টাকা ছাড়া মিলছে না প্রশংসাপত্র

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর জামেয়া শরাফাতিয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসায় দাখিল পাস শিক্ষার্থীরা টাকা ছাড়া পাচ্ছে না প্রশংসাপত্র। এতে শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে ৫শ’ টাকা। অপরদিকে স্থানীয় সংবাদকর্মী ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গেলে তাকে হুমকি দেন প্রতিষ্ঠানের সদস্য মানছুরুল হক বাবর ও অধ্যক্ষ রুহুল আমিন।
বিভিন্ন অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শরাফাতিয়া মাদরাসা থেকে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চায়। এক্ষেত্রে পূর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশংসাপত্রের প্রয়োজন হয়। এ জন্য শরাফাতিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মাদরাসার প্রশংসাপত্রের জন্য গেলে তাদের কাছ থেকে দাবি করা হয় অর্থ। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের টাকা ছাড়া প্রশংসাপত্র দেয়া হবে না বলে জানায় অধ্যক্ষ রুহুল আমিন। এ বিষয়ে বার্তা বাজার পত্রিকার নোয়াখালী প্রতিনিধি মো. ওয়ালিদ সাকিব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খতিয়ে দেখতে গেলে তার সঙ্গে অসৌভন আচরণ করা হয়। এ সময় গভর্নিং বড়ির সদস্য মানছুরুল হক বাবরসহ প্রতিষ্ঠান প্রধান তাকে বিভিন্ন রকম হুমকি প্রদান করে।
ওই মাদরাসা দাখিল পাস পরীক্ষার্থী আরাফাত হোসেন তারেকের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, গত শনিবার সকালে মাদরাসায় ছোট ভাইয়ের প্রশংসাপত্র তুলেতে গেলে প্রতিষ্ঠান প্রধান ৫শ’ টাকা দাবি করে। এ সময় সংবাদকর্মী সাকিব প্রধানকে প্রশ্ন করলে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও গভর্নিং বডির সদস্য বাবর তাকে হুমকি প্রদান করে।
মাদরাসা গভর্নিং বডির সদস্য মানছুরুল হক বাবরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। মাদরাসার অধ্যক্ষ রুহুল আমিন টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে আমরা ২শ’ টাকা করে নিচ্ছি। থানায় মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাকিব নামে একজন আমার থেকে প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র জোরপূর্বক চাইতে যায়। এ বিষয়ে আমি সবার পরামর্শ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে জিডি করি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামিরুল ইসলাম জানান, প্রশংসাপত্র প্রদানে অর্থ আদায় করা যাবে না। আইন লঙ্ঘন করে অর্থ আদায় করলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ মো. কামাল পারভেজ জানান, প্রশংসাপত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা নেয়ার কোনো নিয়ম নেই। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এমন কাজে লিপ্ত হয়, তবে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।