জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশের পথে

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন হলেও বিশ্বকে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তর করার কাজটি এখন বিশ্ববাসীর স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণে বিশ্বজুড়ে দেশগুলো অবলম্বন করছে নানা কৌশল। আমাদেরও কোনো না কোনোভাবে সেসব কৌশলের কথা ভাবতে হচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকেই আমি এসব কৌশলের কথা সরাসরি লিখে আসছি। একেবারে স্পষ্ট করে বললে, ২০০৭ সালের এপ্রিল সংখ্যা কম্পিউটার জগতে এ বিষয়ে আমার একটি কর্মসূচিও ছাপা হয়েছিল। এরপর আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ সেøাগান দিয়েছি। ৬ ডিসেম্বর ২০০৮ আওয়ামী লীগের ইশতেহারে আমি ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা লিখি এবং ১১ ডিসেম্বর ২০০৮ আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভায় সেটি অনুমোদিত হওয়ার পর ১২ ডিসেম্বর ২০০৮ সেটি জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করেন। ১১ ডিসেম্বর ২০০৮ আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি এসোসিওর হংকং সভায় উপস্থাপন করি। যে দল এই স্লোগান দিয়েছিল তারা ৮ বছরের বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করে যাচ্ছে। এরই মাঝে ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। ২০১৫ সালে ২০০৯ সালের তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা নবায়ন হয়েছে। সেই নীতিমালাটিই এবার ’১৭ সালে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। একটি কর্মশালা করার পর নীতিমালার খসড়া তৈরি করার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ’১৫ সালের নীতিমালায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের কথা বলা না থাকলেও ’১৭ সালের নীতিমালায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বা অর্থনীতির কথা উহ্য রাখা যাবে না বরং ’১৭ সালের নীতিমালাটি ২০৪১ সালের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার কৌশল হিসেবে প্রাথমিকভাবে গণ্য হতে পারে। অবশ্য আমি পুরো বিষয়টিকেই ভিন্ন প্রেক্ষিতে দেখি। এ জন্য নিদেনপক্ষে একটি ধারণা পাওয়ার জন্য খুব সংক্ষিপ্তভাবে আমাদের কৌশলগুলোর কথা আলোচনা করতে পারি। আমাদের নীতি-নির্ধারকরা যদি এগুলো বিবেচনা করেন তবে আমরা সফল হব দেশটির ডিজিটাল রূপান্তরে এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে বলে আমি মনে করি।

আমি মনে করি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন হবে দেশটির ডিজিটাল রূপান্তর। সেজন্য আমাদের কৌশল হলো চারটি। এই কৌশলগুলো হলো ১. শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, ২. সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর ৩. অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তর ৪. একটি ডিজিটাল জীবনধারা গড়ে তোলা ও বাংলাদেশকে জন্মের প্রতিজ্ঞায় গড়ে তোলাবিষয়ক।

১: ডিজিটাল শিক্ষা ২: ডিজিটাল সরকার ৩: ডিজিটাল অর্থনীতি ও ৪.ডিজিটাল জীবনধারা ও জন্মের ঠিকানায় রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা প্রথম কৌশলটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজের উপযোগী মানব সম্পদ সৃষ্টি নিয়ে। আমরা এ জন্য শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। দ্বিতীয় কৌশলটি সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর বা একটি ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠাবিষয়ক। তৃতীয় কৌশলটি মূলত অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তর। শিল্প-কল-কারখানা-ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির সব ধারার ডিজিটাল রূপান্তর এর প্রধান উদ্দেশ্য। সামগ্রিকভাবে এই কৌশলের উদ্দেশ্য একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্র্থনীতিও গড়ে তোলা। চতুর্থ কৌশলটি হলো তিনটি কৌশলের সম্মিলিত রূপ বা একটি ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন পূরণ। একই সঙ্গে একটি ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িক চেতনার বিপরীতে একটি আধুনিক ভাষাভিত্তিক জাতি রাষ্ট্র গড়ে তোলার স্বপ্ন।

