জাপার প্রার্থী হয়ে লড়তে চান মীর আব্দুস সবুর আসুদ

জাপারআসন্ন একাদশ নির্বাচনে রাজধানীর ঢাকা-৫ আসন (যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী থানার আংশিক) এলাকার জনগণের কাছে এ সময়ের জনপ্রিয় নেতা হচ্ছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ। বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা। আওয়ামী লীগের এই নেতা বার্ধক্যে উপনীত হওয়ায় এ আসনে দলের একাধিক নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী। আর আসন্ন একাদশ নির্বাচনকে টার্গেট করে গত ৫ বছরের সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী মীর আব্দুস সবুর আসুদও দলীয় মনোনয়নসহ মহাজোটের প্রার্থী হতে লড়ছেন কঠিনভাবে। এলাকায় অবিরামভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডসহ নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

নির্বাচনে দলীয় ও মহাজোটের প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে গত তিন-চার বছর ধরে মাঠ গোছানোর কাজ করছেন জাতীয় পার্টির আসুদ। কর্মিসভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। গত নির্বাচনেও তিনি জাপার প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এবার এলাকাবাসীর দোয়া চেয়ে যাত্রাবাড়ী, ডেমরার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন টাঙিয়েছেন মীর আবদুস সবুর আসুদ। আসুদ বলেন, আমরা বংশপরম্পরায় এলাকার নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আমি গণসংযোগের মধ্য দিয়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছি। দলের পক্ষ থেকেও আমাকে নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ চালাতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দলের মনোনয়ন পাব।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, প্রাথমিক ও প্রশাসনিক জরিপে ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকায় সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে এলাকার সবচেয়ে শক্তিশালী ও জনপ্রিয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পরিছন্ন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। মসজিদ, মন্দির, খেলার মাঠ, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করে এলাকার এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি মানবকণ্ঠকে বলেন, নেতা হতে আসেনি। এলাকার সন্তান হিসেবে জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। সুখে-দুঃখে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বারোপ, জলাবদ্ধতা, জলজট ও যানজট নিরসন, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বেকারত্বের অবসান, নারীশিশুসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সুশসান প্রতিষ্ঠা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিহার, মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাস দূরীকরণসহ অসহায় নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের কাছে থাকার অঙ্গীকার করছি। এ ছাড়া একটি আধুনিক নিরাপদ উন্নয়নমূলক বাসযোগ্য নগরী গড়ার প্রত্যয়ে সর্বপর্যায়ে বৈষম্যহীন উন্নয়নের ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা ও এলাকাবাসী জানান, আসুদের পূর্ব পুরুষরা আড়াই বছর থেকে এ এলাকার মানুষের সেবা করে আসছে। তার বড় আব্বা আড়াইশ’ বছর আগে এলাকাতে মসজিদ নির্মাণ করেন। এলাকার ধর্মীয় শিক্ষাকে বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্যই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। জাপা নেতা আসুদের পূর্বসূরিরা হচ্ছেন মীর কেরামত আলী, দাদা মীর মাওলা বক্স। এ এলাকার সমাজ উন্নয়নে তারা ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার দাদি কৃষি উন্নয়নে এলাকার প্রভাব রেখেছিলেন। উনি চমৎকার পুঁথি পড়তে পারেন বলে জানিয়েছেন জাপার স্থানীয় নেতা আসলামুল হক। তিনি বলেন, খুতবা আজানসহ অন্যান্য ধর্মীয় কাজের সুযোগ সৃষ্টি করার কারণে তার নাম এ এলাকাতে সমাদৃত। মীর আব্দুস সবুরের পিতা মীর আব্দুর রাজ্জাক ও মাতা সালমা খাতুন এলকার বহুলোককে চাকরি দিয়েছেন। শিক্ষা দিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং বিবাহযোগ্য কন্যাদায়গ্রস্ত পিতামাতাকে সব সময় সহযোগিতা করছেন বলে জানান জাপার এ নেতা। আসলাম বলেন, আমরা তাদের সব উন্নয়নের জন্য তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের বেহেশত নসিব করুক।

মীর আব্দুস সবুর আসুদের পিতা মৃত মীর আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা ওয়াসার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন। আসুদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও সক্রিয় রাজনীতির পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক প্রভাতী খবর ও সাপ্তাহিক ঢাকা সংবাদের প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে। একই সঙ্গে ছিলেন দৈনিক পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক। এ ছাড়া দৈনিক বর্তমান সময়ের উপদেষ্টা সম্পাদকও ছিলেন। এর আগে তিনি দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় ক্রীড়া সংহতির সভাপতি হিসেবে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন জাপা চেয়ারম্যানের যুব বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে।

২০০৭ সালে ছিলেন জাপার ভাইস চেয়ারম্যান। ২০০৬ সালে ছিলেন জাপার যুগ্ম মহাসচিব। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে। ২০০১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জাপার যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮৩ সালে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ করেন। অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জাতীয় যুব সংহতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও অবিভক্ত ঢাকা মহানগর কমিটির সহসভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪/৫ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দলীয় মনোনয়ন লাভের প্রত্যাশায় ব্যাপক প্রচারণা ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন।

ক্রীড়াঙ্গনেও সাফল্য রয়েছে মীর আব্দুর সবুর আসুদের। তিনি ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জাতীয় ফুটবল দল, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, ধানমণ্ডি শেখ জামাল, ফরাশগঞ্জ, বিজি প্রেস ও মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে আগামী ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পরিচালক ও সহসভাপতি দায়িত্বে রয়েছেন।

আসুদ বলেন, জাতীয় পার্টি ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছাড়া আগামীতে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। জনগণ জাতীয় পার্টির উন্নয়ন ও শাসন দেখেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনও দেখেছে। আর আওয়ামী লীগ-বিএনপি নয়, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে দেশের সবাই নিরাপদ। মীর আসুদ বলেন, সবাই ভেবেছিল জাতীয় পার্টি ধ্বংস হয়ে যাবে। ২৭ বছর ধরে জাতীয় পার্টি বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে।
জাতীয় পার্টি কোনো প্রতিহিংসা জ্বালা-পোড়াও, হরতাল ও সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, আগামীতে জাতীয় পার্টিকে নিয়েই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে হবে। জনগণ সব অপশাসনের পরিবর্তন চায়। দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকরিতে ঘুষ আর চলতে পারে না। দেশকে বাঁচাতে মানুষকে বাঁচাতে আগামীতে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আসতে হবে। এরশাদ শাসনামলের উন্নয়নের চিত্র দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মানবকণ্ঠ/আরএ