জবি ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত, তদন্ত কমিটি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং দলীয় শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে নেতৃবৃন্দের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ঘাটতি পরিলক্ষিত হওয়ায় তাদের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে জবি শাখা ছাত্রলীগের দু‘গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা চার সদস্যের তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, প্রেম গঠিত কারণে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মী তুহিনকে মারধর করে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা। পরে সম্পাদকের কর্মীরা একত্রিত হয়ে সভাপতি গ্রুপের কর্মী নয়ন ও রিফাতকে মারধর করে। তারই জের ধরে রোববার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে সভাপতি গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মীরা একত্রিত হতে থাকে। এমন সময় সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে দুই গ্রুপের কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। উভয় গ্রুপ একে ওপরের দিকে ইট-পাটকেল ছুরে মারে এবং দেশীয় অস্ত্র দ্বারা উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টারিয়াল বডির সদস্য ও পুলিশ প্রশাসন বারবার সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই তাদের সংঘর্ষ বন্ধ করা যায়নি। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ ও সহকারী প্রক্টর মো. শাহীন মোল্লাসহ আট শিক্ষার্থী আহত হয়।

আহত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীরা হলো— জিওগ্রাফি বিভাগের (১২তম ব্যাচ) মামুন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রেজওয়ান ও ইশরাক, ফিজিক্স বিভাগের (১২তম ব্যাচ) মাহফুজ, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের (১৩তম ব্যাচের) খালেদ মাহমুদ সুজন ও বাংলা বিভাগের (১২তম ব্যাচ) প্রান্ত। আহতদের মধ্যে মামুন ও খালেদ মাহমুদ সুজনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য কর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ও সুমনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি কিশোর কুমার সরকার ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বী যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুগ্রুপের দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল দিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আজকের বিষয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলেছি। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