কৌশল ১: ডিজিটাল শিক্ষা ॥ শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: বাংলাদেশের মতো একটি অতি জনবহুল দেশের জন্য দেশটির ডিজিটাল রূপান্তর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রধানতম কৌশল হতে হবে এর মানবসম্পদকে সবার আগে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বা ডিজিটাল যুগের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর করা। এদেশের মানবসম্পদের চরিত্র হচ্ছে, জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ ভাগই পঁয়ত্রিশের নিচের বয়সী। শতকরা ৪৯ ভাগের বয়স ২৫ বছরের নিচে। ২০১৫ সালের শুরুতে শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যাই ছিল প্রায় ৪ কোটি। ’১৭ সালে এই সংখ্যা আরো বেড়েছে। ঘটনাচক্রে ওরা এখন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ করে শিল্পযুগের প্রথম স্তরের দক্ষতা অর্জনে নিয়োজিত। ওরা দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের শিল্পায়নের কোনো খবরও জানে না। অন্যদের সিংহভাগ প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণে সক্ষম। অন্যদিকে বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক নারী, যাদের বড় অংশটি ঘরকন্না ও কৃষিকাজে যুক্ত থাকলেও একটি স্বল্পশিক্ষিত নারী সমাজ পোশাক শিল্পে স্বল্পদক্ষ জনগোষ্ঠীতে লিপ্ত হয়ে গেছে। সামনের দিনে এই প্রবণতাটি থাকবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস ও রোবোটিক্স এই অবস্থার পরিবর্তন করবে। পোশাক শিল্পে একদিকে স্বল্প দক্ষ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ কমবে, অন্যদিকে দক্ষ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এই খাতটিতে এই ধরনের আরো অনেক দক্ষ নারীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা থাকায় এদের আরো দক্ষ করে গড়ে তোলা যায়। এ জন্য এই খাতে যথাযথ উচ্চ দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নারী সমাজের জন্য প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা যথাযথ নয়। এদের ডিজিটাল যুগের শিক্ষা দিতে হবে। সুখের বিষয় যে, ডিজিটাল যুগে নারীদের কর্মক্ষেত্র এত ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে যে, তাদের আর পশ্চাৎপদ বলে গণ্য করার মতো অবস্থা বিরাজ করছে না।

মানবসম্পদ সৃষ্টির প্রধান ধারাটি তাই নতুন রূপে গড়ে উঠতে হবে। প্রচলিত ধারার শিক্ষায় নিয়োজিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জ্ঞানকর্মী বানাতে হলে প্রথমে প্রচলিত শিক্ষার ধারাকে বদলাতে হবে। এ জন্য আমরা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃষি শ্রমিক বা শিল্প শ্রমিক গড়ে তোলার কারখানা থেকে জ্ঞানকর্মী তৈরি করার কারখানায় পরিবর্তন করতে পারি। আমাদের নিজের দেশে বা বাইরের দুনিয়াতে কায়িক শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক ও শিল্প শ্রমিক হিসেবে যাদের কাজে লাগানো যাবে তার বাইরের পুরো জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম ডিজিটাল কাজে সুদক্ষ তথা জ্ঞানকর্মীতে রূপান্তর করতে হবে। বস্তুত প্রচলিত ধারার শ্রমশক্তি গড়ে তোলার বাড়তি কোনো প্রয়োজনীয়তা হয়তো আমাদের থাকবে না। কারণ যে তিরিশোর্ধ জনগোষ্ঠী রয়েছে, বা যারা ইতোমধ্যেই প্রচলিত ধারার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েছে এবং আরো বহু বছর পেতে থাকবে তাদের প্রচলিত কাজ করার দক্ষতা থাকছে এবং তারাই এই খাতের চাহিদা মিটিয়ে ফেলতে পারবে। কিন্তু এই জনগোষ্ঠী এখনই বেকারত্বের যন্ত্রণায় ভুগছে। ফলে নতুন প্রজন্মকে ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার সহায়তায় জ্ঞানকর্মী বানানোর কাজটাই আমাদের সর্বাগ্রে করতে হবে। এর হিসাবটি একেবারেই সহজ। বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবিলম্বে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলন করতে হবে। এটি বস্তুত একটি রূপান্তর। প্রচলিত দালানকোঠা, চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চি বহাল রাখলেও এর শিক্ষকের যোগ্যতা, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার বিষয়বস্তু পরিবর্তন করতে হবে।

