জামায়াত যে কোনো সময় চরিত্র পরিবর্তন করে: রেলমন্ত্রী

জামায়াত যে কোনো সময় চরিত্র পরিবর্তন করে: রেলমন্ত্রী

কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, জামায়াত নির্বাচন কমিশন থেকে একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবে প্রমাণিত হয়ে একটি নিষিদ্ধ দল হয়েছে। তাদের কোনো সঠিক চরিত্র নেই নীতি নেই। এরা নিজেদের স্বার্থে যে কোনো সময় চরিত্র পরিবর্তন করে ফেলে। অতিতে তাদের মার্কা তথা প্রতীক ছিলো দাঁড়িপাল্লা এবছর এরা তা পরিবর্তন করে ধানে শীষ নিয়ে মাঠে নেমেছে। এদের চরিত্র এমনই এরা ভোট নিয়েও এমন করে রূপ পাল্টাবে তাই তাদের বিষয়ে আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের ভোট দিয়ে চৌদ্দগ্রাম কে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করবেন নাকি তাদের বিতাড়িত করে চৌদ্দগ্রামকে একটি উন্নত চৌদ্দগ্রামে পরিণত করবেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী চৌদ্দগ্রামের গুনবতী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগকালে তিনি এ কথা বলেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক বলেন, যারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন যারা জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ হত্যা করেছে যারা মানুষের বিপদে এগিয়ে আসেনি, যারা গত ১০ বছর মানুষের সঙ্গে কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখেনি তাদের কি করাণে ভোট দিবেন? যারা চৌদ্দগ্রাম থেকে নির্বাচিত হয়ে চৌদ্দগ্রামের মানুষের সঙ্গে বেঈমানী করেছে তাদের চৌদ্দগ্রাম বাসী প্রত্যাখান করেছে।

মুজিবুল হক আরো বলেন, জামায়াতের নিজস্ব কোনো যোগ্যতা কিংবা অস্তিত্ব নেই যার কারণে বর্তমানে তারা বিএনপি কাঁধে ভর করে রাজনীতিতে নেমেছে। এরা একসময় চৌদ্দগ্রামবাসীকে ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট চাইতে আসতো তারা নির্বাচিত হয়ে যখন ধর্মের জন্য কিংবা ইসলামের কল্যাণে কিছু করেনি তাই তারা এখন জনগণের নিকট প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার ভয়ে তারা এখন ধর্মের কথা বলেনা। এখন তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে ভোট চাইছে। চৌদ্দগ্রামেও একজন জামাতের নেতা ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে এসেছে। তবে আপনাদের বলে রাখি এদের মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার মতো কোনো প্রকার অধিকার নেই।

তিনি বলেন, তারা অতিতে নির্বাচিত হয়েছিলো চৌদ্দগ্রামের মানুষের ভোট নিয়ে। নির্বাচিত হয়ে চৌদ্দগ্রামের মানুষের কল্যাণে কোনো উন্নয়ন করেনি। বরং চৌদ্দগ্রামের মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করেছে। চৌদ্দগ্রামে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। এরা মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে নিয়েছিলো মানুষকে ভোট কেন্দ্রে যেতে দিতো না। এরা আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রকাশ্যে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছিলো।

তাই আগামী ৩০ তারিখ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট চাওয়ার জন্য আমি আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আমি এবং আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত হলে চৌদ্দগ্রামের প্রতিটি গ্রাম হবে শহর।

পথভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেনরেলপথ মন্ত্রীর সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট হনুফা আক্তার রিক্তা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সোবহান ভূঁঞা হাসান, পৌর মেয়র মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য ফারুক আহাম্মেদ মিয়াজী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বর্তমান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সরোয়ার কবির, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ বি এম এ বাহার, রাশেদা আখতার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম, গোলাম ফারুক হেলাল,শাহজালাল মজুমদার, সৈয়দ আহাম্মদ খোকন, কাশিনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবু নসর, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক কামরুল হাসান মুরাদ প্রমুখ।

রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক গুনবতী ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বুধড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, খাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, গুনবতী হাইস্কুল কেন্দ্র, দশবাহা মাদরাসা কেন্দ্র, পরিকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও সুরিকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পথসভা ও গণসংযোগ করেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস