জিরো থেকে হিরো হওয়া ১৬ বলিউড তারকা

বলিউড আর ক্রিকেট। এ দুটি বিষয় ভারতবর্ষের জন্য বিশেষ কিছু। সার্বক্ষণিক এ দুটি বিষয়েই মেতে থাকতে দেখা যায় তাদের। যদিও বলিউড আর ক্রিকেটের প্রতি তাদের অফুরন্ত ভালোবাসার বৈজ্ঞানিক কোনো কারণ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে বলিউড তারকাদের তো মাথায় তুলেই নাচে ভারতীয়রা। বলিউডে আজ তারকার অভাব নেই। কিন্তু এমনও কিছু সুপারস্টার আছেন যাদের শুরুটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। বলিউড অভিষেক হওয়ার আগে নানান ঝড়-তুফান সহ্য করতে হয়েছে। এক কথায় কষ্ট করেই কেষ্ট অর্জন করেছেন তারা। আর তেম কিছু জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া তারকার কথা মানবকণ্ঠ পাঠকদের নীচে দেয়া হলো।

১. অমিতাভ বচ্চন:
শিশু থেকে বুড়ো- কে না চেনে বচ্চন পরিবারের এই প্রধানকে? বলিউডের এই মেগাস্টারকে এক নজর দেখার জন্য তার বাড়ির সামনে প্রতিদিন অপেক্ষা করে থাকে হাজার হাজার মানুষ। তবে এ সবই এখনকার কথা। প্রথম জীবনে অমিতাভ বচ্চনকে যেতে হয়েছিল বেশ কষ্টকর সময়ের মধ্য দিয়ে। এমন একটা সময় ছিল যখন তার কোন থাকার জায়গা ছিল না। নিঃস্ব অবস্থায় দিনের পর দিন মেরিন ড্রাইভের বেঞ্চেই তখন রাত কাটাতেন এলাহবাদ থেকে আগত এই তারকা। ক্যারিয়ারের প্রথমে অতিরিক্ত উচ্চতা ও কন্ঠস্বরের জন্যেও তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন অনেকে। যদিও বচ্চনের বেশিরভাগ ভাক্তই তাকে ভালোবাসে তার উচ্চতা আর কন্ঠস্বরের জন্য।

২. শাহরুখ খান:
বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত বলিউডের এই কিং খান ২৫ বছর আগে ছিলেন দিল্লীর একজন অতি সাধারন যুবক। অভিনয়ের নেশায় গনসংযোগের ওপর করতে থাকা স্নাতোকোত্তর ডিগ্রীর মায়া ছেড়ে মাত্র ১৫০০ টাকা হাতেই রাস্তায় নামেন তিনি। ছেড়ে আসেন মুম্বাই। ফৌজি নামক সিরিয়ালে কাজ কর প্রথমে অভিনয় জগতে নাম লেখান শাহরুখ। আর তারপরেই তিনি মনযোগ কাড়েন যশ চোপড়ার। ডর ছবির মাধ্যমে যশ চোপড়ার হাত ধরে ছবির জগতে আসেন তিনি। আর এখন সেই ১৫০০ টাকা পকেটে নিয়ে ঘুরতে থাকা ছেলেটাই এখন বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী তারকা।

৩. রণবীর কাপুর:
সেই ১৯৯৬ সালে বলিউডে অভিষেক। না, অভিনয় দিয়ে নয়, ‘প্রেম গ্রন্থ’ ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন রণবীর। পরে ১৯৯৯ সালে বাবা ঋষি কাপুরকে ‘আ আব লউট চলে’ ছবিতে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। পরের কাজ সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গে ২০০৫ সালে। ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে বানসালিকে অ্যাসিস্ট করার সময়েই নজরে পড়ে যান তিনি। পরে ‘সাওয়ারিয়া’ ছবিতে তাকে কাস্ট করেন বানসালি।

৪. শহীদ কাপুর:
তাল ও দিল তো পাগল হ্যায় ছবির ব্যকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবে প্রথম বলিউডে কাজ করেন শহীদ। আর সেখানেই তিনি নজরে পড়েন পরিচালক রমেশ তাউরানির। আর তার ছবি ইশক ভিশকেই প্রথম অভিনেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন শহীদ কাপুর। মাঝখানে নিজের ক্যারিয়ারে খানিকটা ভাঁটা নামলেও সোনাক্ষী সিনহার সাথে জুটি বেঁধে বর্তমানে আবার নিজের আগের ফর্মে ফিরে এসেছেন এই তারকা।

৫. ঋত্বিক রোশন:
‘কাহো না প্রেয়ার হ্যায়’ ছবি দিয়ে বলিউডে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন হৃতিক। তারপরের কয়েকটি ছবি সেভাবে দাগ না কাটলেও জনপ্রিয়তার নিরিখে বরাবরই প্রথম সারিতেই রয়েছেন হৃতিক। তবে অভিনয়ে আসার আগে সেটে বাবা রাকেশ রোশনের সহকারী ছিলেন তিনি। সহকারী হিসেবেই শুরু করেছিলেন পেশা। পরে, অভিনয়ের প্রেমে পড়ে যান।

