জল সবুজের স্বর্গ

লেক এলাকার অন্যতম আকর্ষণ রবীন্দ্র সরোবর। এখানের খোলা মঞ্চে সারাবছরই থাকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছুটির দিনগুলোতে নাটক, গান, কবিতা আবৃত্তিসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানে আলোকিত থাকে রবীন্দ্র সরোবর। রবীন্দ্র সরোবরের পাশে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতে পছন্দ করেন অনেক তরুণ-তরুণী।

আমরা যারা ঢাকায় বসবাস করি, চারিদিকে শুধুই উঁচু উঁচু দালান কোঠার ভিড়ে দেখি না সবুজ। বুক ভরে সতেজ নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য আমাদের খুব কম স্থানই রয়েছে রাজধানীতে। প্রাকৃতিক পরিবেশে একটু ঘুরে বেড়ানোর জায়গা মেলা কঠিন। তারপরেও কংক্রিটের এই অরণ্যে সবুজ শান্তির পরশ বুলিয়ে যাওয়া জল সবুজের স্বর্গের নাম ধানমন্ডি লেক।
ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্মল বাতাসে, সবুজের স্পর্শে ঘুরে আসতে পারেন ধানমন্ডি লেক থেকে। লেক এলাকায় ঢোকা মাত্রই সবুজ মনোরোম পরিবেশ স্বস্তি বয়ে আনবে আপনার হৃদয়ে।
১৯৫৬ সালে উপযুক্ত পরিবেশ ও আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ধানমন্ডি লেক প্রতিষ্ঠা করা হয়। সমগ্র ধানমন্ডি এলাকার প্রায় ১৬ শতাংশ জুড়ে রয়েছে এই লেক। লেকের বর্তমান দৈর্ঘ্য ৩ কি.মি. প্রস্থ ৩৫ থেকে ১০০ মিটার, গভীরতা ৪.৭৭ মিটার, জলাশয়ের মোট আয়তন ৩৭.৩৭ হেক্টর। লেকটি ধানমন্ডি ২ নম্বর সড়ক থেকে শুরু করে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়েছে।
ধানমন্ডি লেকে রয়েছে অনেকগুলো পয়েন্ট। যেমন ব্যাচেলর পয়েন্ট, শুটিং পয়েন্ট, জাহাজবাড়ি পয়েন্ট, দ্বীপ চত্বর, লেক ভিউ সাইড, রবীন্দ্র সরোবর, ডিঙ্গি চত্বর, সুরধনী চত্বর, শতায়ু অঙ্গন ইত্যাদি। সবগুলো পয়েন্ট লেকটির তীর ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও বসার জন্য রয়েছে সিমেন্টের তৈরি অনেক স্থাপনা। যেখানে বসে নির্মল হাওয়ায় পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে ভাল কিছু সময় অতিবাহিত করতে পারবেন। বিশাল এই লেকের জলধারে সৌখিন মাছ শিকারিরা মাছ শিকার করতে পারেন। আপনি চাইলে নৌকা ভ্রমণের শখটাও মেটাতে পারেন এই লেকের পানিতে। নৌকা ভ্রমণের স্বাদ পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে ডিঙি চত্বরে।
লেক এলাকার অন্যতম আকর্ষণ রবীন্দ্র সরোবর। এখানের খোলা মঞ্চে সারাবছরই থাকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছুটির দিনগুলোতে নাটক, গান, কবিতা আবৃত্তিসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানে আলোকিত থাকে রবীন্দ্র সরোবর। রবীন্দ্র সরোবরের পাশে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতে পছন্দ করেন অনেক তরুণ-তরুণী।
ধানমন্ডি লেকে সবুজের সমারোহ আর পাখির কিচিরমিচির শব্দের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন অজানায়। এখানে রয়েছে কৃষচূড়া, বটগাছ, রেইনট্রি, আমগাছ, কাঁঠালগাছ, বকুলগাছ, কদমগাছসহ নানা প্রজাতির গাছ হাজার হাজার ফুল ও ফলে গাছ।
তাই পাখিদের আনাগোনাও এখানে অনেক বেশি। ধানমন্ডি লেকে আড্ডা দিতে দিতে আপনার যদি ক্ষুধা লেগে যায় তাও কোন সমস্যা নাই। খাবারের প্রয়োজন হলে লেকের ভেতরেই আপনি পেয়ে যাবেন অনেক খাবারের দোকান। লেকেজুড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ব্রিজ যা আপনার ভ্রমণে আনবে বাড়তি আনন্দ। ব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে লেকের স্বচ্ছ জলে নিজের ছায়া দেখার অনুভূতি কারোরই খারাপ লাগবে না।
সবুজ গাছপালা আর জলের মায়ার প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে ধানমন্ডি লেকে বেড়তে। লেকে কিছু সময় কাটিয়ে একরাশ মুগ্ধতা ও ভাললাগা নিয়ে তারা ফিরে যান আপন ঠিকানায়। ছবি: ইন্টারনেট
– রেজাউল করিম রাজা, বাংলা ইনসাইডার