চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর ৪ হত্যা মামলার তদন্ত চলছে ঢিমেতালে

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর ৪ হত্যা মামলার তদন্ত চলছে ঢিমেতালে। এসব মামলার বেশ কয়েক আসামিকে গ্রেফতার করলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলারই চার্জশিট দিতে পারেনি পুলিশ। ফলে ভুক্তভোগীদের স্বজনরা ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। তবে পুলিশ বলছে, খুব শিগগিরই সব মামলার জট খুলবে এবং আদালতে চার্জশিট দেবে পুলিশ।
চলতি বছরে চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা, গাড়িচালক অনিক হত্যা, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন হত্যা ও স্কুলছাত্রী ইলহাম হত্যা। এসব হত্যাকাণ্ডের মামলার কয়েক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ক্লু সংগ্রহ করছে পুলিশ। তাদের সবাইকেই ইতিমধ্যে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
চলতি বছরের ২৬ মার্চ দুপুরে মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী উপলক্ষে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বৈঠক চলাকালে মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবারের দাবি, হাজী ইকবালের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল গিয়ে মহিউদ্দিনকে খুন করে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত মহিউদ্দিনের মা হাজী ইকবালসহ ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মোহাম্মদ ইকবাল আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে এলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদ তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাজী ইকবালের ছেলেসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চলতি বছরের ১ মে বিকেলে বন্ধু আদনানের সঙ্গে বেড়াতে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিন। পরদিন সকালে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ তার বন্ধু আদনান মির্জাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদনানের কথিত বড় ভাই ফিরোজসহ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবাইকেই রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
১৭ জুন রাতে চট্টেশ্বরী পল্টন রোডে গাড়ির হর্ন দেয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে খুন হন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. নাছির উদ্দিনের ছেলে আবু জাফর অনিক (২৬)। আবু জাফর অনিক পেশায় গাড়িচালক। পরে এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন অনিকের বাবা মো. নাছির উদ্দিন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলার মূল আসামি তুষার ও এখলাসসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৭ জুন সকালে নগরের পশ্চিম বাকলিয়া সৈয়দশাহ রোডের ল্যান্ডম্যার্ক সোসাইটি এলাকার এমএস লায়লা ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় নিজ বাসায় খুন হন স্কুল শিক্ষার্থী ইলহাম বিনতে নাছির। ইলহাম সাতকানিয়া ঢেমশা এলাকার মো. নাছির উদ্দিনের মেয়ে। নাছির উদ্দিন সৌদি আরব প্রবাসী। ইলহাম মেরন সান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ২৯ জুন ইলহাম হত্যার ঘটনায় রিজুয়ান কবির রাজু (২৬) নামে এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। রিজুয়ান কবির রাজু খুন হওয়া ইলহাম বিনতে নাছিরের চাচির ছোট ভাই। তিনি চট্টগ্রাম আদালতের শিক্ষানবিশ আইনজীবী।
একের পর এক এভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে ঢিমেতালে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ ভুক্তভোগীদের পরিবার।
নিহত অনিকের বাবা মো. নাছির উদ্দিন মানবকণ্ঠকে বলেন, আমার ছেলে চলে গেছে। এখন খুনিদের বিচার চাই। কিন্তু পুলিশ আস্তে আস্তে তদন্ত করছে। যাদের গ্রেফতার করেছে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় তারা সেগুলো দিয়ে পুলিশকে চাপ দিচ্ছে। ফলে কবে মামলার চার্জশিট দেবে সেটাও বুঝতে পারছি না। রাজনৈতিক চাপে আসামিরা জামিনও পেয়ে যেতে পারেন। এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান মানবকণ্ঠকে বলেন, তাসফিয়ার ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, সেটা পেয়েছি। এখন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে এলে আমরা একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারব। অন্যদিকে প্রত্যেকটা মামলা নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে বসব। আশা করি, আমার আমলে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেগুলো ইতিমধ্যে ক্লু উদ্ঘাটিত হয়েছে এবং তার সঙ্গে জড়িত বেশিরভাগ অভিযুক্তকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছি। আর আমার আমলের বাইরে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে সেগুলো আমরা বিশেষভাবে নজর দিয়ে তদন্ত করব।