাপতি ছাত্রদের পুনর্নির্বাচনের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্ররা লড়াইয়ের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে নির্বাচন বাতিলে বাধ্য করতে সক্ষম হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের সংগ্রামী ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্ষম হবে। ডাকসু নির্বাচনে আগের রাতে ব্যালট পেপারে টিক প্রদান করে বস্তা ভর্তি করে রাখা, ব্যালট পেপার অন্যত্র সরিয়ে রাখা, বুথ জ্যাম করে রেখে শিক্ষার্থীদের ভোট দানে বাধা প্রদান করা, লিটন নন্দী, অরণি, নূরু, দীপ্তিসহ প্রার্থীদের শারীরিক নির্যাতন করাসহ ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন কর্তৃক নানা অনিয়মের তীব্র নিন্দা জানান ডাকসুর সাবেক এই নেতা।

কলঙ্কময় ইতিহাসের যাত্রা শুরু : মাহমুদুর রহমান মান্না
ডাকসুতে কলঙ্কময় এক ইতিহাসের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর নির্বাচিত দুইবারের
সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেন, ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে, এটা একটা আনন্দের সংবাদ ছিল। ডাকসু আমাদের দেশে অনেক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে। এ দেশে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা দেখিয়েছে তারাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা সমগ্র দেশের ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে, গণতন্ত্র চেতনার বিকাশ সাধন করেছে। কিন্তু সেই গৌরবের ডাকসু হারল ভোট লুটেরাদের কাছে।

তিনি বলেন, যে ডাকসু হার মানেনি বায়ান্ন, ঊনসত্তর, একাত্তরে কিংবা আশির দশকে। আইয়ুব, ইয়াহিয়া কিংবা সামরিক জান্তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে খেলার দুঃসাহস দেখান নি। সেই ডাকসুতে এ কী দেখলাম। আমরা এ নির্বাচন চাই নি। মান্না আরো বলেন, ‘সরকার সমর্থিত সংগঠনকে জিততে হবেই বলে এবারের নির্বাচনে এসব অনিয়ম করা হয়েছে। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষের ভোটকে হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছে। আমি তো আগেই বলেছি, বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকায়ও এসেছে যে, এবার ডাকসু নির্বাচন হবে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের একটা রেপ্লিকা।’

সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে: খায়রুল কবির খোকন
ডাকসু নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার জন্য সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে দাবি করেছেন ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) খায়রুল কবীর খোকন।

তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা প্রথম থেকে দেখা দিয়েছিল। সব ছাত্রছাত্রীদের দাবি দাওয়াকে উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যখন নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে যাচ্ছিল, ভিন্ন মতের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নীল দলের শিক্ষকদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিল। ছাত্রলীগ ছাড়া আর সব সংগঠনের দাবি ছিল— ভোটের সময় বর্ধিত করা, হলের বাইরে ভোট কেন্দ করা, স্টিলের বদলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তা কিছুই করেনি। ডাকসু নির্বাচনকে যে কলঙ্কিত করবে, তাদের আচার-আচরণে তা প্রকাশ পেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ওপরে ভরসা রাখতে চেয়েছিলাম। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় কৃর্তপক্ষ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয়। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী তারা স্বাধীন। তারা কারো নির্দেশ মানতে বাধ্য নয়। কিন্তু তাকে (অধ্যাদেশ) এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ছাত্রলীগ মিলে তা কলঙ্কিত করেছে।’

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.