জয় পেতে চায় দুই বড় দলই

বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৪ আসন গঠিত। ভৌগলিক সীমারেখায় এ আসনের অন্তর্ভুক্ত ১টি পৌরসভাসহ ২০টি ইউনিয়ন। সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর ও প্রমত্তা কচানদী বিধৌত এ জনপদের অধিকাংশ মানুষ ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ইতোপূর্বে এ জনপদের মানুষ রাজনৈতিকভাবেও রাষ্ট্রীয় অনেক গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণের এ জনপদে বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশ বরেণ্য বেশ ক’জন রাজনৈতিক ব্যক্তির পদচারণায় মুখরিত এই আসন। তাই জেলার অন্য তিনটি আসনের থেকে এখানকার দলীয় নেতাকর্মীরা অনেকটা আগেভাগেই রাজনৈতিক মাঠ নিজেদের অনুকূলে রাখতে নানা আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বাগেরহাটের এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান এমপি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মো. জামিল হোসাইন।

বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

অপরদিকে রাজনৈতিকভাবে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর মাঠ পর্যায়ে কোনো তৎপরতা না থাকলেও নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে দলের নেতাদের। মাঠপর্যায়ে নিজস্ব কৌশলে তারা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকেন। আগামী নির্বাচনে জামায়াতের প্রাথী তালিকায় এ আসনে অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে রাখা হয়েছে। বিএপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরীক হওয়ায় জামায়াত ইসলামী এ আসনে জোটের মনোনয়ন দাবিদার। এ ছাড়া এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে আছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সোমনাথ দে।

বর্তমান এমপি ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এ এলাকায় আগে ৮ জন এমপি হয়েছিলেন কিন্তু এলাকার উন্নয়নে একটি রাস্তাও তারা তৈরি করেননি। মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় আঞ্চলিক মহাসড়কসহ এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে আমার নেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে আমি করতে সক্ষম হয়েছি। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নেত্রীর প্রচেষ্টায় চালু করেছিলাম। যার সুফল এখনো সবাই পাচ্ছে।

মোরেলগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়ন ভেঙে নতুন সেলিমাবাদ থানা, পানগুছি নদীর ওপর সৌদি সরকারের অর্থায়নে ব্রিজ, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সিডর বিধ্বস্ত শরণখোলায় চলমান টেকসই ভেড়িবাঁধ, বেকার ভাতাসহ সুন্দরবন সংলগ্ন বগী এলাকায় ৯০ একর জমি নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নেত্রীর ইচ্ছায় অন্তত আরেকবার এমপি হিসেবে এই অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই।

এ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছি। তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজস্ব চিন্তা ভাবনা রয়েছে। দলীয় নমিনেশন পেয়ে নির্বাচিত হলে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে কাজ করব।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, সিডর পরবর্তী সময়ে মাতৃভাষা কলেজে সাইক্লোন শেল্টার, মসজিদ, বিদ্যালয়সহ অসংখ্য স্কুল কলেজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সব কর্মসূচিতে দলীয় নেতাদের সঙ্গে কাজ করছি। ১৯৯১ সাল থেকে মাঠ পর্যায়ে দলের কর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমার নামে ১৪টি মামলা হয়েছিল। এখনো আমার নামে ঠাকুরগাঁও, বাগেরহাট ও ঢাকায় ৮টি মামলা চলমান রয়েছে। মামলা সংক্রান্ত কারণে সম্প্রতি এলাকায় যেতে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তারপরও দলের নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করছি।

বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী খায়রুজ্জামান বলেন, ছাত্রদল থেকে ধাপে ধাপে আজ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হয়েছি, এটা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে হয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের পর মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় মাঠপর্যায়ে একমাত্র নেতা হিসেবে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। সুখে-দুঃখে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে তাদের সহযোগিতাসহ এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে জনসেবা করছি। তাই আগামী নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমি শতভাগ আশাবাদী।

মানবকণ্ঠ/আরএ

One Response to "জয় পেতে চায় দুই বড় দলই"

  1. প্রনব মিস্ত্রী   15/11/2017 at 12:15 AM

    বাগেরহাট -৪ হলো বাংলাদেশ এর অন্যতম অবহেলিত একটা নির্বাচনী আসন। হ্যা এই কথা সত্যি যে এই আসনে বিগত দিন গুলোতে কিছু উন্নয়ন হয়েছে, তবে সার্বিক বিবেচনায় সেটা খুব বেশি কিছু নয়। তবে বদিউজ্জামান সোহাগের প্রচেষ্টায় অনেকটা আলোর মুখ দেখছে বাগেরহাট -৪।

    আশাকরি আগামি নির্বাচনে অন্তত বিগত দিনের বিতর্কিত কাউকে মনোনীত দেখব না।