জোট নিয়ে চিন্তা বড় দু’দলেই

জোট নিয়ে চিন্তা বড় দু’দলেই

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে দলীয় মনোনয়ন নিতে দৌড়ঝাঁপ করছেন সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কিন্তু এখনো কেউ ঠিক করতে পারেননি তাদের দলীয় মনোনয়ন। ক্ষমতাসীন দলের অর্ধডজন নেতা রয়েছেন যারা নিজেদের নৌকার প্রার্থী হিসেবে চমক দেখাতে চায়। তবে জনমত যাচাই করেই মনোনয়ন দেবে কেন্দ্রীয় সংগঠন। কেন্দ্রীয় নেতাদের এমনটাই বাতাস বইছে বিভিন্ন মিডিয়াতে। একইভাবে বিএনপিরও রয়েছে সমান তাল। এখনো সম্ভাব্য নিয়েই অবস্থার অবলোকন করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। রয়েছে পক্ষ-বিপক্ষ ও দলীয় কোন্দল। কেন্দ্রীয় আভাস না পেলেও সাবেক এমপিসহ প্রার্থী আছেন অনেকে। এদিকে ভালো অবস্থানে রয়েছেন পুনরায় জোটের প্রার্থী হিসেবে বেশ আশাবাদী তরিকত ফেডারেশনের নেতা বর্তমান এমপি লায়ন এমএ আউয়াল। অন্যদিকে ২০ দলীয় জোটগত সুযোগ না পেলে একাকী মাঠে নামতে চায় জামায়াত ইসলামী। জোটের আশায় আছে এলডিপি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ও জাসদের প্রার্থী হিসেবে নিজেদের নাম ঘোষণা করেছেন কেউ কেউ। তবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলের মধ্যে রয়েছে টানাহেঁচড়া। কারণ দু’দলেরই জোটের গুরুত্বপূর্ণ দু’জন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। আগামী নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই বিভিন্ন কলা কৌশল প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে যে যার মতো করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

কেন্দ্রীয় ১৪ দলের অন্যতম নেতা ও তরীকত ফেডারেশনে নেতা বর্তমান এমপি লায়ন এমএ আউয়াল আসনটি পুনরায় দখলে রাখতে চান। লায়ন এমএ আউয়াল বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও জঙ্গিবাদমুক্ত আধুনিক রামগঞ্জ গঠনে আমি অনেক কাজ করেছি এবং আমার এ কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি রাস্তা-ঘাট, পুল, কালভার্ট নির্মাণ। প্রতিটি গ্রামের বিদ্যুতায়নসহ প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। যার সুফল রামগঞ্জবাসী ইতিমধ্যে পাচ্ছেস। তিনি বলেন, আমার সময়ে রামগঞ্জে অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, চুরি-ডাকাতিসহ সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রামগঞ্জের উন্নয়নের জন্য যা যা প্রয়োজন আমি তাই করার চেষ্টা করেছি। দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতি আমার ভালাবাসা আছে, এবং আমার প্রতিও সবার ভালোবাসা রয়েছে। আগামীতে জননেত্রী শেখ হাসিনা জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবেন বলে আশাবাদী তিনি।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে মাঠে নেমেছেন বিগত সময়ে ৪ বারের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান। সর্বদা সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে মাঠে রয়েছেন।

তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে জেলাব্যাপী ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন করেছেন। সবসময় সুবিধা বঞ্চিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। দলের দুঃসময়েও তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মসজিদ-মাদরাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে আসছেন। আওয়ামী রাজনীতি করতে গিয়ে নির্যাতিত-নিপীড়িত ও অসহায় নেতাকর্মীদের আর্থিক অনুদানসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করে যাচ্ছেন তিনি।

ইতিমধ্যে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে লক্ষ্মীপুরের প্রাণকেন্দ্র উত্তর তেহমুনী ট্রফিক চত্ব¡রে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

