ছোট দলই বড় বাধা!

নিবন্ধিত ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে কমিশন গৃহীত প্রায় সব কার্যক্রম বাস্তবায়নে নামসর্বস্ব এসব দল এখন ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলোর মধ্যে গোটা কয়েক দল বড় দলগুলোর সঙ্গে লেজুড়ভিত্তির মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সক্ষম হলেও ইসির আদেশ নির্দেশ প্রতিপালনে বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সর্বশেষ দলগুলোর হালনাগাদ কার্যক্রমের প্রতিবেদন দিতেও ব্যর্থ হয়েছে তারা। শুধু ব্যর্থই নয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসিকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চলেছে অদ্যাবধি। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পেরে বড় দলগুলো যেখানে ইসিতে সময়ের আবেদন করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, সেখানে নামসর্বস্ব ১২টি দল কোনো আবেদনই করেনি।

এতসব ব্যর্থতার পরও এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। শুধুমাত্র হুমকি-ধমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে ইসিকে। ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন কমিশনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দলগুলো দিনে দিনে স্বেচ্ছাচারি হয়ে ওঠছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ২১ নভেম্বর ছিল দলগুলোর হালনাগাদ তথ্য জমা দেয়ার শেষ দিন। এর আগে ৩১ অক্টোবর ১৫ কার্যদিবস সময় দিয়ে চিঠি পাঠায় কমিশন। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিসহ ২৩ দল সাংগঠনিক অবস্থা জানিয়ে তথ্য দেয়। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ ৫টি দল সময় চেয়ে চিঠি দিলেও নামসর্বস্ব ১২টি দল ইসিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। এদের মধ্যে দুটি দলের বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বও রয়েছে।

হালনাগাদ তথ্য জমা না দেয়া ১২ দল হচ্ছে- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বি এম এল, গণফোরাম, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

সূত্রমতে, হালনাগাদ তথ্য জমা না দেয়া দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায় কমিশন। সময় চেয়ে আবেদন করা দলগুলোকেই শুধুমাত্র সময় দেবে নাকি আবেদন না করা দলগুলোর জন্যও সময় বাড়াবে এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছে ইসি। তবে, ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, সময় চাওয়া না চাওয়া সবাইকে এক মাস সময় বাড়াতে পারে কমিশন। এর আগে নিবন্ধিত দলগুলোকে হালনাগাদ তথ্যসহ দলীয় কার্যক্রম কমিশনকে অবহিত করতে মাত্র ১৫ কার্যদিবস সময় দিয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজী রকিব কমিশনও এসব দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে যেতে পারেননি। নিবন্ধন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন দলকে নিবন্ধিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সাবেক কাজী রকিবউদ্দিন কমিশন। তাদের সময়ে ৪৩টি নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে ৪১টিই দলই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘যোগ্যতার’ প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়। শর্ত অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কার্যালয় ও কমিটি থাকার তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে দুটি দলকে নিবন্ধন দেয় ইসি এগুলো হলো- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট।

এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, যারা সময় চেয়েছে এবং যারা চায়নি সবাইকে একমাস সময় দেয়া হতে পারে। এসব দলগুলোর জন্য এটাই শেষ সুযোগ। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দলীয় সাংগঠনিক অবস্থা তুলে ধরে তথ্য না দেয় তাহলে ওই দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর এ পর্যন্ত ৪২টি দল নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী সংশোধিত গঠনতন্ত্র দিতে না পারায় ২০০৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল করে ইসি। আর আদালতের আদেশে ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ হয়।

মানবকণ্ঠ/বিএএফ