জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইস জালিয়াতির শঙ্কার মধ্যে আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণির বাণিজ্য অনুষদভুক্ত গ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। গতবছর ভর্তি পরীক্ষায় তিনটি অনুষদে অন্তত ৩০ জন ভর্তিচ্ছুকে ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে জালিয়াতি করার সময় আটক করা হয়। এ ছাড়া ঘ ইউনিটে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে।

এসব কারণে এবারো ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের আশ্বাস্ত করে বলছেন, জালিয়াতি প্রতিরোধে তাদের কঠোর অবস্থান থাকবে।

গতবছর ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। প্রথম পরীক্ষায় কোনো ভর্তি জালিয়াতি ধরা না পড়লেও ২২ সেপ্টেম্বর খ ইউনিটের পরীক্ষায় প্রক্সিদাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিভাগের ছাত্র রেজা মাহমুদসহ মোট পাঁচজন জালিয়াতিকে আটক করা হয়। ১৫ অক্টোবর বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ক ইউনিটের পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয় যাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। সর্বশেষ ২০ অক্টোবর সম্মিলিত অনুষদ ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইসসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়। ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপার শুরু হয় কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেগুলো অস্বীকার করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

জালিয়াতি প্রতিরোধের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী মানবকণ্ঠকে বলেন, বিগত সময়ে যারা এ ধরনের অপকর্ম করেছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, অনেককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আশা করি ছাত্র অভিভাবকরা পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করে তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলবে না। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভর্তি জালিয়াতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কঠোর।

গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ ক্যাম্পাসের বাইরের মোট ৫৪টি কেন্দ্রে বেলা ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেন্দ্রগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ। গ-ইউনিটে ১২৫০টি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ২৬,৯৬০ জন।

গ-ইউনিটের পরীক্ষায় জালিয়াতি প্রতিরোধসহ সার্বিক বিষয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, আমরা সমস্ত কেন্দ্রপ্রধানের সঙ্গে নিয়ে একটি মিটিং করেছি। সেখানে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। আমরা অলরেডি বডি চেক করার জন্য চারটি মেটাল ডিটেক্টর কিনেছি। বিভিন্ন কেন্দ্রে এই মেটাল ডিটেক্টটর ব্যবহার হবে।

প্রসঙ্গত, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনসহ টেলিযোগাযোগ করা যায় এরূপ কোনো ইলেকট্রনিকস ডিভাইস/যন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরীক্ষার সময় দায়িত্ব পালন করবে।

মেধাহীনরা যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পায়: এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ মেধাবীরাই যেন সুযোগ পায়। মেধাহীনদের একজনও যেন জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুযা) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি এ আহ্বান জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০১৮ উপলক্ষে সম্মিলিত শিক্ষার্থীর ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনে হয়। এতে সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র করে যেন কোনো অপশক্তি সুযোগ না নিতে পারে। কোনো ধরনের দুর্নীতির ঘটনা যেন না ঘটে।

সমাজের মধ্যে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারিবারিক সিদ্ধান্তের কারণে অনেকে অসৎ উপায় অবলম্বন করে। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাব আপনারা আপনাদের সন্তানদের মেধার ওপর নির্ভর করুন। আপনার সন্তান যদি মেধাবী হয়ে থাকে তাহলে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গর্বিত অংশীদার হতে পারবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ছাত্রলীগের কেউ প্রশ্নফাঁস কিংবা ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/এএএম