জামদানিতে ‘বাঙালি’ নারী রোবট সোফিয়া

দুপুর আড়াইটা থেকে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড প্রাঙ্গণে ‘টেক টক উইথ সোফিয়া’ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেশনে দর্শকদের জন্য নির্ধারিত আসন সংখ্যা ছিল দুই হাজার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় দ্বিগুণের বেশি লোক সোফিয়াকে দেখার সুযোগ পান। যদিও বাইরে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করে সোফিয়াকে এক নজর দেখতে, তার কথা শুনতে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) হল অব ফেইমে সোফিয়াকে আনা হয় দুপুর আড়াইটার পর। জামদানি পোশাক পরা সোফিয়াকে সে সময় বাঙালি নারীর মতো মনে হচ্ছিল। এ সময় মঞ্চে সেট করে তার নির্মাতা ডেভিড হ্যানসন। এরপর তার সেটআপ পরীক্ষা করেন তারা। তবে বেশি জনসমাগম হওয়ায় সেশন শুরু করতে দেরি হয়। ৩টায় সেশন শুরু করেন সঞ্চালক সৈয়দ গাউসুল আজম।

সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন সোফিয়াকে প্রথম প্রশ্ন করেন, সোফিয়া তুমি কী পরেছ? তখন হলভর্তি দশর্কের সামনে সোফিয়া বলেন, আমি বাংলাদেশি প্যাটেন্ট করা জামদানি পরেছি। সোফিয়া এ সময় জামদানি কামিজ পরেছিল। জামদানির কথা বলতে গিয়ে সোফিয়া বলে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত বিশ্বব্যাপী খুব সুনাম অর্জন করেছে। এরপর সোফিয়াকে প্রশ্ন করেন তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বাংলাদেশ চাইলে সোশ্যাল রোবট তৈরি করতে পারবে কিনা? জবাবে সোফিয়া বলে, বাংলাদেশের ডেভেলপাররা চাইলেই আমার মতো রোবট তৈরি করতে পারবেন। কারণ এখন এগুলো তৈরি করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের অনেক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও জানায় সে। এরপর প্রতিমন্ত্রী সোফিয়াকে আরো কয়েকটি প্রশ্ন করেন। অতিরিক্ত দর্শনার্থীর কারণে তীব্র শোরগোলে তা বেশি সময় চালিয়ে নেয়া যায়নি।

এ ছাড়া উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন প্রাঙ্গণের হলরুমের ভেতরে যেতে পারা তরুণ প্রজন্ম। ‘ইয়াহু! এই তো সোফিয়া, হ্যালো সোফিয়া’ বলতে অনেককে শোনা গেছে। সোফিয়ার পাশের চেয়ারে বসে আছেন তার অপারেটর, ল্যাপটপে প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন তিনি। এক ফাঁকে হ্যান্ডমাইক নিয়ে কথা বলা শুরু করেন সোফিয়ার সঙ্গে। ‘হ্যালো’ বলতেই সাড়া দিলো নারীরূপী রোবট সোফিয়া। ‘হ্যালো, হাউ আর ইউ?’ সোফিয়ার জবাব ‘ফাইন’। তরুণদের একজন মজা করে সোফিয়াকে ইংরেজিতেই প্রশ্ন করেন, ‘তুমি মানুষকে রিপ্লেস করতে চাচ্ছ?’ সোফিয়ার জবাব, না, আমি মানুষকে সাহায্য করছি। আমি কৃত্রিম জ্ঞানসম্পন্ন মানবরূপী রোবট মাত্র। কথা শেষে ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলায় সোফিয়াও সাড়া দিয়ে বলল, ‘ওয়েলকাম’। টেক টক উইথ সোফিয়া সেশনটি দুই ঘণ্টা হওয়ার কথা থাকলেও তা ৪০ মিনিটের মতো হয়েছে। সেশনে ২ হাজারের দর্শনার্থী প্রবেশের কথা থাকলেও তা পাঁচ হাজারে পৌঁছে। তবে সুযোগ পেলে সোফিয়ার সঙ্গে সেলফি তুলতেও ভোলেননি কেউ কেউ।

তথ্যপ্রযুক্তির এই আসরে আলোচিত নারী রোবট সোফিয়া সবার কথা শুনে, সব বুঝে, প্রশ্ন করলে উত্তরও দিয়েছে। আবার পাল্টা প্রশ্নও করেছে। ৫০ ধরনের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন (ভাবভঙ্গি) রয়েছে তার। এ সবের মূলে সোফিয়ার আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) সফটওয়্যার। তবে বাঙালি নারীর পোশাকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে দর্শকদের সামনে এসে উচ্চস্বরের চিৎকারে সমস্যাতেও পড়তে হয়েছে রোবট সোফিয়ার। প্রচণ্ড হইচইয়ের মধ্যে সঞ্চালকরা এ সময় দর্শকদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘আপনাদের শব্দে সোফিয়ার সমস্যা হচ্ছে, সে এত শব্দে সাড়া দিতে সমস্যায় পড়বে।’

হংকংয়ের কোম্পানি হ্যানসন রোবোটিকস ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার সোফিয়াকে তৈরি করেছে হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের চেহারার আদলে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এই রোবট প্রশ্ন শুনে ইংরেজিতে উত্তর দিতে পারে, কণ্ঠ ও চেহারাও শনাক্ত করতে পারে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে সে ক্রমাগত বাড়িয়ে নিতে পারে নিজের ‘ইন্টেলিজেন্স’। অক্টোবরে রিয়াদে ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ শীর্ষক এক সম্মেলনে সোফিয়াকে দেয়া হয় সৌদি আরবের নাগরিকত্ব। বিশ্বের কোনো দেশে রোবটকে নাগরিকত্ব দেয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

এর আগে গতকাল বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই প্রযুক্তি উৎসব উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঞ্চে তার সঙ্গে কথা বলেছেন রোবট মানব সোফিয়া।

মানবকণ্ঠ/বিএএফ