চলন্ত সিঁড়ির ফুটওভার ব্রিজ বসাবে চসিক

চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নেই ফুটওভার ব্রিজ

চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নেই ফুটওভার ব্রিজ
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে পাল্লা দিয়ে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও বাড়ছে না ফুটওভার ব্রিজের সংখ্যা। যেগুলো আছে সেগুলোও ঠিকমতো ব্যবহার করেন না পথচারীরা। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) বলছে শিগগিরই নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তৈরি করা হবে চলন্ত সিঁড়ির ফুটওভার ব্রিজ। এজন্য ৭৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়েছে।

নগরীর শাহ্ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর, ২নং গেট, জিইসি, লালখান বাজার, টাইগার পাস, দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ, নিমতলা বিশ্বরোড, অলংকার, হালিশহর, বড়পোল, কাস্টমস, সল্ট গোলা ক্রসিং এবং সিমেন্ট ক্রসিং মোড়গুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থাপিত হয়নি কোনো ফুটওভার ব্রিজ। এদিকে, নিউমার্কেট এলাকায় স্থাপিত হওয়া দুটি ফুটওভার ব্রিজের একটাও ব্যবহার করেন না পথচারীরা।

কারণ জানতে চাইলে পথচারী মো. জসিম মানবকণ্ঠকে বলেন, মিউনিসিপ্যাল স্কুলের সামনে যে মোড়টি আছে তার গোড়ায় ফুটপাতের ওপর ভ্রাম্যমাণ দোকানের সারি। যার কারণে একপাশ থেকে অন্য পাশে যেতে অনেক দূর থেকে ঘুরে আসতে হয়। আর ফুটওভার ব্রিজের ওপরে মল-মূত্র যার কারণে ফুটওভার ব্রিজ পার না হয়ে নিচ দিয়ে চলে যাই।

সোহেল নামের সিটি কলেজের এক ছাত্র মানবকণ্ঠকে বলেন, লালখান বাজার দিয়ে সড়ক পার হতে গেলেই ভয় লাগে খুব। মনে হয় এই বুঝি দুর্ঘটনা ঘটল। যারা এই মোড়টি নিয়মিত ব্যবহার করেন, তারা নিশ্চয়ই নিত্যদিন মৃত্যুভয় অনুধাবন করেন। শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো কিছুই অনুধাবন করতে পারে না। জানতে চাইলে সিএমপি ট্রাফিক উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মো. হারুন অর রশিদ হাজারী মানবকণ্ঠকে বলেন, সড়ক দিয়ে মানুষ রাস্তা পার হতে গেলে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে আমাদেরও বেগ পেতে হয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ফুটওভার ব্রিজ থাকলে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করাও অনেকটা সহজ হয়ে যায়। তবে ফুটওভার ব্রিজ বানানোর দায়িত্ব হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের। তবুও আমরা নিয়মিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করছি এবং সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি চালাচালি করছি। যখন তারা উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তখন আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করব।

চসিক সূত্রে জানা যায়, ফুটওভার ব্রিজের সমস্যা সমাধানে চসিক নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৯টি অত্যাধুনিক ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এগুলো নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩ কোটি টাকা। মোট তিনটি প্রকল্পের অধীনে পর্যায়ক্রমে এসব ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এই তিন প্রকল্প হলো চসিকের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্রিজ সংস্কার, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি। এগুলোর মধ্যে ‘চসিকের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্রিজ সংস্কার’ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে চলন্ত সিঁড়িযুক্ত পাঁচটি ওভার ব্রিজ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ‘নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে এস্কেলেটরসহ সাতটি ফুটওভার ব্রিজ। একই প্রকল্পের আওতায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে এস্কেলেটরবিহীন আরো ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ। বাকি একটি এস্কেলেটরসহ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে। আর এতে ব্যয় হবে চার কোটি টাকা।

চসিক সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে চলন্ত সিঁড়িযুক্ত পাঁচটি ফুটওভার ব্রিজের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো-নিউ মার্কেট মোড়, জিইসি মোড়, নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজের সামনে, চান্দগাঁও হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের সামনে ও নগরীর জাকির হোসেন রোডের ওয়্যারলেস কলোনি মুরগি ফার্ম এলাকায়। একই সময় দীর্ঘ দিন ধরে অব্যবহৃত থাকা নিউ মার্কেট ও মিউনিসিপ্যাল স্কুল এলাকার ফুটওভার ব্রিজটিও অপসারণ করা হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা মানবকণ্ঠকে বলেন, নগরীর যানজট নিরসন, পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিতকরণ এবং নগর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি স্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।

ইতিমধ্যে নির্মাণের অর্থ সংস্থান এবং বেশ কিছু ফুটওভার ব্রিজের স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই কাজ শুরু হবে। এসব ফুটওভারব্রিজ নির্মিত হলে যানজট নিরসনের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে; নিশ্চিত হবে পথচারীদের নিরাপদ সড়ক পারাপার।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ড এলাকায় বর্তমানে মোট পাঁচটি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে ইপিজেড এলাকায় দুটি এবং স্টেশন রোড, নিউ মার্কেট ও ফকিরহাটে একটি করে। ইপিজেড এলাকার ওভার ব্রিজগুলো কদাচিৎ ব্যবহৃত হলেও বাকিগুলো দিনে হকার, রাতে ভ্রাম্যমাণ পতিতা ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মানবকণ্ঠ/এসএ