ঘুরে আসুন যে শহরে সুখ মাপা যায়

দুবাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে সুখী শহর হিসেবে নাম লেখাতে চায়। মরুদেশের এ শহর তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য বসিয়েছে হ্যাপিনেস মিটার অর্থাৎ সুখ মাপার যন্ত্র। তাই শহরের প্রতিটি কোনায় তারা বসিয়েছে এই অদ্ভুত বাক্স। প্রতিটি বাক্সে তিনটি ভঙ্গিমা দেয়া। হাসি মুখ, উদাসীন এবং দুঃখী মুখ। প্রতিদিনের সেবা পেয়ে প্রত্যেকে কি পরিমাণ সন্তুষ্ট হয়েছে তা তারা এর মাধ্যমে প্রকাশ করবে। এই বাক্স থেকে ফলাফল শহরের সুখ সূচকে যোগ হয়। একেকটি ভঙ্গিমার সংখ্যার ওপর নির্ভর করে ফলাফল। শহরের মানুষ কতটা সুখী তা এখান থেকে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে। সুখ পরিমাপের এ যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন করেছে দুবাইয়ের স্থানীয় সরকার। দুবাইকে ছিমছাম ও স্মার্ট শহর করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তারা বিশ্বাস করে মানুষ সুখী জীবনযাপন তখনই করতে পারবে যখন তারা নিজেদের বিচ্ছিন্ন অনুভব করবে না এবং সুন্দর অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। স্মার্ট দুবাই প্রকল্পের ড. আয়েশা বিন বাশার মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে জানান, আমরা জানি শহরকে সুখী বানাতে হলে শহরের বর্তমান সেবা নিয়ে সবার কথা শোনার একটা পথ খুঁজে বের করতে হবে এবং তাদের সুখের মাত্রা সম্পর্কে জানতে হবে। বাশার জানান, হ্যাপিনেস মিটারের মাধ্যমে প্রায় ৬ মিলিয়ন ভোট সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা অনেক সুখী। তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে এ হার ৯৫ শতাংশে নিয়ে আসা। জনসেবার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা শহরের প্রতিটি ময়লার বাক্সে সেন্সর দিয়েছেন। যখন এটা খালি করা প্রয়োজন সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সতর্কবার্তা কর্তৃপক্ষের কাছে চলে যাচ্ছে। দুবাই নাউ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে অধিবাসীরা তাদের বিল ও জরিমানা পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া আরো ৫৫ নগরের সেবা পাচ্ছেন এর মাধ্যমে। স্মার্ট দুবাইয়ের পরবর্তী পরিকল্পনা গলার স্বরের মাধ্যমে সুখকে মাপার যন্ত্র আনা। আপনার গলার স্বরের তারতম্য দেখে তারা বুঝতে পারবে আপনি কতটা সুখী। হাস্যকর শোনালেও দুবাই কর্তৃপক্ষ তাদের জনগণের ভালোর জন্য প্রচুর সময় ও সম্পদ ব্যয় করছে। হ্যাপি জার্নি ডেস্ক