ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর পাবনা মেডিকেল বন্ধ : সংঘর্ষে আহত ৯

পাবনা প্রতিনিধি :
ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর পাবনা মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা রয়েছে তাদের প্রবেশপত্র দেখে হলে থাকতে দেয়া হবে বলে কলেজের অধ্যক্ষ মো. রিয়াজুল হক রেজা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই সংঘর্ষ হয় বলে তিনি জানান। সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি তাদের নাম বা সংখ্যা বলতে পারেননি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ও গতকাল শুক্রবার দুপুরে দু’দফায় সংঘটিত সংঘর্ষে ৯ জন আহত হয়। পাবনা সদর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, কলেজে আধিপত্য বিস্তার ও ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করা নিয়ে পাবনা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাফুজ নয়ন ও সাধারণ সম্পাদক অদ্বিতীয় দে গ্রুপের মধ্যে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ও গতকাল শুক্রবার দুপুরে দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষে মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মীমসহ ৯ জন আহত হয়। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন বে-সরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি নয়ন নিয়ন্ত্রণ করেন মেডিসিন ক্লাব। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক অদ্বিতীয় দে’র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রোটারি ক্লাব। নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাব ও সমিতির নামে ছাত্রলীগের নেতারা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি থেকে চাঁদা নিয়ে অনুষ্ঠানের নামে ভাগবাটোয়ারা করেন। চাঁদার ভাগাভাগি নিয়েই দুই পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।