স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার অঙ্গীকার ছাত্রলীগের ইশতেহারে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছে ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ।বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে চার ঘণ্টাব্যাপী নির্বাচনী প্যানেলের পরিচিতি সভায় এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ছাত্রলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

পরিচিতি সভায় প্যানেলের এজিএস প্রার্থী সাদ্দাম হোসাইনের সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় প্যানেলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। এতে ইশতেহার পাঠ করেন জিএস প্রার্থী গোলাম রাব্বানী। এ সময় প্যানেলটির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সনজিত চন্দ্র দাসসহ প্যানেলের হল সংসদের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত ইশতেহারে ছাত্রলীগের অঙ্গীকারগুলো হলো— পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনা, মানহীন সান্ধ্যকালীন কোর্স ও সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল, অবৈধভাবে আদায়কৃত বর্ধিত হল ও বিভাগ ফি এবং জরিমানা বন্ধ করা, ক্যাম্পাসে অবাধ গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ ও রাত ১০টার পর প্রাইভেট পরিবহন বন্ধ করা এবং ক্যাম্পাসে রিকসা ভাড়া নির্ধারণ, হলের খাবারের মান উন্নয়নে ভর্তুকি বৃদ্ধি, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, সকল শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যবীমা, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি, আদিবাসী ও পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র নির্মাণ প্রভৃতি।

ইশতেহার ঘোষণা ও প্রার্থীদের পরিচিতি সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে ভোট দেয়া শিক্ষার্থীদের অধিকার। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে প্রশাসন এ অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত রেখেছে। আমরা সৌভাগ্যবান যে, দীর্ঘদিন পর আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। ছাত্রলীগই পারে শিক্ষার্থীদের সকল স্বপ্নপূরণ করতে। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা পূর্ণাঙ্গ আবাসিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ডাকসুর মাধ্যমে ছাত্রদের প্রতি শিক্ষকদের উদাসীনতা দূর করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়নে, হলের রিডিং রুমে আসন সংখ্যা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখাসহ শিক্ষার্থীদের সকল দাবি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। আমরা বিজয়ী হলে এই প্যানেলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসর্গ করব।’

গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে আমাদের প্যানেল সেরাদের সেরা। আমাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে আমাদের ভালোবাসার আধিপত্য। ১০ বছর ধরে সুষ্ঠু ও সুন্দর ক্যাম্পাস এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের একাগ্রতার ফসল।’

তিনি বলেন, ‘যতবারই ডাকসুতে ছাত্রলীগের প্যানেল নির্বাচিত হয়েছে, ততবারই ডাকসু প্রাণ ফিরে পেয়েছি। ডাকসুতে যখনই ছাত্রলীগ, তখনই দারুণ সম্ভাবনা। ৬৯, ৭১ ও ৯০ সালে ছাত্রলীগ যেমন নতুন কিছু করেছে তেমনি এবারও নতুন কিছু হবে। আমাদের ভালো কিছু করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য দুটিই রয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের ভোটের মাধ্যমে স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে চাই।’

মানবকণ্ঠ/এফএইচ