চট্টগ্রামে মোবাইল চুরিতে জড়াচ্ছে কিশোরীরা

নগরীতে চক্রের ৬ সদস্য আটক

চট্টগ্রামে মোবাইল চুরিতে জড়াচ্ছে কিশোরীরা

বেশভূষা দেখে মনে হবে তারা কোনো অভিজাত ধনাঢ্য ঘরের সন্তান। বয়সে ওরা কিশোরী। তাদের মূল টার্গেট ধনাঢ্য কোনো ব্যক্তির ছেলেমেয়ের বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান। যেখানে অতিথি সেজে প্রবেশ করে মোবাইল বা ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি করে ফিরে যায় তারা। সম্প্রতি এমন একটি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ৬ কিশোরীর মধ্যে ৩ জন চোর আর বাকি ৩ জন তাদের ব্যবহারকারী। শহরের বিভিন্ন এলাকায় এমন বেশ কয়েকজন কিশোরী মোবাইল চুরিতে জড়িত বলে জানিয়েছেন পুলিশ। গ্রেফতাররা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাদের একটি চক্র রয়েছে। এ চক্রের সদস্যরা বস্তি এলাকায় বসবাস করে। বিশেষ করে শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন ক্ষেতচর বস্তিতে বেশিরভাগ বসবাস করে। চক্রের সদস্যদের বেশিরভাগই কিশোরী। তবে দু’চারজন পুরুষও রয়েছে। পুরুষরা চুরি করে না। তারা খবরাখবর নিয়ে আসে। এদের দলে থাকা পুরুষরা শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে ঘুরে ঘুরে খবর নেয়। কারো বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান আছে কিনা। ওই খবর ‘বস’দের জানায়। বসরাই ঠিক করে কারা কোথায় যাবে।

সোমবার মোবাইল চুরির অপরাধে গ্রেফতাররা হলেন রিপা আক্তার (১৫), জান্নাত আরা ফেরদৌস (১৪), হামিদা বেগম (৪০), ফাতেমা বেগম (২৬), সহুরা (১৫) প্রকাশ কালা বুড়ি ও নুর হোসেন (১৮)। তাদের সবার বাড়ি কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় হলেও বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের বাকলিয়া থানার নতুন ব্রিজের ক্ষেতচর এলাকায় থাকেন। এদের মধ্যে রিপা, জান্নাত ও সহুরা চুরি করে এবং বাকি ৩ জন গেটে অবস্থান করে।

সূত্র মতে, অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ পর ৩ থেকে ৪ জন কিশোরী অভিজাত পোশাকে অনুষ্ঠানে ঢুকে যায়। এমনভাবে যায় তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকে না। ডানে-বামে না তাকিয়ে আমন্ত্রিত অতিথির ন্যায় সরাসরি অনুষ্ঠানস্থলে চলে যায়। সেখানে গিয়ে তারা সবার সঙ্গে মিশে যায়। হাসি-তামাশায় মত্ত হয়ে পড়ে। তারা অতিথিদের সঙ্গে মিশতে গিয়ে কৌশলে তাদের কাছ থেকে মোবাইল, ভ্যানিটি ব্যাগ বা স্বর্ণালংকার নিয়ে কেটে পড়ে। কমিউনিটি সেন্টারের গেটে অপেক্ষা করে ৩ জন। কিশোরীরা বের হয়েই তাদের চুরি করা মালামাল অপেক্ষারতদের হাতে দিয়ে দেয়। এর পরই তারা সবাই কেটে পড়ে। এভাবে প্রতিদিনই চুরি করে তারা।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন জানান, এরা অতিথি বেশে বিয়ে, মেজবান এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন। সুযোগ বুঝে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার, ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি করতেন। হামিদা, ফাতেমা ও নূর কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে অপেক্ষা করতেন, বাকিরা অনুষ্ঠান থেকে চুরি করে জিনিসপত্র তাদের কাছে পৌঁছে দিতেন। চক্রটিতে আরো কারা সদস্য আছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস