চবি ছাত্রলীগের সিক্সটি নাইন ও উল্কা গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি গোলাম রসুল নিশানকে শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে অপহরণের ঘটনায় চবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার মোড় থেকে অপহরণ করা হয়েছে ছাত্রলীগ নেতা নিশানকে। নিশানের অনুসারীদের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতা সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ লিমন, মনসুর আলম, আবু তোরাফ পরশ এবং ইকবাল টিপুর নির্দেশে গোলাম রসুল নিশানকে অপহরণ করা হয়েছে। গোলাম রসুল নিশান সিটি মেয়র আ জ ম নাসিরের অনুসারী উল্কা গ্রুপের নেতা। অপরদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্তরা একই নেতার অনুসারী সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন।

এ ঘটনার খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে রাত ১ টার দিকে উল্কার নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেট অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত গেট অবরুদ্ধ করে রাখার ঘোষণা দেয়। পরে রাত ২ টার দিকে ক্যাম্পাসের মূল গেট থেকে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শাহজালাল হলের দিক থেকে ইট পাথর ছুঁড়তে থাকে সিক্সটি নাইনের নেতাকর্মীরা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঘটনা সংঘর্ষে রুপ নেয়। এতে উভয় পক্ষ গুলিবর্ষণের অভিযোগ তুলে। তবে সিক্সটি নাইনের কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন।

আহতরা হলেন- সাংবাদিকতা বিভাগ ১৪-১৫ সেশনের শামীম , একই সেশনের পদার্থবিদ্যা বিভাগের আনিস ,১৮-১৯ সেশনের অভয়, আইইআর বিভাগের ১৭-১৮ সেশনের অর্ণব ইসলাম , ১৫-১৬ সেশনের দ্রুব, আরবি বিভাগ ১৭-১৮ সেশনের ঈমাম , লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৬-১৭ সেশনের মাহমুদ ইসলাম ,একই সেশন একই বিভাগের মো:মামুন ইসলাম, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ১৩-১৪ সেশনের মিলন , ১৬-১৭ সেশনে সাদ্দাম হোসেন, লোক প্রশাসন বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের সৌরভ তালুকদার ।

উল্কার নেতাকর্মীদের দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই কাজ করা হয়েছে। তারা জানান, অপহরণের কয়েক ঘন্টা পর আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর টাইগারপাসে ঝাউতলা স্টেশনের পাশের একটি পাহাড় থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় গোলাম রসূল নিশানকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) পাঠানো হয়। এ সময় তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এছাড়াও প্লাস দিয়ে নখ তুলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তারা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উল্কা গ্রুপের নেতা সুমন খান বলেন, চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপুর বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় মনসুর আলম, ইকবাল টিপু ও আবু তোরাব পরশের নেতৃত্বে নিশানকে অপহরণ করা হয়েছে। আমরা এর বিচারের দাবিতে মূল গেট অবরোধ করি। পরবর্তীতে তারা আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এমনকি তারা আমাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য রকেট লঞ্চার ফুটায় এবং গুলি করে। পরে আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করে।

জানতে চাইলে সিক্সটি নাইনের নেতা চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল টিপু বলেন, এ ঘটনার সাথে আমাদের কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। বরং আমরা চাই কারা অপহরণ করেছে সেটা তদন্ত করে বের করা হোক। কিন্তু এমন উড়ো অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের ঘুমন্ত কর্মীদের উপর নৃশংস হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আমাদের নেতা আ জ ম নাছির ভাইকে এ বিষয়ে অবহিত করবো। এমন ন্যাক্কারজনক হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চবি’র মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. টিপু সুলতান জানান, রাতে আঘাতপ্রাপ্ত ১১ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের মধ্যে ৩ জনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চবি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রুপ নেয় । পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

মানবকণ্ঠ/এএম