চারে চার ঢাকার


এবারের বিপিএলে জিতেই চলেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। সিলেট সিক্সার্সকে সহজেই ৩২ রানে হারিয়ে নিজেদের প্রথম চার খেলায় টানা জয় পেল সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা। এই জয়ে চার খেলায় ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রাখল ডায়নামাইটস।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে রনি তালুকদারের ফিফটিতে ৭ উইকেটে ১৭৩ রান করেছিল ঢাকা। জবাবে ৯ উইকেটে ১৪১ রানে থামে সিলেট। যার অর্ধেক রানই করেন নিকোলাস পুরাণ (৭২)।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ঢাকার শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ৪ রানেই ফেরেন হজরতউল্লাহ জাজাই। প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা পাকিস্তানি পেসার সোহেল তানভীরের বলে ডিপ মিড উইকেটে আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন আফগান ব্যাটসম্যান।

ঢাকা শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠে রনি ও সুনীল নারিনের ব্যাটে। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজন যোগ করেন ৬৭ রান। নারিন ২১ বলে ২৫ রান করে অলক কাপালির বলে ফিরলে ভাঙে এ জুটি।

দ্বাদশ ওভারে আফিফের প্রথম চার বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকানোর পথে রনি ফিফটি তুলে নেন ৩১ বলে। তবে পঞ্চম বলে তাকে ফেরান আফিফ। ৩৪ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় রনি করেন ৫৮ রান।

এরপর দ্রতই কয়েকটি উইকেট হারায় ঢাকা। চারে নামা অধিনায়ক সাকিব ফেরেন ২৩ রান করে। আর ১৫তম ওভারে তাসকিন আহমেদ চার বলের মধ্যে নেন ৩ উইকেট! তার শিকার যথাক্রমে আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ড ও শুভাগত হোম। দুই অঙ্কে যেতে পারেননি কেউই।ঢাকার স্কোর তখন ৭ উইকেটে ১২৫ রান। অষ্টম উইকেটে নুরুল হাসান সোহান ও মোহাম্মদ নাঈমের অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রানের জুটিতে বড় পুঁজি পায় তারা। সোহান ১০ বলে এক ছক্কায় ১৮ ও নাঈম ২৩ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

চার ওভারে ৩৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সিলেটের সেরা বোলার তাসকিন। তানভীর, আল-আমিন হোসেন, কাপালি ও আফিফ নেন একটি করে উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই ধুঁকেছে সিলেট। মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই তারা হারায় প্রথম দিকের চার ব্যাটসম্যানকে। দুই অঙ্কে যেতে পারেননি কেউই।

ডেভিড ওয়ার্নারকে (৭) ফিরিয়ে শুরুটা করেছিলেন সাকিব। বাঁহাতি স্পিনার পরে নেন নাসির (১) হোসেনের উইকেটও। আর নারিনের শিকার লিটন (৯), শুভাগত ফেরান আফিফকে (৪)।

সাব্বির রহমান দুই অঙ্ক ছুঁলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। রুবেল হোসেনের বলে তিনি আউট হন ১২ রানে। একটা পর্যায়ে ৭৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে একশর আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কাতেও পড়ে গিয়েছিল সিলেট।

দলকে সেই লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন পুরাণ। দলকে একাই টেনেছেন তিনি। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অষ্টম উইকেটে তাসকিনের সঙ্গে ৩৪ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন। যেখানে তাসকিনের অবদান মাত্র ৫ রান১৮তম ওভারে রুবেলকে টানা দুই ছক্কা হাঁকানোর পরের বল আবার উড়াতে গিয়ে ফেরেন পুরাণ। ৪৭ বলে ৯ ছক্কা ও এক চারে ৭২ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটসম্যান।

কার্যত ম্যাচও শেষ হয়ে যায় সেখানেই। তাসকিনের ১৯ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ১৮ রান পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পারে শুধু। তিন ম্যাচে এটি সিলেটের দ্বিতীয় পরাজয়।

তিন ওভারে ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ঢাকার সেরা বোলার রুবেল। সাকিব ও শুভাগত নেন ২টি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নেন নারিন ও আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা আলিস আল ইসলাম। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন রনি।

মানবকণ্ঠ/এআর

Leave a Reply

Your email address will not be published.