চিকিৎসকের পরিসংখ্যান

সারাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট চরমে। চিকিৎসকের সংখ্যাগত সংকট হওয়ায় সরকারি হাসপাতালে উপযুক্ত চিকিৎসার মান নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বাস্থ্য জনবলের দিক থেকে বিশ্বের সংকটাপন্ন ৫৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি বলে চিহ্নিত হয়েছে।
জানা যায়, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের জন্যে ৭২ হাজার ডাক্তার। অর্থাৎ প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ৪.২ জন চিকিৎসক রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া ২০১১ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য জনবলের যে তথ্য দেয়া হয়েছে তাতে দেখা যায় বাংলাদেশে মোট রেজিস্টার্ড চিকিৎসক রয়েছেন ৫৩ হাজার ৬৩, কিন্তু দেশে আছেন ৪৩ হাজার ৫৩৭ জন। প্রায় ১০ হাজার চিকিৎসক দেশে নেই। এদের মধ্যে মাত্র ৩৫% স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং ৩% অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করছেন। অর্থাৎ মাত্র ৩৮% সরকারিভাবে নিয়োজিত রয়েছেন। বেসরকারি খাতে চাকরি করছেন ৫৮%। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে মেডিকেল অফিসার হিসেবে আছে ৫৪০ জন। অপরদিকে বাংলাদেশে রেজিস্টার্ড ডিপ্লোমা নার্সের সংখ্যা মাত্র ২৬ হাজার ৮৯৯, কিন্তু কর্মরত আছেন ১৫ হাজার ২৩ জন। অর্থাৎ ১১ হাজার ৮৭৬ জন দেশেই নাই। ডাক্তার নার্সের অনুপাত হচ্ছে প্রতি ১ জন ডাক্তারের সঙ্গে মাত্র ০.৪ জন নার্স। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আরো দেখা যায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর স্বাস্থ্য সেবার কর্মচারী অর্থাৎ ডাক্তার এবং নার্সদের নিয়োগের ক্ষেত্রেই ঘাটতি আছে যথাক্রমে ২৪% এবং ৩০%। আর যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা কর্মক্ষেত্রে আছেন কিনা সে তথ্য ওয়েবসাইটে নেই।
অপরদিকে আইসিডিডিআর,বি ও ব্র্যাকের গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ৫.৪ জন ডাক্তার, ২.১ জন নার্স রয়েছে। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি ১০০০ মানুষের জন্য মাত্র ০.৫৮ জন চিকিৎসক-নার্স ও দাই রয়েছে। এই চিত্র খুবই হতাশাব্যঞ্জক। যদিও স্বাস্থ্য জনবলের ঘাটতি বিশ্বব্যাপী রয়েছে, তবুও প্রতি হাজারে ২.৫ জন হলেও তা মেনে নেয়া যেত, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা অনেক কম।