চবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ৫

দীর্ঘ ২৮ বছর অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগ ব্যতিরেকে সকল ছাত্র সংগঠনগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে। এ অনিয়মের প্রতিবাদে দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে দেখে গেছে ছাত্র সংগঠনগুলোকে।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে চাকসু ভবনের সামনে থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য বিক্ষোভ মিছিল বের করলে স্বাধীনতা চত্বরে আসলে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, চবি ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী খন্দকার আবিদ, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা জাহান রুমি,অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার নিশু ও জান্নাত মুমু এবং নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুর্শেদ ওয়াছি।

জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়নের সেক্রেটারি গৌরচাদ ঠাকুর বলেন, গতকালের প্রহসনের ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা মেয়েদেরকে বেধড়ক পেটায় এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে। ক্যাম্পাসে এই ধরনের ঘটনা শুধু আজকেই নয় অতীতেও অনেকবার ঘটেছে কিন্তু আমরা কোনো বিচার পাইনি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিবো।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক বিষয়ক সম্পাদক ইমাম উদ্দিন ফয়সাল বলেন, বিক্ষোভকারীরা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলো। আমাদের কর্মিরা তাদের এমন স্লোগান দিতে নিষেধ করলে সেখানে কথা কাটাকাটি হয়। পরে আমাদের কর্মীরা বিক্ষোভকারীদের প্রতিহত করে।

চবি প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, তারা কর্মসূচি পালনের পূর্বে আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি। যার ফলে আমাদের সেভাবে প্রস্তুতি ছিলো না। তারপরও আমরা তাৎক্ষণিক যতটুকু পেরেছি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মানবকণ্ঠ/এএম

Leave a Reply

Your email address will not be published.