জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কক্সবাজার জেলার সমীকরণ ও ছাত্রলীগ নেতার কথা

২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চলছে আলোচনা। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের অনেকে নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ শুরু করছেন। এই নির্বাচন নিয়ে ফেইসবুকে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ওমর। সেই সঙ্গে কয়েকটি আসন নিয়েও তিনি লিখেছেন।

আসন-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) সম্পর্কে শাহ ওমর লিখেন, ‘আজ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের এতো ফ্যাসিলিটি সম্মাননাসহ তাদের পরিবারের সকলকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে। অবশ্যই এটা আওয়ামী লীগ সরকারের একটা বড় প্রজেক্ট, হ্যা ভালোবাসা আর আবেগের সব থেকে বড় মহৎ উদ্যোগ। এ বিষয়ে আজ বিশ্ব বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘কক্সবাজার জেলার মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মো. শরীফ চেয়ারম্যানের বড়পুত্র, মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হোসাইন ইব্রাহীম। তার দেশপ্রেমী মনোভাব ও নির্লোভী সুযোগ্য নেতৃত্বে তিনি সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে। এছাড়া জনগণের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি না করায় লোকে তাকে ‘পীরবাবা’ বলে ডাকেন। জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে আঁতাত না করায় রয়েছে আমজনতার অকৃত্রিম ভালোবাসা। এমন একজন মাটির মানুষ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের এমপি হলে, আমার বিশ্বাস মহেশখালী-কুতুবদিয়া হবে দেশ সেরা ও সব থেকে আধুনিক একটি অঞ্চল।’

চকরিয়া ও পেকুয়ার জাফর আলমকে নিয়ে ফেইসবুকে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিখেন, ‘সাবেক একজন বিএনপি মন্ত্রী (সালাউদ্দিন) কে টেক্কা দিয়ে এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগ টিকিয়ে রাখার মত স্ট্যাণ্ডবাজী তিনি শেখ হাসিনার জন্যে করে দেখিয়েছিলেন। সেজন্যে অনেকেই তাকে ডাকাত-সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগের জন্যে তার ডাকাতিকে তিনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারাটাই তার সন্ত্রাসের শৈল্পিকতা বলে আমি মনে করি। ‘ডাকাত’ জাফর আলমের জনপ্রিয়তা দিয়ে যদি স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীকে দাবীয়ে দেয়া যায়! তাতে ক্ষতি কিসের। নাক টিপলে দুধ বের হবে, এমন অনেকে তার সমালোচনা করলেও একজন জাফর আলমের জনপ্রিয়তায় ঘাটতি কিংবা কাটতি কোনটার প্রভাবই পড়ে না।’

রামু-কক্সবাজার সদর ৩-আসনের রাশেদুল ইসলাম সম্পর্কে বলেন, ‘বলার মত কিছু নেই। কিছু থাকার কথাও না, কারণ তার ত্যাগের কথা, দলের দুঃসময়ে তার সাহসী নেতৃত্ব আর ইস্পাত কঠিন মনোবল, ধৈর্য ও ক্ষমাশীল আচরণ সম্পর্কে প্রাণপ্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাও অবগত আছেন বলে আমার ধারণা।’

শাহ ওমর আরো লিখেন, ‘অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলতে পারি; ইমরুল কায়েস চৌধুরী যদি নেত্রীর গ্রিন সিগনাল পান! আমার বিশ্বাস (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। ব্যালট ছিনতাই হোক বা কেও পুড়িয়ে দিক ব্যাপার না, যদি ভোটকেন্দ্র দখল করেও ইমরুল কায়েসকে হারাতে চায়! এটা অসম্ভব…। কারণ তার জনপ্রিয়তাই বাঁধভাঙ্গা। তিনি তারুণ্যের এক জীবন্ত কিংবদন্তী, স্বাধীনতা, শেখ হাসিনা, সাহসিকতায় এক অপ্রতিরোধ্য।’

ফেইসবুকে লিখা নিজের এসব মন্তব্য নিয়ে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ওমর বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় কক্সবাজার জেলার সম্মানিত সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। মুজিব আদর্শের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে আমি শপথ করে বলছি, আমি কাওকে তৈলমর্দন বা কাওকে কটাক্ষ করার জন্যে; আমার ফেইসবুকে এসব মন্তব্য লিখিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কক্সবাজার জেলার সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ অত্যন্ত মেধাবী সৎ ও মুজিবপ্রেমী। তারা শেখ হাসিনার এগিয়ে যাবার হাতিয়ার।’

মানবকণ্ঠ/জেডএইচ