জাতীয় শুটার হতে চান লিমন

বাংলাদেশ যুব গেমসে প্রথম স্বর্ণ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন মো. মেহেদী হাসান লিমন। পাবনা রাইফেল ক্লাবের হয়ে রোববার .১৭৭ ওপেন সাইট এয়ার রাইফেলে (তরুণ) অংশ নিয়ে স্বর্ণ জেতেন তিনি। লিমন বাছাইপর্বে রাজশাহী বিভাগে ৮ জেলার মধ্য ২৩৫ স্কোর গড়ে প্রথম হন। আর কাল চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ২৪৭ স্কোর গড়ে সবাইকে পেছনে ফেলে জিতে নেন সোনার পদক। এই ইভেন্টে ঢাকার প্রতিযোগী শুলশান শুটিং ক্লাবের ফজলে রাব্বি ২৩৯ স্কোর গড়ে রুপা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা রাইফেল ক্লাবের ফারদিন মো. অর্ণব ২৩৬ স্কোর গড়ে তাম্র পদক জেতেন।

দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে বৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞ বাংলাদেশ যুব গেমস। এমন একটি প্রতিযোগিতায় সেরাদের সেরা হতে পেরে ারুণ উচ্ছ্বসিত লিমন। ভবিষ্যতে জাতীয় শুটার হওয়ার লক্ষ্য এ তরুণের। স্বর্ণ জয়ের অনুভূতি জানিয়ে লিমন বলেন, ‘খুবই আন› লাগছে। ভাষায় প্রকাশের নয়। এমন একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করায় আমি অলিম্পিককে ধন্যবাদ জানাই। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমাদের মতো অনেকেই বের হয়ে আসবে। শুনেছি এখানে যারা ভালো করবে তাদের ফেডারেশনে রেখে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এটা হলে সত্যিই অনেক ভালো হবে।’

নিজ আগ্রহ, পরিশ্রম, মেধা, যোগ্যতায় এত দূর আসা লিমনের। বাবা মো. রঞ্জু শেখ পেশায় একজন অটো চালক। পাবনা শহরে অলিগলিতে অটো চালিয়ে সংসারের ব্যয় বহন করেন। লিমনের মা মোসাম্মৎ লাভলি বেগম একজন গৃহিনী। সংসারে ছোট এক বোন রয়েছে লিমনের। শুটিং খুবই ব্যয় বহুল একটি খেলা। লিমনের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তবে নিুবিত্ত পরিবারের সন্তান হলেও মেধাবী লিমনের খেলার ব্যয়ভাব তার পরিবারকে বহন করতে হয় না। তার সমস্ত খরচই বহন করে পাবনা রাইফেল ক্লাব। যুব গেমসের অংশ নেয়ার আগে আন্তঃ ক্লাবের হয়ে বগুড়ায় একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ১৬ বয়সী লিমন। সেখানে তৃতীয়স্থান লাভ করেন।

মাত্র ১২ বছর বয়সে মামা মো. সোহাগ হাসানের হাত ধরে শুটিং রেঞ্জে পা রাখা লিমনের। তবে শুটিংয়ে হাতেখড়ি কোচ ওসমান গণির কাছে। যিনি এখনো লিমনের ায়িত্বে আছেন। যুব গেমসে স্বর্ণ জেতার পেছনে কোচ ওসমান গণির কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন লিমন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কোচ ওসমান গণি আমার মামার বন্ধু। ওনার বাড়ি আমারে বাড়ির ঠিক পাশেই। ছোট বেলায় তাদের দেখেই মূলত শুটিংয়ে আসার আগ্রহ জাগে। আমার কোচ একজন জাতীয় পর্যায়ে শুটার। কোচের কারণেই মূলত যুব গেমসে আমার এমন ফল করতে পেরেছি।’

লিমন স্বর্ণ জেতার পর থেকে কোচ ওসমান গণি যেন জোঁকের মতো লেগে রয়েছে শিষ্যের সঙ্গে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন। গুরু ওসমান গণি শুধু শুটিংয়ের খুঁটিনাটিই নয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়ও লিমনকে নানানভাবে সহযোগিতা করছেন।

লিমনের এমন সাফল্যের পেছনে রহস্য কী-এমন প্রশ্নের জবাবে ওসমান গণি বলেন, ‘লিমন খুবই মেধাবী এবং পরিশ্রমী ছেলে। এ বয়সী ছেলেদের দুরন্তপনা, চঞ্চলতা থাকে। কিন্তু সে খুবই শান্ত, ধী-স্থির। কথা খুব কম বলে। তবে রেঞ্জে সে সময়ই মনোযোগী ছাত্র। অন্য ছেলেরা অনেক সময় কথা শোনে না। কিন্তু লিমনকে যা বলি তাই শোনে।’

ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে খেলতে চান লিমন। হতে চান জাতীয় দলের অংশ। শুটিংয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে দেশের জন্য বয়ে আনতে চান অনেক অনেক সাফল্য।

মানবকণ্ঠ/বিএএফ