জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম

চলে গেলেন তিনিও। আমাদের ভরসার জায়গাগুলো দিনে দিনে এভাবেই শূন্য হয়ে যাচ্ছে। যদিও এটি প্রকৃতির নিয়ম, অমোঘ সত্য।
তবু মেনে নেয়া কঠিন। কারণ অভিভাবকহীনতায় জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়া বড় কষ্টের। ৯ মে সাড়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় ভাষা সংগ্রামী, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে। সময়ের হিসেবে ৯১টি বছর পার করেছেন তিনি আমাদের সবার সঙ্গে। যে কোনো ক্রান্তিতে আলোর দিশা হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে অর্থমন্ত্রী ও সংস্কৃতিমন্ত্রী শোক জানিয়েছেন।
অধ্যাপক নূরউল ইসলামের জন্ম ১৯২৭ সালে ১ মে, বগুড়ায়। পাঁচ বছর বয়সে ১৯৩২-৩৩ সালে কলকাতায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের হাতে তার লেখাপড়ায় হাতেখড়ি। পুলিশ কর্মকর্তা বাবার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন স্কুল বদলাতে হয় তার। কলকাতার সুরেনদ্রনাথ কলেজে গ্রাজুয়েশনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করার পর লন্ডন ইউনিভার্সিটির প্রাচ্যভাষা ও সংস্কৃতিকেন্দ্র সোয়াস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন তিনি।
করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছিল অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের হাতে। এরপর রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন তিনি। তার কর্মজীবনের শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে, দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রতিবেদক হিসেবে। এরপর ১৯৫১ সালে তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। দুই বছর পর চলে যান শিক্ষকতায় করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বাধীনতার আগে কয়েক বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন অধ্যাপক নূরউল ইসলাম। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সাহিত্যিক’ ও ‘সুন্দরম’ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম সাহিত্যে অবদানের জন্য একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন। তার বিদেহী আত্মার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। আব্দুল্লাহ আল সিফাত