আলহাজ মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দেশ উন্নয়নের পথে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে জননেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে নৌকার বিকল্প নেই। সুতরাং নেত্রী যদি আমাকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেন বিপুল ভোটে নৌকা প্রতীকের বিজয় এনে আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শিল্পপতি সফিকুল ইসলাম বিভিন্ন সময় দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। একসময়ে তার নেতৃত্বে রামগঞ্জ আওয়ামী লীগ সুশৃঙ্খল ছিল। দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পাশপাশি জনবান্ধব ছিলেন তিনি। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের দুর্দিনে আমি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, দলের হাল ধরেছি, দলকে সুসংগঠিত করেছি। দলীয় হাইকমান্ড শুধু ব্যক্তি ইমেজ চায় না। জনগণের পাশে সেই নেতা আছে কিনা তাও পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে দান অনুদানের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন খান। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক ও দলীয়ভাবে অনুদান করে যাচ্ছেন তিনি। মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেখ হাসিনার নৌকার ভোট চেয়ে যাচ্ছেন গ্রামগঞ্জে। অর্থনৈতিক চাকা শক্তিশালী হওয়ায় নেতাকর্মীদেরও পাশে আছেন তিনি।

রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, বিগত সময়ে এখানে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে সারাদেশের ন্যায় রামগঞ্জে প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। আগামীতে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জননেত্রী আমাকে যদি দল থেকে মনোনয়ন দেন, তাহলে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করে এ আসন জননেত্রীকে উপহার দেব।

আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্নভাবে গণসংযোগের পাশাপাশি সাংগঠনিক সব সভা সমাবেশে উপস্থিত থাকেন তরুণ ও উদীয়মান সংগঠক সাবেক ছাত্র নেতা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক মমিন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে ২৯ বছর দলের দুর্দিন এবং সুদিনে জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন পরীক্ষিত কর্মী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে শেখ হাসিনার নির্দেশে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে যাচ্ছি।

এ ছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে নৌকার দাওয়াত দিচ্ছেন রামগঞ্জ পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী। আওয়ামী সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে নৌকা মার্কায় ভোট চাচ্ছেন তিনি। আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, রামগঞ্জ পৌর মেয়র নির্বাচনের পর প্রতিটি উন্নয়নের ছোঁয়ায় আমার হাত রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাংগঠনিক সব কর্মকাণ্ডে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে একজন প্রত্যাশী।

এদিকে আসনটিতে বিগত সময়ে বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত জিয়াউল হক জিয়া, পরবর্তী সময়ে নাজিম উদ্দিন এমপি ছিলেন। আগামী নির্বাচনে তিনি পুনরায় প্রার্থী। বিভিন্ন সময় এলাকায় এসে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশপাশি দান-অনুদানও অব্যাহত রয়েছে তার।

তিনি বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করেছি এবং নিজ এলাকা রামগঞ্জের জনগণের সঙ্গে সবসময় আছি এবং থাকব। যেহেতু রামগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি, ধানের শীষের ঘাঁটি সেহেতু আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে ধানের শীষের বিজয় হবে। দেশনেত্রী বেগম জিয়া আমাকে মনোনয়ন দেবেন এই প্রত্যাশা করছি।

তবে জোটগত কারণে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম। বরাবরই মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে জোটগত কারণে আমাদের এ আসনটি ছেড়ে দেবে। তিনি মনে করেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে এ আসনটি ২০ দলীয় জোট বিজয় লাভ করবে। ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে সর্বমহলে আলোচিত। এলাকায় নম্র-ভদ্র হিসেবে তার যথেষ্ট ইমেজ রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোসহ দলের শৃঙ্খলার জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইলিয়াছ আলীও বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

অন্যদিকে ২০ দলীয় জোট আসনটি ছেড়ে না দিলে একাকী মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত ইসলামী। প্রকাশ্যে সভা সমাবেশ করতে না পারলেও ভেতরগতভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম মুকুল। তিনি বলেন, দল আমাকে কাজ করতে বলেছে, তারই ধারাবাহিকতায় মাঠে ঘাটে জনগণের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। জোটগতভাবে মনোনয়ন চাইব। যদি না হয় তাহলে একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেব।

মানবকণ্ঠ/এসএস