চিকুনগুনিয়ার ভয়ে মশারিতে বন্দি নগরবাসী: বেড়েছে মশানিবারক পণ্যের চাহিদা

চিকুনগুনিয়া ভর করেছে ঢাকায়, এডিস মশার আতঙ্কে শহর। ঘরে ঘরে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, আক্রান্তদের ভোগান্তি দেখে আতঙ্ক ভর করছে বাকিদেরও। যারা আক্রান্ত হননি তারা মেনে চলছেন নানা সতর্কতা। শহুরে মানুষ দুই একটা মশার কামড় সহ্য করে হলেও মশারিকে প্রায় বিদায় দিয়েছিল। চিকুনগুনিয়ার ভয়ে আবার মানুষ বন্দি হচ্ছে মশারি নামক খাঁচায়, তাই বেড়েই যাচ্ছে মশারির চাহিদা ও দাম। মশারির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মশানিবারক পণ্য-মশার কয়েল, অ্যারোসল ও ক্রিমের দাম।

শান্তিনগর মোড়ের একটি মার্কেট থেকে মশারি কিনছিলেন রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা সাবিহা সুলতানা। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মশারির দোকানে প্রচুর ভিড়, দামও বেশি। তিনি ৭০০ টাকায় একটি বড় মশারি ও ৫০০ টাকা দিয়ে একটি সেমি ডাবল মশারি কিনেছেন। তিনি বলেন, বড় মশারিটির রঙ পছন্দ না হওয়ায় অন্য একটা দিতে বললে দোকানদার বলেন এই এক পিসই আছে নিলে নিন না হলে দরকার নেই। চিকুনগুনিয়ার ভয়েই মূলত মশারিটি কিনে নিলাম। অন্য সময় হলে প্রতিটি মশারি ১৫০-২০০ টাকা কমে পেতেন বলে মনে করেন তিনি।

মহাখালী কাঁচাবাজারের পেছনের কাপড়ের দোকানগুলোতে অনেক মশারি চোখে পড়ে। কথা হলো নিউ চাঁদপুর বস্ত্রালয়ের হাসান তালুকদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, চিগুনগুনিয়ার কারণে মশারির প্রচুর চাহিদা বেড়েছে। তিনি অবশ্য মশারির উচ্চ মূল্য বৃদ্ধির কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি মশারিতে ২০-৩০ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মশারির দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, সিঙ্গেল মশারি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা পিস, সেমি ডাবল ২৩০-২৫০ টাকা, ৬-৭ ফুট আকারের মশারি ৩০০-৩৫০ টাকা আর ৬-৭ ফুটের একটু ভালো মানের মশারির দাম ৫০০-৬০০ টাকা। অন্যদিকে বাতাস বেশি ঢুকতে পারে বলে ম্যাজিক মশারির দাম সিঙ্গেল ২০০-২৫০ টাকা, সেমি ডাবল ৩০০-৩২০ টাকা আর ৬-৭ ফুটের ম্যাজিক মশারি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকায়। অন্যান্য জায়গার চেয়ে এখানে মশারির দাম একটু কম কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে হাসান তালুকদার বলেন, এখানে আসলে কম দামি মশারির ক্রেতাই বেশি আসে। তাই আমরা মোটামুটি মানের মশারিই রাখি।

মশারির পর মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার অন্যতম উপকরণ মশার কয়েল। যদিও নকল আর মাত্রারিক্ত কীটনাশক মিশ্রিত কয়েলের কারণে অনেকেই আস্থা হারিয়েছেন পণ্যটির ওপর থেকে। চিকুনগুনিয়া আসায় সে অনাস্থা ভুলে মানুষ মশার কয়েল কিনছেন। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় নানা ব্রান্ডের ও বেনামি কয়েলের উপস্থিতি। রাজধানীর গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটের শাহজালাল জেনারেল স্টোরের নাজিম উদ্দিন বলেন, চিকুনগুনিয়া আসার পর ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে মশার কয়েলের চাহিদা। চাহিদা বাড়লেও কোম্পানিগুলো এখনো দাম বাড়ায়নি তাই আমরা আগের দামেই কয়েল বিক্রি করছি। তিনি জানান, তার দোকানে নানা রকম কয়েল রয়েছে যার মধ্যে এসিআইয়ের ব্ল্যাক ফাইটার বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা প্যাকেট, হাই বুস্টার ৩২ টাকা প্যাকেট দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য কয়েলের মধ্যে মরটিন ছোট চিকন আকারের প্রতি প্যাকেট ৩২ টাকা আর মোটা আকারের প্রতি প্যাকেট কয়েল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। অ্যাটাক কিং ৬০ টাকা, বস ৮০ টাকা, তুলশীপাতা ৬০ টাকা, এআরএস ১০০ টাকা প্রতি প্যাকেট দরে বিক্রি হচ্ছে।

কয়েলের পরেই মশা তাড়াতে মানুষ অ্যারোসল ব্যবহার করে থাকেন। অ্যারোসলের বিক্রিও বেড়ে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা। বাজারে প্রচলিত এসিআই অ্যারোসলের মাঝারি আকারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকায় আর বড় সাইজের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ টাকায়। অন্যদিকে স্কয়ারের এক্সপেল অ্যারোসল বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ টাকায়। মশা তাড়াতে নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ওডোমস নামক এক ধরনের ক্রিমের। ভারতের ডাবর ইন্টারন্যাশন্যালের এ ক্রিম মাখলে মশা আর কামড়ায় না। ফার্মেসি ও সুপার শপগুলোতে পণ্যটি পাওয়া গেলেও ইদানিং এর দেখা পাওয়া ভার হয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকদের নোটিশ দেয়া হচ্ছে ক্রিম গায়ে মাখিয়ে স্কুলের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে। মহাখালীর রাজ মেডিসিনের সুমন আহমেদ বলেন, এটার চাহিদা এতই বেড়েছে যে কোম্পানি আমাদেরকে অর্ডার অনুযায়ী সাপ্লাই দিতে পারছে না। ছোট আকারের ওডোমস ৬৫ টাকা আর বড় আকারেরটা ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

মানবকণ্ঠ/এসএস