চট্টগ্রামে রাস্তাজুড়েই টেম্পো স্টেশন! যানজটে নগরবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রামে ব্যস্ততম সড়কগুলোতে টেম্পো স্টেশন গড়ে উঠায় প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। দৈনিক প্রতিটি টেম্পো থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা নিয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে এসব স্টেশন গড়ে তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। অপরদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেছে এসব টেম্পোর অল্পবয়সী চালক ও হেলপাররা সংঘবদ্ধ হয়ে অনেক নগরবাসীকে নাজেহাল থেকে শুরু করে পিটিয়ে আহত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮নং শুলকবহর ওয়ার্ডের ষোলশহর দুই নম্বর গেট রেললাইনের পর থেকে মেয়র গলির মুখ পর্যন্ত সড়ক দখল করে অবৈধ টেম্পো স্টেশন নিয়ে স্থানীয়দের এমন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফ্লাইওভারের কারণে ২নং গেট কবরস্থানের পাশ থেকে যেখানে লুপ নেমেছে সড়কের সেই অংশ পর্যন্ত সড়কটি এমনিতেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ব্যস্ততম এই সড়কের উপর দিয়ে রেললাইন ক্রস করার কারণে দিনে কয়েকবার সেখানে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফ্লাইওভারের লুপটি নির্মিত হওয়ার পর থেকেই সড়কের একাংশ দখল করে গড়ে উঠেছে এই অবৈধ টেম্পো স্টেশন। সারিবদ্ধভাবে দীর্ঘ লাইন দিয়ে মেয়র গলির মুখ পর্যন্ত সড়কের একাংশ দখল করে টেম্পো দাঁড়িয়ে একের পর এক যাত্রী উঠানামা করছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. মোরশেদ আলম বলেন, ‘এটি শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়কের উপর টেম্পো স্টেশন বসে যাওয়ার কারণে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি উপ-পুলিশ কমিশনারকে (ট্রাফিক) মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কারণ এভাবে সড়কের উপর স্টেশন বানানো যায় না।’ জনদুর্ভোগ লাঘবে বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সোলায়মান বাদশা নামে এক ব্যক্তি প্রতিটি টেম্পো হতে দৈনিক ৫০ টাকা আদায় করে এই অবৈধ স্টেশন গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছেন। ওই ব্যক্তিই প্রশাসনের যেখানে যেভাবে ম্যানেজ করতে হয় সবকিছুই করেন। এ কারণে পুলিশ এসব টেম্পো চলাচলে কোনো বাধা দেয় না। এমনকি এসব গাড়ির কাগজপত্রও কখনো খতিয়ে দেখা হয় না।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হারুনুর রশিদ হাজারী ফোনে বলেন, ‘বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি।’ এভাবে স্টেশন বসানো যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।’
এদিকে সোলাইমান বাদশা বিষয়টি স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি কোনো টাকা তুলি না। আমি শুলকবহর ওয়ার্ড যুবলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। আমার কিছু অনুসারী আছে, তাদেরকে এখান থেকে সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে দিয়ে চলার ব্যবস্থা করে দিয়েছি এবং প্রশাসনকে খুশি রাখার দায়িত্বও নিয়েছি।’ ব্যক্তিগতভাবে এই স্টেশন থেকে লাভবান নন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ষোলশহর আবাসিক এলাকা মহল্লা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান খান বলেন, ‘এসব টেম্পোর সব চালক অল্প বয়সী। তাদের কারো ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে বলে মনে হয় না। কারণ তাদের যে বয়স তারা লাইসেন্স পাওয়ার কথা নয়।’ এসব চালক এবং হেলপারের কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেউ তাদেরকে কিছু বললে সবাই সংঘবদ্ধভাবে তাকে ধরে পেটায়। তারা বেপরোয়াভাবে এসব গাড়ি চালায়।’