ট্রাফিক আইন মেনে চলুন

রাজধানীসহ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়মিত একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দেখে মনে হবে এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি এবং অনিরাময়যোগ্য। কিন্তু প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে সচেতন হলে শতভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব না হলেও এটি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়। কারণ দুর্ঘটনা ঘটবেই। কারণ শব্দটিই যে দুর্ঘটনা। বিশ্বের সব দেশেই কম বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তা এমন নিয়ন্ত্রণহীন নয়। আমাদের দেশে মাত্রাতিরিক্ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার অনেক দৃশ্যমান কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ জনগণের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাও অন্যতম। গণপরিবহনের মালিক, চালক এবং তার সহযোগীরা অবশ্যই দায়ী। তবে ব্যক্তির অসচেতনতা বা স্বেচ্ছাচারী আচরণও কম দায়ী নয়। যে কারণে সবাইকেই একটি শৃঙ্খলিত নিয়মের আওতায় থাকা জরুরি। এতে পথে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। দুর্ঘটনার হার কমে আসবে। তবে এর জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টাও থাকতে হবে। ঢাকা মহানগরের রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে ডিএমপি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের পক্ষ থেকে প্রধান সড়কগুলোতে লেগুনা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো ধরনের যানবাহন চলতে না দেয়ার সিদ্ধান্তসহ রাজধানীতে মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় হেলমেট না থাকলে তিনি কোনো পাম্প থেকে তেল কিনতে পারবেন না-এমন হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক মানবকণ্ঠে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করি।
চলতি বছরের ২৯ জুলাই রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দু’জন শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহতের ঘটনায় সারাদেশ সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ফুঁসে ওঠে। সহপাঠীর মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এলে একে একে সারাদেশের সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমে আসে এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এতে সমর্থন দেয়। শিক্ষার্থীদের উই নিড জাস্টিস আন্দোলনে সড়কে সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ পথ হেঁটে পাড়ি দিয়েও কর্মব্যস্ত জনগণ এর স্থায়ী প্রতিকারের প্রত্যাশায় তা হাসিমুখে মেনে নিয়েছে। অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, দেশব্যাপী সড়কজুড়ে কী ভীষণ অনিয়ম ও অরাজকতা বাসা বেঁধে আছে। পরবর্তীতে সরকারের দায়িত্বশীল মহল শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ নিলে এবং অন্যগুলোও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করে। ফলে আবার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে রাজধানীর রাস্তা। কিন্তু বিস্ময়কর হলো, যে বা যারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় সেøাগানে অংশ নিলেন তাদের অনেকেই সড়কে নিয়ম পালন করছেন না। ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও রাস্তা দিয়ে পার হওয়া, ডিভাইডারের ভাঙা অংশ দিয়ে যান পার করা, চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে হাত তুলে পার হওয়া, মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার না করার মতো বহু ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করতে দেখা গেছে। ট্রাফিক সপ্তাহে নগরব্যাপী ৫ কোটি টাকার ওপরে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ৮৮ হাজারের বেশি যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছেÑএই পরিসংখ্যানই বলে অধিকাংশই নিয়ম মানেন না।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রত্যেককে ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য থাকতে হবে। কারণ সড়কে যে সব দুর্ঘটনা ঘটে এর সবই যান চালক বা তার সহযোগীর স্বেচ্ছাচারিতার জন্য ঘটে তা নয়, সাধারণ জনগণের মধ্যেও সচেতনতার যথেষ্ট অভাব ও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা রয়েছে। সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়কে হতাহতের ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করি।