আমি ছয়টি ধারায় এই রূপান্তরের মোদ্দা কথাটা বলতে চাই।

ক. প্রথমত প্রোগ্রামিংসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি শিশুশ্রেণী থেকে বাধ্যতামূলকভাবে পাঠ্য করতে হবে। প্রাথমিক স্তরে ৫০ নাম্বার হলেও মাধ্যমিক স্তরে ১০০ ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিষয়টির মান হতে হবে ২০০। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ইংরেজি-বাংলা-আরবি মাধ্যম নির্বিশেষে সবার জন্য এটি অবশ্য পাঠ্য হতে হবে। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিষয়টিকে অপশনাল নয়, বাধ্যতামূলক করতে হবে। এ জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ খাতের অবস্থাটি নাজুক। স্কুল ও কলেজ স্তরে শতকরা ৪০ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নেই। এমনকি যারা শিক্ষকতা করছেন তারা এমপিওভুক্ত নন।
খ. দ্বিতীয়ত প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি ২০ জন ছাত্রের জন্য একটি করে কম্পিউটার/ উইন্ডোজ ট্যাব হিসেবে কম্পিউটার ল্যাব গড়ে তুলতে হবে। এই কম্পিউটারগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করতে শেখাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে নিজেরা এমন যন্ত্রের স্বত্বাধিকারী হতে পারে রাষ্ট্রকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষায় ইন্টারনেট ব্যবহারকে শিক্ষার্থী-শিক্ষক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়ত্তের মাঝে আনতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিতে হবে। দেশজুড়ে বিনামূল্যের ওয়াই-ফাই জোন গড়ে তুললে শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহারকে সম্প্রসারিত করবে। ইন্টারনেটকে শিক্ষার সম্প্রসারণের বাহক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে হবে এবং ইন্টারনেটেকে সাশ্রয়ী করতে হবে।

গ. তৃতীয়ত প্রতিটি ক্লাসরুমকে ডিজিটাল ক্লাসরুম বানাতে হবে। প্রচলিত চক, ডাস্টার, খাতা-কলম-বইকে কম্পিউটার, ট্যাবলেট পিসি, স্মার্টফোন, বড় পর্দার মনিটর/টিভি বা প্রজেক্টর দিয়ে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে। প্রচলিত স্কুলের অবকাঠামোকে ডিজিটাল ক্লাসরুমের উপযুক্ত করে তৈরি করতে হবে।

ঘ. চতুর্থত সব পাঠ্যবিষয়কে ডিজিটাল যুগের জ্ঞানকর্মী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উপযোগী পাঠক্রম ও বিষয় নির্ধারণ করে সেসব কনটেন্টকে ডিজিটাল কনটেন্টে পরিণত করতে হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি বা মূল্যায়নকেও ডিজিটাল করতে হবে। অবশ্যই বিদ্যমান পাঠক্রম হুবহু অনুসরণ করা যাবে না এবং ডিজিটাল ক্লাসরুমে কাগজের বই দিয়ে শিক্ষা দান করা যাবে না। কনটেন্ট যদি ডিজিটাল না হয় তবে ডিজিটাল ক্লাসরুম অচল হয়ে যাবে। এসব কনটেন্টকে মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারঅ্যাকটিভ হতে হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ডিজিটাল যুগের বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের উপযোগী বিষয়বস্তু শিক্ষা দেয়া। আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যত এমন সব বিষয়ে পাঠদান করা হয় যা কৃষি বা শিল্পযুগের উপযোগী। ডিজিটাল যুগের বিষয়গুলো আমাদের দেশে পড়ানোই হয় না। সে সব বিষয় বাছাই করে তার জন্য পাঠক্রম তৈরি করতে হবে।

ঙ. পঞ্চমত: সব শিক্ষককে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সব আয়োজন বিফলে যাবে যদি শিক্ষকরা ডিজিটাল কনটেন্ট, ডিজিটাল ক্লাসরুম ব্যবহার করতে না পারেন বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করতে না জানেন। তারা নিজেরা যাতে কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন তারও প্রশিক্ষণ তাদের দিতে হবে। কিন্তু শিক্ষকরা কোনো অবস্থাতেই পেশাদারি কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন না। ফলে পেশাদারি কনটেন্টস তৈরির একটি চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। প্রস্তাবিত ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল শিক্ষার গবেষণা ও প্রয়োগে নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী করে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্রমান্বয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে।

চ. ষষ্ঠত; তিরিশের নিচের সব মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বজুড়ে যে কাজের বাজার আছে সেই বাজার অনুপাতে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের যেসব মানবসম্পদবিষয়ক প্রকল্প রয়েছে তাকে কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে হবে। দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ জন্য সরকার স্থাপিত ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রগুলোও ব্যবহৃত হতে পারে। আমি বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের এলআইসিটি প্রকল্প, বেসিসের প্রশিক্ষণ প্রকল্পসহ, আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও অন্যান্য মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রকল্পগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য অনুরোধ করছি। এখনো প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের ধারা বাস্তবমুখীও সঠিক নয়। (চলবে)
ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০১৭
লেখক তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট
ই-মেইল: mustafajabbar@gmail.com

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.