জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.২৮%, মাথাপিছু আয় ১৬১০ ডলার

গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ হয়েছে। একই সঙ্গে মাথাপিছু আয়ও বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৬১০ ডলার বলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির নির্বাহী পরিষদ-একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিবিএসের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ সব কথা জানান। একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় ৮ ডলার বেড়েছে। গত অর্থবছরে দেশবাসীর মাথাপিছু আয় ছিলো ১ হাজার ৬০২ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার ১৬০ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭ দশমিক ১০ শতাংশ সেটা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। এর ফলে জিডিপি’র আকার বেড়ে হয়েছে ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশ স্বাধীনের ৩৪ বছরে জিডিপির আকার ছিলো ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেটা বেড়ে এখন ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। মূলত জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির কারণেই মানুষের গড় মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তিনটা খাতের মধ্যে কৃষিখাতে ২ দশমিক ৯৭, শিল্পখাতে ১০ দশমিক ২২ ও সেবাখাতে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

আ হ ম মুস্তফা বলেন, এটা আমাদের নতুন ইতিহাস রেকর্ড পরিমোণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। আমাদের মাথাপিছু আয়ও বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে যাবে। আশা করছি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে থাকবে। তাহলেই আমরা ২০৪১ সালের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবো। বর্তমানে সারা বিশ্বে কম সময়ে মাত্র তিনটা দেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে অর্জন করল। বাকি দেশ দু’টি কম্বোডিয়া ও ইউথুপিয়া।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, অক্টোবরে সার্বিক গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। যা আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। চালের দাম কমা ও শীতকালীন শাকসবজির আগমনের’ কারণে কাঁচাবাজারে জিনিসের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে।

উল্লেখ্য, এপ্রিলে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬০২ ডলার ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাজেটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করে বিবিএস। বিবিএসের চূড়ান্ত হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। আর মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৪৬৫ ডলার।

মানবকণ্ঠ/জেএ/এসএস/এফএইচ