চট্টগ্রামে ঈদকে সামনে রেখে অস্থির মসলার বাজার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
কোরবানির ঈদ এলেই রকমারি মসলার পসরা নিয়ে বসেন ব্যবসায়িরা। স্বাভাবিকভাবেই এই ঈদে মসলার চাহিদা থাকে একটু বেশি। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মসলার বাজার অস্থির করে তুলেছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একশ্রেণির ব্যবসায়ী। যদিও মসলার আমদানি বেড়েছে তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা এবং গুটিকয়েক আমদানিকারকের হাতে মসলার বাজার কুক্ষিগত থাকায় বেশিরভাগ মসলার দামই গত বছরের চেয়ে বেড়ে গেছে।
চট্টগ্রামে মসলার বৃহত্তর পাইকারি বাজার চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, কোরবানীগঞ্জ, বক্সিরহাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি এলাচ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়, জিরা প্রতি কেজি ৩১৮-৩৫০ টাকায়, লবঙ্গ ৯৫০ টাকায়, আর দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ টাকায়। পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে যা আগের সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেশি। এলাচ আর জিরার দাম কিছুটা বাড়লেও অন্যান্য মসলার দাম তেমন বাড়েনি বলে জানান বিক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা রসুনের চাহিদাই বেশি। বর্তমানে এ ধরনের রসুন পাইকারি ১২০-১৩০ টাকা এবং দেশি রসুন ১শ’ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা বেড়েছে রসুনের দাম। এ ছাড়া গুঁড়ো মসলার মধ্যে হলুদ প্রতি কেজি ২শ’-২২০, মরিচ ১৫০-২শ’, ধনিয়া ১৮০-২২০ টাকা এবং তেজপাতা ১৭০ থেকে ২শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার-কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি আরো আগেই শুরু হয়ে গেছে। কারণ, মসলার বাজার অনেকটাই আমদানি নির্ভর। সেক্ষেত্রে এলসি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আগে থেকেই শুরু করতে হয়।’ তবে মসলার বাজার এখন অনেকটাই ভারতনির্ভর। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি এলাচ ১ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১০০০-১১০০ টাকায়। গত বছরের তুলনায় এ বছর একটু বেশি।’ তিনি বলেন, ‘কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা বাড়ার কারণে আমদানি ও সরবরাহ বাড়াতে হয়। এ কারণে অনেক সময় বাড়তি দামেও এসব পণ্য আমদানি করতে হয়। এবারো চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে আমদানি হচ্ছে। ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই।’
খাতুনগঞ্জের বিক্রেতা মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘বন্যার কারণে বাজারে মসলার ঘাটতি রয়েছে। মূলত ঈদ নয়, দেশে চলমান বন্যা, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে মসলার দাম বেড়েছে।’
তিনি জানান, দেশে মসলার ওপর আমদানি শুল্ক ৬৫-৭০ শতাংশ যা ভারতের ১৫-২০ শতাংশ। এ কারণে মসলা ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। দু’একটি ছাড়া প্রায় সব মসলার দাম গত বছরের ছেয়ে এ বছর বেশি। বর্তমানে এলাচ ৪শ’-৫শ’ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। গোলমরিচের দাম একটু কম আছে।
আয়েশা বেগম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ঈদ আসতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। তাই ঈদের আগেই মসলার কেনাকাটা শেষ করতে বাজারে আসা।’ তিনি বলেন, ‘এখন মসলার দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু ঈদের কয়েক দিন আগে মসলার দোকানের সামনেও আসা যায় না।’
তবে মসলার দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ অভিযোগ করলেও অনেকে বলছেন, দাম অনেকটা সহনীয়। ঈদের আর অল্প কিছু দিন বাকি। সামনের দিনগুলোতে যথাযথ নজরদারি থাকলে বাজার স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা ক্রেতা-বিক্রেতার। চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৩ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১০ রকমের মসলা জাতীয় পণ্য এসেছে ৫৬ হাজার ৬০৭ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ৫৪৭ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৪৮ কোট টাকা।