ঘুরে বেড়ান রাজধানীতে

বোটানিক্যাল গার্ডেন: জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম বাংলাদেশে উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। এটি ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেন নামেও পরিচিত। ঢাকার মিরপুরে ঢাকা চিড়িয়াখানার পাশে অবস্থিত এই সবুজের সমারোহ। বিশাল জায়গা নিয়ে অবস্থিত এই গার্ডেনে ৮২.৯ হেক্টর অংশে আছে শুধু গাছপালা। আরো আছে পুকুর খাল ও সরু রাস্তা। সরু রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে দেখা যাবে গোলাপ বাগান, রাস্তার পাশে আকাশমনি, শাপলাপুকুর, বাঁশঝাড়, পাদ্মপুকুুর, গ্রিনহাউজ, ক্যাকটাসঘর ও গোলাপ বাগান।
চিড়িয়াখানা : মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশেই ঢাকা চিড়িয়াখানা। বিশাল এই চিড়িয়াখানার বিস্তৃতি ৯৩ হেক্টর জায়গাজুড়ে। বিভিন্ন প্রজাতীর অনেক প্রাণী এখানে মিলবে বিভিন্ন খাঁচায়। তবে বোটানিক্যাল গার্ডেনের মতোই চিড়িয়াখানায়ও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজের সমারোহ। যেকোনো ঋতুতে চিড়িয়াখানায় গিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন সপরিবারে।
রমনা পার্ক : রাজধানীর ঠিক মাঝখানে এক টুকরো সবুজ-রমনা পার্ক। শাহবাগ থেকে মৎসভবন পর্যন্ত সড়কের ডানের দেখা যায় এই উদ্যান। এটি প্রতিদিন খোলা থাকে, কোনো প্রবেশ মূল্য নেই। এর ভিতরে আছে চমৎকার খাল, সরু পায়ে চলার রাস্তা, অসংখ্য গাছ আর সবুজ ঘাসের লন।
শিশু পার্ক : শাহবাগে রমনা পার্কের উল্টোপাশে এর অবস্থান। ১৪টি রাইড এখানে রয়েছে বাচ্চাদের জন্য। বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিনামূল্যে পথশিশুদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়। রোববার শিশুপার্কটি বন্ধ থাকলেও সপ্তাহের বাকি দিনগুলো বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য খোলা থাকে।
লালবাগ কেল্লা : মোগল আমলের স্থাপত্যকীর্তি লালবাগের কেল্লা। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র মোহাম্মদ আজমের সময়ে নির্মিত এ কেল্লায় রয়েছে পরীবিবির সমাধি, দরবার গৃহ, হাম্মামখানা, মসজিদ, দূর্গ ইত্যাদি। লালবাগের কেল্লার ভিতরে ফুলের বাগানটিই মূল আকর্ষণ দর্শনার্থীদের। এছাড়া কেল্লার মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আছে চমৎকার বাঁধানো পথ।
বলধা গার্ডেন: ওয়ারীতে অবস্থিত এটি একটি উদ্ভিদ উদ্যান। বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী ৩.৩৮ একর জমির ওপর ১৯০৯ সালে উদ্যানটি নির্মাণের কাজ আরম্ভ করেন। যা শেষ হতে সময় লেগেছিল প্রায় ৮ বছর। বিরল প্রজাতির ৮০০ গাছসহ বাগানটিতে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রয়েছে। বর্তমানে এখানে ৬৭২ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। বাগানটিতে এমনও অনেক প্রজাতির গাছ রয়েছে।
আহসান মঞ্জিল : বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে কুমারটুলি এলাকায় এই আহসান মঞ্জিলের মঞ্জিলটি দুটি অংশে বিভক্ত ‘রংমহল’ এবং ‘অন্দরমহল’। প্রাসাদটির উপরে অনেক সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর; প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এ জাদুঘর দেখতে এসে থাকেন। শনি থেকে বুধ, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্ব সাধারণের জন্য এটি খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে আহসান মঞ্জিল বন্ধ থাকে।
জিনজিরা প্রাসাদ : পুরান ঢাকার বড় কাটরার দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে জিনজিরা প্রাসাদ অবস্থিত। মুঘল সুবহাদার দ্বিতীয় ইব্রাহিম খান তার প্রমোদ কেন্দ্র হিসেবে জিনজিরা প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর ঘসেটি বেগম, আমেনা বেগম, সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নেছা বেগম এবং তার কন্যাকে জিনজিরা প্রাসাদে এনে বন্দী রাখা হয়। আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগে শহর থেকে জিনজিরার মধ্যে চলাচলের জন্য একটি কাঠের পুল ছিল। প্রাসাদটির পূর্বাংশ তিনতলা সমান, মাঝ বরাবর প্রকান্ড প্রাসাদ তোরণ। তোরণ প্রাসাদকে দুই ভাগ করে অপর প্রান্তে খোলা চত্বরে মিশেছে। প্রাসাদ তোরণের পূর্বাংশেই ছিল সুড়ঙ্গপথ।
সূত্র ও ছবি: ইন্টারনেট – নগরে নাগরিক ডেস্ক