চূড়ান্ত হিসেবে জিডিপি বেড়েছে ৭.৮৬ শতাংশ

চূড়ান্ত হিসেবে জিডিপি বেড়েছে ৭.৮৬ শতাংশ

চূড়ান্ত হিসেবে গত অর্থ বছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭.৮৬ শতাংশ, যা প্রাথমিক হিসেবে ছিলো ৭.৬৫ শতাংশ।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠকটি চলছে।

বৈঠকে জানানো হয়, জিডিপির এই প্রবৃদ্ধি অর্জন গত অর্থবছরের বাজেটে নেয়া লক্ষ্যমাত্রা ৭.৪ শতাংশের চেয়েও বেশি। সেই সঙ্গে বেড়েছে মাথাপিছু আয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)’র চূড়ান্ত হিসেবে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির যে রেকর্ড হবে, তা গত ৬ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেটি যে ৮ শতাংশের কাছাকাছি যাবে, সেই আভাসও দিয়ে রেখেছিলেন। পরিকল্পনামন্ত্রীর আভাসই সত্যি হলো। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, বিদায়ী অর্থবছরে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে। ওই অর্থবছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭.৮৬ শতাংশ। পুরো এক বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই তথ্য বের করেছে বিবিএস।

যদি অর্থবছরের ৯ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বিবিএস জানিয়েছিল, গত অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৬৫ শতাংশ। অবশ্য ওই তথ্য ছিল সাময়িক প্রাক্কলন। চূড়ান্ত তথ্যে দেখা গেল, সাময়িকের চেয়ে প্রবৃদ্ধি ০.২১ শতাংশ বেড়ে ৭.৮৬ শতাংশ হয়েছে। রেকর্ড প্রবৃদ্ধির তথ্য মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে তুলে ধরবেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

এ ছাড়া আজকের একনেক সভায় দেশে দারিদ্র্যের হারও তুলে ধরার কথা রয়েছে। দুই বছর আগে বিবিএসের সব শেষ তথ্য বলেছে, দারিদ্র্যের হার ২৪.৩ শতাংশ। সেটি এখন ২৩ শতাংশের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে বিবিএস। এসংক্রান্ত প্রতিবেদনটিও একনেকে তুলে ধরা হবে।

বিবিএসের দেয়া তথ্য মতে, বিদায়ী অর্থবছরে সরকার বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল ৭.৪ শতাংশ। সাময়িক প্রাক্কলনে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৭.৬৫ শতাংশ অর্জিত হয়। এখন চূড়ান্ত তথ্য বলছে, ৭.৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ০.৪৬ শতাংশ বেশি।

এদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে প্রথমবারের মতো জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

এ বছর প্রবৃদ্ধি ৮.২৫ শতাংশ হতে পারে বলে আভাস দেন মন্ত্রী। এ ছাড়া ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে (পিপিপি) বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। নির্বাচনের বছর প্রবৃদ্ধি কমবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই নির্বাচন হয়। এটা তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

মানবকণ্ঠ/এসএস