জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গোড়াতেই গলদ: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শুরুতেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে গোড়াতেই গলদ, তারা জনগণের কাছে যাওয়ার আগে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করায় নবগঠিত জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নেতাদের সমালোচনা করেছেন। এরমধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা দেউলিয়া আর জনসমর্থনহীন।

শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ পরিদর্শন করতে সেখানে আসেন তিনি।

চন্দ্রা ফ্লাইওভারের কাজ ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে জানিয়ে সেতু মন্ত্রী জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যেই এটি চালু করা হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, দেশে এখন নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজ করছে এবং জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চায়। সেই ভোটমুখী জনগণকে আন্দোলনমুখী যারা করতে চাইবে তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্ট বিদেশিদের আস্থায় আনতে চায়। জনগণের আস্থার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। যদি জনগণের প্রতি তাদের আস্থা থাকত, তাহলে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর প্রথম তারা কেন সাক্ষাৎ করেছে বিদেশিদের সাথে? তারা জনগণের কোনো সমাবেশে যায়নি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় এরা কতটা দেউলিয়া, এরা কতটা জনসমর্থনহীন। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর অবশ্য জনগণের কাছে যাওয়ার কর্মসূচিও এসেছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৩ অক্টোবর সিলেটে সমাবেশের আবেদন করেছে তারা। যদিও পুলিশ এখনও সে অনুমতি দেয়নি। গত ১৩ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর প্রথমবারের এই বৈঠক বেশ আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, এই ফ্রন্টের নেতা কে, তারা ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে আপাতদৃষ্টিতে ফ্রন্টের নেতৃত্বে ড. কামাল হোসেন থাকলেও ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সে প্রশ্নের জবাব তিনি সংসদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।

কাদের আরো বলেন, সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ বন্ধ করা হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের কথাও জানিয়েছে তারা। তবে ওবায়দুল কাদের এই আন্দোলনের হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছেন না।

তিনি বলেন, এরা ১০ বছর ধরে বারবার আন্দোলনের ডাক দিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। পাবলিক এখন ইলেকশন মুডে আছে, কেউ এখন আন্দোলনের দিকে তাকিয়ে নেই। ঐক্যের ডাকে জনগণ সাড়া দেয়নি, আন্দোলনের ডাকে জনগণ সাড়া দেবে? জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চায়। সেই ভোটমুখী জনগণকে আন্দোলনমুখী যারা করতে চাইবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।

এসময় মন্ত্রীর সাথে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান ও সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এম