৬. ইমরান হাশমি:
‘ফুটপাথ’ দিয়ে শুরু করলেও বক্স-অফিসে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন ইমরান হাশমি। তবে শুরুতেই অভিনয় দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেননি এ তারকাও। ফিল্মের সেটে বিক্রম ভাটের সহকারী ছিলেন তিনি। তার পেশাদারিত্ব দেখেই ফিল্মে ইমরানকে কাস্ট করার কথা ভাবেন বিক্রম।

৭. বরুণ ধাওয়ান:
বলিউডে পা দিয়েই দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন বরুন। অভিষেক ছবি ‘স্টুডেন্ট অব দ্যা ইয়ার’-এ দুর্দান্ত অভিনয়ের পর নানা রকম চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিতে করন জোহরের সহকারী ছিলেন বরুণ। পরে করনই তাকে নিজের ছবি ‘স্টুডেন্ট অব দ্যা ইয়ার’-এ কাস্ট করেন।

৮. সিদ্ধার্থ মালহোত্রা:
সহকারী হিসেবে প্রথম কাজ শুরু করেছিলেন সিদ্ধার্থও। শোনা যায়, বরুণ ধাওয়ানের মতো ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিতে তিনিও নাকি করন জোহরের সহকারী ছিলেন। তার পেশাদারিত্ব দেখেই ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ ছবিতে তাকেও কাস্ট করেন করন।

৯. রণবীর সিংহ:
বলিউডের হার্টথ্রব তারকা রণবীর সিংহও ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সহকারী হিসেবে। যশরাজ ফিল্মসের ‘বান্টি অউর বাবলি’ ছবিতে শাদ আলির সহকারী ছিলেন এ অভিনেতা। পরে, যশরাজ ব্যানারের হাত ধরেই অভিনয়ে জগতে পা রাখেন রণবীর।

১০ রজনীকান্ত:
থালাইভারখ্যা রজনীকান্ত সবসময়ই তামিল আর বলিউড জগতের ভগবান হিসেবে ছিলেননা। একসময় এই অভিনেতাকেও অভাবের কারণে করতে হয়েছে কুলি এবং বাস কন্ডাক্টরের কাজ। তবে তার প্রথম ছবি অপূর্ব রাগাঞ্জালই তাকে এনে দেয় জাতীয় পুরষ্কার এবং বিখ্যাত অভিনেতার খ্যাতি। এরপর আর থামতে হয়নি থালাইভারকে।

১১. অর্জুন কাপুর:
‘শক্তি’, ‘কাল হো না হো’, ‘সালাম-এ-ইশক’ নানা ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন অর্জুন। ওজন বেশি হওয়ার কারণে কখনও হিরোর ভূমিকায় অভিনয় করবেন ভাবেননি। পরে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ‘ইসকজাদে’ সিনেমায় তার স্ক্রিন প্রেজেন্স দর্শকদের মন কাড়ে। তাই অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন অর্জুন।

১২. হর্ষবর্ধন কাপুর:
‘বম্বে ভেলভেট’ ছবিতে অনুরাগ ক্যাশপের সহকারী ছিলেন হর্ষবর্ধন। সহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়েই অভিনয়ে হাতেখড়ি। পরে রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরার ‘মিরজিয়া’ ছবি দিয়েই শুরু হয় অভিনয় জীবন।

১৩. সোনম কাপুর:
অভিনেত্রী হিসেবে সামনে আসার আগে ক্যামেরার পিছনে থাকতেই পছন্দ করতেন সোনম। কাজও শুরু করেছিলেন সহকারী হিসেবেই। সেটে সঞ্জয়লীলা বানসালির সহকারী ছিলেন এ নায়িকা। তার কাজে মুগ্ধ হয়ে ‘সাওয়ারিয়া’ ছবিতে সোনমকে কাস্ট করেন বানসালি।

১৪. সূরজ পাঞ্চোলি:
নিখিল আদবানীর ‘হিরো’ ছবি দিয়েই বলিউডে অভিষেক। পরে ‘হেট স্টোরি ৪’-এ নজর কেড়েছেন তিনি। তবে অভিনয় শুরুর আগে সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন এ নায়কও।

১৫. মিঠুন চক্রবর্তী:
বাঙালী বাবু মিঠুন চক্রবর্তীকে প্রথমটায় বেশ কষ্ট করতে হয়েছে বলিউডে। নির্মাতা হৃষিকেশ প্রথম মিঠুনকে সুযোগ দেন তার ছবির এক জুনিয়র আর্টিষ্ট হিসেবে। আর এরপরই মিঠুন অভিনয় করেন ডিস্তো ড্যান্সারে। জেতেন জাতীয় পুরষ্কার আর কেড়ে নেন সবার নজর। এরপর আর পেছনে ফিরতে হয়নি বলিউডের এই ডিস্কো ড্যান্সারকে।

১৬. অক্ষয় কুমার :
খিলাড়িখ্যাত এই তারকা প্রথম জীবনে কাজ করতেন ব্যাঙককের হোটেলের ওয়েটার হিসেবে। সেখানে থালা-বাসনও ধুতেন তিনি এবং রাতেও রান্নাঘরেই ঘুমোতেন। আর মাইনে পেতেন ১৫০০ টাকা। তবে শেষ অব্দি অক্ষয় বলিউডে পা রাখেন। তবে সেটা শুধুমাত্র টাকার কারনেই। তার আগের চাকরির চাইতে বলিউডে উপার্জন বেশী হয বলেই তিনি নিয়মিত হন বলিউডে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.