ছোট দলের মেয়র প্রার্থীরা বড় দু’দলের ভোটে ভাগ বসাবে

ছোট দলের মেয়র প্রার্থীরা বড় দু’দলের ভোটে ভাগ বসাবে

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। এ কারণে এ দু’দলের প্রার্থী বিভিন্ন পন্থায় ভোট বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০ দলীয় জোট প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার সমর্থন আদায় করেছেন খেলাফত মজলিসের। অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্তী কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থন আদায়ে মাঠে রয়েছেন। এদিকে ছোট রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটে ভাগ বসাতে পারে বলে ধারণা করছে সুশীল সমাজ।

বিসিসি নির্বাচনে মহাজোট ছাড়াই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহ। মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি থেকে মেয়র প্রার্থী করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন তাপসকে। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে নগরজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছিল যে কোনো সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে তাপসের বসে যাওয়ার বিষয়টি। এটি আরো জোরালো হয় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেখানকার জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে বসে যাওয়ার পর। এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের সাফ জবাব, বসতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। আমার প্রচার-প্রচারণা দেখে আপনাদের বোঝা উচিত আমি বসতে নয়, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার জন্য এসেছি। এ ধরনের অপপ্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তাপস।

২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারকে। এখান থেকে নির্বাচন করার কথা ছিল জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমীর মুয়াযযম হোসাইন হেলালের। কিন্তু সরোয়ার মনোনয়ন পাওয়ার পর হেলাল মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২৮ জুন সরোয়ার মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সরাসরি হেলালের নগরীর বাসভবন ব্রাউনকম্পাউন্ডে যান। সেখানে গিয়ে হেলালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সরোয়ার ও হেলাল একান্তে কিছু সময় কাটান। এ খবর চলে যায় ২০ দলীয় জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের কাছে। সরোয়ার তাদের সঙ্গে কোনো রকম কথা না বলা এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ না করায় ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ ক্ষুব্ধ হওয়া থেকে খেলাফত মজলিস তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেন। কিন্তু প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২৮ জুন মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন বিকেলে খেলাফত মজলিস থেকে মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক একেএম মাহবুব আলম মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ওই সময় মেয়র প্রার্থী মাহবুব আলম জানান, খেলাফত মজলিস বড় একটি দল। এ সংগঠনের অনেক ভোট রয়েছে নগরীতে। এ ছাড়াও ২০ দলীয় জোটের শরিক দল হচ্ছে খেলাফত মজলিস। কিন্তু জোটের মেয়র প্রার্থী সেভাবে তাদের মূল্যায়ন না করায় তারা মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি সরোয়ারের কাছে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত গত শনিবার রাতে সরোয়ার সশরীরে খেলাফত মজলিসের অফিসে গিয়ে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে তাদের রাগ প্রশমিত করেন। এর পর পরই খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়।

মাহবুব আলম জানিয়েছেন, ১০ জুলাই থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু। এর পূর্বেই আমরা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে কয়েকটি টিম গঠন করেছি। সেই টিমগুলোকে আমাদের পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে সমর্থকদের ধানের শীষে ভোট দিতে বলা হচ্ছে। আর প্রচার-প্রচারণায় নগরবাসীকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হবে। এ সময় সরোয়ারের ক্ষমতায় থাকাকালীন নগরীতে যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে তা তুলে ধরা হবে।

২০১০ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বাসদ মেয়র প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্তী কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থী জেলার সভাপতি একে আজাদের সমর্থন আদায়ে চেষ্টা করছেন। কিন্তু একে আজাদ কোনোভাবে বসতে রাজি হচ্ছেন না। এ ব্যাপারে ডা. মনিষা বলেন, একে আজাদের সমর্থন আদায়ে তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এমনকি আগামী সংসদসহ বিভিন্ন নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি বোঝানো হলেও রাজি হননি। তবে সুশীল সমাজের ধারণা, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থীরা দলীয় ভোট ছাড়াও আওয়ামী লীগের ভোটে ভাগ বসাতে পারে। একইভাবে চরমোনাই অনুসারী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের দলীয় ভোট ছাড়াও বিএনপির ভোটও টানবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.