‘চাই পুষ্টিসমৃদ্ধ চুল’

চুল সৌন্দর্য্যরে অন্যতম প্রতীক। নারী-পুরুষ সবার সৌন্দর্য্যরে জন্য চাই উজ্জ্বল মসৃণ চুল। চুল সুস্থ, সুন্দর, জটমুক্ত হলে মানানসই চুলের স্টাইলে মুখটা লাগবে আরো বেশি আকর্ষণীয়। স্মার্টনেস বেড়ে যাবে আরো বেশি। নিজেকে তাই আকর্ষণীয় ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করে উপস্থাপন করে তোলার জন্য চাই পুষ্টিসমৃদ্ধ চুল। বর্তমান প্রতিযোগিতার ভিড়ে সামান্য কিছু সচেতনতা ও যতœ আপনার চুলকে করবে আরো বেশি সুন্দর। আসুন নিজেকে সুন্দর করি। প্রতিযোগিতার বাজারে গুণের সঙ্গে রূপেরও যথেষ্ট প্রয়োজন।
চুল পড়ে যাওয়ার কারণ: মনোদৈহিক সমস্যা, পারিবারিক অশান্তি, গভীর রাত জেগে পড়া বা ল্যাপটপে ও ট্যাবে কাজ করা, টিভি দেখা। এই কাজগুলোর জন্য চুল ঝরতে পারে। ভেজাল খাবার হলো চুল পড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। দেহে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ক্যালসিয়ামের অভাবের জন্যও চুল পড়ে যায়। আয়রন শরীরে রক্ত তৈরি করে। আর ক্যালসিয়াম চুল, দাঁত, হাড় মজবুত করতে রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাই দেহে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের অভাবে চুল পড়ে। সঠিক সময়ে খাওয়া, ঘুমানের অভাব, অতিরিক্ত রৌদ্র ও ধুলাবালিতে থাকা, অতিরিক্ত মানসিক কষ্টে চুল পড়ে। রক্তে চিনি মাত্রা, হরমোনের অসাম্যাবস্থা, রক্তচাপের উঠানামার জন্যও চুল পড়ে যায়। বড় কোনো অপারেশন, ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের কেমোথেরাপি দেয়ার পরেও চুল পড়ে। কেমোথেরাপি ছাড়াও কিছু ওষুধ আছে। যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল ঝরতে পারে। দেহে উদ্ভিজ্জ আমিষের (ডাল, শিমের বিচি, শস্য) তুলনায় প্রাণিজ আমিষ (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ) এর পরিমাণ বেড়ে গেলেও চুল ঝরে যায়। ওজন বেশি বা দেহে কোলেস্টেরল বেশি, এমন ব্যক্তিদের প্রাণীজের তুলনায় উদ্ভিজ্জ আমিষ বেশি বেশি খাওয়া দরকার। মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী, ভেজাল খাবার, দূষিত পানি, ভেজা চুল বেঁধে রাখার জন্যও চুল ঝরে যায়। বংশগত কারণও দায়ী। পারিবারিক কারণেও চুল পড়ে যায়। রক্তের সম্পর্কিত আত্মীয় স্বজনদের মাথার চুল কম থাকলে, কারো মাথার চুল ঝরতে পারে। চুলে অতিরিক্ত রং, অতিরিক্ত শ্যাম্পু, অধিক সংখ্যকবার হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলেও চুল পড়ে যায়। গর্ভাবস্থা, সন্তান জš§ দেয়ার পরে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ দানকালীন সময়েও সুষম পুষ্টিকর খাবার এর অভাবে চুল পড়ে যায়। দেহের ওজন অতিরিক্ত হারে বেড়ে গেলে দেহের অধিকাংশ অংশগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে দেহের শিরা-উপশিরা এবং চুলের গোড়ার স্নায়ুগুলো সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে না। তখনও চুল পড়ে যায়। চুল পড়ে যাওয়া রোধে আমাদের করণীয়: নিয়মিত সবুজ, হলুদ শাকসবজি, মৌসুমি ফল, তিতা খাবার (চিরতার রস, করলা, নিম) খান। প্রতিদিন ২-২.৫ লিটার পানি পান করুন। বেশি পানি খেতে খারাপ লাগলে কমপক্ষে প্রতিদিন দুই লিটার পানি পান করুন। পানি জাতীয় খাবার খান বেশি করে, এতে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে রক্ত চলাচল করবে। পুরো দেহে সঠিকভাবে রক্ত চলাচল করলে, চুল পড়বে কম। দেহে রক্ত তৈরি হয়, এমন ধরনের খাবার বেশি খেতে হবে। সে সঙ্গে যোগ করুন ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার (যেমন- দুধ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার)। নিয়মিত চুলের পরিচর্যা করুন। অতিরিক্ত রৌদ্রের তাপ ও সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা করুন আপনার চুলকে। মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী কখনোই ব্যবহার করবেন না। এতে চুলের ক্ষতি হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ওজন সর্বদা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। চুল পড়ে যাওয়া রোধ করা ও চুল ভালো করার জন্য বাজারে নানান রকম ওষুধ বিক্রি হয়। এসব ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত খাবেন না। বড় কোনো অপারেশনের পরে, মাতৃদুগ্ধদানকালীন সময়ে অবশ্যই আয়রন, ক্যালমিয়াম জাতীয় খাবার এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খান। যে কোনো মাদকদ্রব্য, ধূমপান বর্জনীয়। সর্বদা হাসি খুশি থাকুন। যে কোনো নেতিবাচক চিন্তা ও হতাশা চুল ঝরার জন্য দায়ী। চুলে কেমিক্যাল যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো। চুলে অতিরিক্ত হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলেও চুল ঝরতে পারে।
চুল ঠিকমতো আচড়াবেন। এতে চুলের প্রতিটি প্রান্তে স্নায়ুর কার্যপ্রবাহ সচল হবে। পুরো মাথাতে স্নায়ু প্রবাহ সঠিক হলেও চুলের বৃদ্ধি ও বর্ধন হতে হবে।
মেনোপোজ (মাসিক চিরতরে বন্ধ হওয়া) হওয়ার পরে দেহে সঠিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও আয়রনের অভাবে প্রচুর পরিমাণে চুল ঝড়ে। তাই এই সময় ক্যালসিয়াম প্রতিদিন একটি করে খান এবং সে সঙ্গে প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার। তবে বেশি উপকারের আশায় অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবেন না। হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল ঝরলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক :
ডা. ফারহানা মোবিন
রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ।