ঘোষিত অযোগ্যদের ছড়িতে নাস্তানাবুদ ইসি

ঘোষিত অযোগ্যদের ছড়িতে নাস্তানাবুদ ইসি

শর্ত পূরণ না হওয়ার অজুহাতে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অযোগ্য ঘোষিত নতুন রাজনৈতিক দলগুলো এবার নানা নামে হওয়া ফ্রন্ট আর জোটের সঙ্গে মিশে ভোটের মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নিজস্ব একটি প্রতীক পাওয়ার যোগ্যতা হারানো ‘এক নেতার এক দল’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই দলগুলোই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছড়ি ঘুরাচ্ছে সেই নির্বাচন কমিশনের ওপরই। সব জেনে-বুঝেও নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে ইসি এদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। উল্টো নাম সর্বস্ব এসব দলকেই তোয়াজ করে চলতে হচ্ছে। এসব নেতাদের মাঠ পর্যায়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য তো আছেই, বড় দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে ইসিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মুখোমুখি হওয়া এবং বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মাধ্যমে নিবন্ধন না পাওয়ার ঝাঁঝ মিটিয়ে নিচ্ছেন তারা।

রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরুর পর এখন অনিবন্ধিত কোনো দল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। তবে নিবন্ধিত দলের সঙ্গে জোট বেঁধে তাদের প্রতীক নিয়ে অনিবন্ধিত দলের প্রার্থীও ভোট করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অনিবন্ধিত দলের ওই প্রার্থী কাগজে-কলমে মনোনয়নদাতা নিবন্ধিত দলের প্রার্থী হিসেবেই গণ্য হন। ফ্রন্ট আর জোটে মিশে এই সুযোগটিই নিতে চাইছে ছোট ছোট দলগুলো।

নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নামসর্বস্ব দলগুলোর নেতারা নিজ দলের নিবন্ধন না পেয়ে বড় দলগুলোর ঘাড়ে সওয়ার হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন। ফ্রন্ট আর জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে জোটভুক্ত অন্য দলের প্রতীক ব্যবহার করে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। বিষয়টি ইসি বুঝতে পারলেও আইনত তাদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ নেই। নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত দলের জোট হলে তাতে ইসির করার কিছু নেই। তবে নিবন্ধিত দলগুলো জোটভুক্ত হয়ে কোনো দলের প্রতীক ব্যবহার করতে হলে কমিশনকে জানাতে হবে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বতর্মান নির্বাচন কমিশন নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়। এতে সাড়া দিয়ে নিবন্ধন পেতে ৭৬টি দল আবেদন করে। এর মধ্যে প্রাথমিক তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রথম দফায় ১৯টি আবেদন বাতিল করা হয়। এরপর বাকি দলগুলোর কাছে আরো তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় ইসি। এতে সাড়া না দেয়ায় দ্বিতীয় দফায় আরো আটটি দলের আবেদন নাকচ করে ইসি। পরে ৪৯টি দলের তথ্য যাচাই করে মাত্র দুটি দল প্রাথমিকভাবে যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এরপর দল দুটির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদন্ত করে ইসি। কিন্তু আবেদনপত্রে তাদের দেয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল না পাওয়ায় ওই দল দুটিরও নিবন্ধন প্রস্তাব নাকচ করা হয়।

তথ্যমতে, নিবন্ধন অযোগ্য এসব দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যও ছিল। সম্প্রতি তিনি ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কমিশনারদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়। শুধু মান্নাই নন, নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ডা. একিউএম বদরুদ্দোজার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত ঐক্যজোট, সিপিবি-বাসদ নেতৃত্বাধীন বাম জোট এমনকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটেও অনিবন্ধিত অনেক দল ঠাঁই করে নিয়েছে। এরই মধ্যে তারা নিজ নিজ ফ্রন্ট ও জোটের সঙ্গে নির্বাচনী আসনও ঠিক করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। জোটে থাকা বড় দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে মাঠে তৎপরতাও চালাচ্ছেন তারা।

এদিকে অনিবন্ধিত দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে না পারলেও তাদের ওপর নজরদারি রাখতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কোন দল কার সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে তা জানাতে নিবন্ধিত দলগুলোকে গতকাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১১ নভেম্বরের মধ্যে এ তথ্য ইসিকে জানানোর কথা বলেন। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ বিষয়ে বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করতে হলে তিন দিনের মধ্যে ইসিকে জানাতে হবে। কোনো নিবন্ধিত দল মনোনয়ন দিলে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলও জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অনিবন্ধিত দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে হেলালুদ্দীন বলেন, তারা অন্য দলের প্রতীকে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাইলে তাদের আটকানোর মতো আইন বাংলাদেশে নেই।

উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন ধার্য করে ৮ নভেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর সোমবার। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। আর প্রতীক বরাদ্দ ৩০ নভেম্বর শুক্রবার।

মানবকণ্ঠ/এসএস