ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিল

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিল

রংপুর জেলার একমাত্র কৃষিভিত্তিক ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্যামপুর সুগার মিলটি পুরনো অবকাঠামো, অনিয়মিত বেতন-ভাতা, আখ চাষে চাষিদের অনীহা আর জমানো ঋণের বোঝা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। লোকসানের মধ্যেও আয়বর্ধক কর্মসূচি ও নানা উদ্যোগ হাতে নিয়ে আয়ের স্বপ্ন এবং ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে মিলটির কর্তৃপক্ষ। তবু উদ্বিগ্ন সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের মন্তব্য, মিলটি এভাবে চললে একদিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু মিলটির কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্ধ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং কেমিক্যাল মিশ্রণ ছাড়াই দেশে উৎপাদিত বিশুদ্ধ ঝরঝরে চিনি খেতে জনগণের মাঝে উৎসাহ বৃদ্ধি করতে হবে। আমদানি নির্ভরতা থেকে বাঁচতে আখ চাষিদের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলেই দেশীয় চিনি উৎপাদনের এই ক্ষেত্রটি লাভের মুখ দেখবে।

সূত্র মতে, বিভাগীয় শহর রংপুর থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে সদরের চন্দনপাট ইউনিয়নের শেষ মাথায় এবং বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে প্রায় ৯৯ একর জমির ওপর শ্যামপুর চিনি মিলটি অবস্থিত। ১৯৬৪ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৯৬৭ সালে শেষ হয়। ১৯৬৭-৬৮ সাল থেকে এটি চিনি উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করে। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার এই প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

শ্যামপুর সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, মিলটির বার্ষিক চিনি উৎপাদন ক্ষমতা ১০,১৬১ মেট্রিক টন। বর্তমান মজুত রয়েছে ১৫শ’ টনের বেশি চিনি। যার মূল্য ৭ কোটি টাকার বেশি। যাত্রা শুরুর পর থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক ছিল। ১৯৯২ সালে প্রথম লোকসানের খাতায় নাম ওঠে শ্যামপুর চিনিকলের। তারপর আর এগিয়ে যেতে পারেনি। এ চিনিকলের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। প্রতি বছর অব্যাহতভাবে লোকসানের বোঝা এবং চিনি অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে থাকায় শ্যামপুর সুগার মিলের ৩৯০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মৌসুমি কর্মচারীসহ প্রায় ৭৪২ জনের বেতন-ভাতা হুমকির মুখে পড়েছে। রফিকুল ইসলাম নামের এক কর্মচারী বলেন, বাজারে ১ কেজি লবণের মূল্য ৩৮ টাকা। ১ কেজি চিনির মূল্য ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। মিল কর্তৃপক্ষ লসের মধ্যে থাকায় মাসিক বকেয়া টাকা নিয়মিত পাচ্ছি না।

অন্যদিকে, সুগার মিলটির ৯৯ একর জমির মধ্যে কারখানা রয়েছে ২০ একর, আবাসিক এলাকা ৩৫ একর, পুকুর ও রেলওয়ে সাইডিং ১৬ একর এবং পরীক্ষামূলক খামার রয়েছে ২৫ একর জমিতে। জমিগুলোর মধ্যে পতিত অংশে আয়বর্ধক ফলদ বাগান তৈরি করা হচ্ছে। তেজপাতা, লিচু, আম, পেঁপে, ড্রাগন, লেবু, থাইল্যান্ডের ডাব গাছ লাগানো হয়েছে। পরিত্যক্ত কয়েকটি ভবনে গো-খাদ্যের ইউরিয়া, মাশরুম চাষ করা হচ্ছে।
শ্যামপুর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ কাজী মাহমুদুল হক বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন প্রদান করা হচ্ছে। চিনিকলের লোকসানের কয়েকটি কারণ আছে। লোকসান ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবু পতিত জমিগুলোর ব্যবহার করে যতটুকু আয় হবে তা তো লাভ। তাই না। তাই চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) এ, কে, এম দেলোয়ার হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ এক টুকরো জমিও যেন পতিত না থাকে। আমরা সেই নির্দেশমতো মিলের পতিত জমিতে আয়বর্ধক ফলদ বাগান তৈরি করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আশা করছি সুফল আসবে। তিনি আখ উৎপাদন ও দেশীয় আখের বিশুদ্ধ চিনি খেতে জনগণকে অনুরোধ করেছেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস