জব্বার আলীর ভাগ্যে জোটেনি বয়স্কভাতার কার্ড

জব্বারের ব্যাটারিবিহীন, জোড়াতালি দেয়া, মরিচাপড়া পুরনো রিকশাটিতে দীর্ঘ সময়েও যাত্রীর দেখা মেলে না। বয়স আশি ছুঁই ছুঁই। বয়সের ভারে নিজের পিতার নামটি মনে করতেও মিনিট কয়েক সময় লাগে তার। তবুও বয়স্কভাতা থেকে বঞ্চিত ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার নওধার এলাকার মৃত আরফান আলীর ছেলে জব্বার আলী (৭৭)।
ত্রিশাল বাজারে প্রবেশপথে সুতিয়া নদীর ব্রিজের ওপর দেখা মেলে জব্বার আলীর। যাত্রী ছাড়াই খালি রিকশাটি হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে চালিয়ে ব্রিজ পার হচ্ছিলেন তিনি। চোখেমুখে হতাশার ছাপ। জোড়াতালির মরিচাপড়া রিকশাটিও অনেক পুরনো। বর্তমান সময়ে ত্রিশালে ব্যাটারি ছাড়া কোনো রিকশা তেমন একটা চোখে পড়ে না। শারীরিক দুর্বলতার কারণে অর্ধবেলা রিকশা চালান তিনি। রিকশায় নেই ব্যাটারি, তার ওপর বৃদ্ধ, চলে ধীরগতিতে। এজন্য তার রিকশায় যাত্রীরা খুব বেশি ওঠেন না। অর্ধবেলায় ৬০/৭০ টাকা আয়ে কোনো রকমে দিন কাটে তার পরিবারের। ১৪ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আবুল কালাম মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। তার খরচও ঠিকমতো দিতে পারেন না। ভিটেবাড়ি ছাড়া কোনো সম্পদ নেই তার। এমন অবস্থায় দিন কাটলেও জব্বার মিয়া বয়স্কভাতা থেকে বঞ্চিত এখনো।
কথোপকথনে বোঝা গেল, বয়সের ভারে অনেকটাই কমে গেছে তার স্মরণশক্তি। নিজের নামটি সহজে বলতে পারলেও কয়েক মিনিট সময় লাগে পিতার নামটি বলতে। চার মেয়ে এক পুত্রসন্তানের জনক জব্বার মিয়া। আগে মাটিকাটার কাজ করলেও ৩৫ বছর ধরে রিকশার প্যাডেলের সঙ্গে চেপে আছে তার পা। এ ব্যাপারে কাউন্সিলর দুলাল মণ্ডল দুলু বলেন, জব্বার মিয়া কখনো আমার কাছে আসেনি। যেহেতু আজ আমি তার সম্পর্কে জানলাম তাকে বয়স্কভাতা ও ভিজিএফের চালও দেয়া হবে। গুরুজন ডেস্ক