চলতি মাসেই অনুমোদন পাবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবসার নীতিমালা

চার দশক ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রী পরিবহন ছাড়াও দেশের বিমানবন্দরগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই সময়ের মধ্যে কোনো নীতিমালা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি নীতিমালা ছাড়াই এতদিন ধরে এ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যদিও বিমানের সেবার মান নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ পরিস্থিতিতে একটি খসড়া নীতিমালা করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এরপর তা পর্যালোচনা করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রস্তাবিত মূলধন, ফি ও চার্জ নির্ধারণের জন্য সম্প্রতি অর্থ বিভাগে মতামত চেয়ে চিঠিও দেয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মাসেই নীতিমালাটি অনুমোদন পাবে বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানিয়েছে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডারস লাইসেন্স দেয়া হবে। তিন ক্যাটাগরিতে এ লাইসেন্স দেয়া হবে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী লাইসেন্স ফি ভিন্ন হলেও সব ক্ষেত্রেই ২৫ শতাংশ হারে রয়্যালটি দিতে হবে বেবিচককে, যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

খসড়া অনুযায়ী, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স পেলে দেশের সব বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেয়া যাবে। ‘বি’ ক্যাটাগরির লাইসেন্সে সেবা দেয়া যাবে শুধু দেশি এয়ারলাইনসকে। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে দেশি এয়ারলাইনসগুলো নিজস্ব ফ্লাইটের গ্রাউন্ড সার্ভিস দিতে পারবে যা বর্তমানেও বিদ্যমান। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ২০০ কোটি ও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিধান রাখা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।

ফি ও চার্জের বিষয়ে বেবিচকের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ফি ১০ কোটি ও নবায়ন ফি ৫ কোটি টাকা। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে সিলেটের ওসমানী, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ফি ৫ কোটি ও নবায়ন ফি আড়াই কোটি টাকা। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ১ কোটি ও নবায়ন ফি ৫০ লাখ টাকা। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে দেশের অন্য বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ফি প্রস্তাব করা হয়েছে ৫০ লাখ ও নবায়ন ফি ২৫ লাখ টাকা।

‘বি’ ক্যাটাগরিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ফি প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ কোটি ও নবায়ন ফি দেড় কোটি টাকা। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে সিলেটের ওসমানী, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ৩ কোটি ও নবায়ন ফি দেড় কোটি টাকা।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, সব ক্যাটাগরিতেই রয়্যালটি হিসেবে বেবিচককে মাসিক ২৫ শতাংশ দিতে হবে। এছাড়া বেবিচকের কাছে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে জমা রাখতে হবে পরিশোধিত মূলধনের ৫ শতাংশ।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার বিষয়ে খসড়া প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশি প্রতিষ্ঠানকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনা হলে ৫১ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে দেশি প্রতিষ্ঠানের। যেকোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই বছর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিসের অভিজ্ঞতা থাকা প্রতিষ্ঠান ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স আবেদন করতে পারবে। তবে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় থাকলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন দুটি দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিনে কমপক্ষে ৩০টি উড়োজাহাজের ন্যূনতম পাঁচ বছরের গ্রাউন্ড সার্ভিসের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রেও তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিনে কমপক্ষে ২০টি উড়োজাহাজের ন্যূনতম দুই বছরের গ্রাউন্ড সার্ভিসের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে।

নীতিমালাটি কার্যকর হলে প্রতি বছর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সেবার মান নিরীক্ষা করবে বেবিচক। এছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিরীক্ষা করে বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হবে। বেবিচকের অনুমতি ছাড়া কোনো যন্ত্রপাতি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। উচ্চপদে কোনো কর্মকর্তা নিয়োগেও বেবিচকের অনুমতির প্রয়োজন পড়বে। সর্বোপরি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী কোনো শ্রমিক ইউনিয়ন, সংস্থা বা সংগঠন করতে পারবেন না।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মো. জিয়াউল হক জানান, নীতিমালার অভাবে দেশের বিমানবন্দরগুলোর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার মান অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বিমানবন্দরের ভাবমূর্তিও। তবে নীতিমালাটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি মাসেই এটি অনুমোদন পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস