ঘুম এবং বালিশের সম্পর্ক

নিয়মিত ঘুম কেবল শারীরিক ক্লান্তি দূর করে না, বরং শরীরের সমস্ত কলকব্জাকে ঠিকভাবে কাজ করানোর জন্যও ঘুম অত্যন্ত কার্যকর। আরামদায়ক ঘুমের অনেকটাই নির্ভর করে বালিশের ওপর। ঘুমানোর বালিশ যদি ঠিকঠাক না হয়, তাহলে অনিদ্রা হানা দিতে পারে। আবার উপযুক্ত বালিশের অভাবে ঘুম এলেও মাঝে মাঝেই তা ভেঙে যেতে পারে। এ ছাড়া ঘাড়ে ব্যথা ও স্পন্ডিলাইটিসের নানা সমস্যাও এই ঘুমের বালিশ থেকে আসতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ মানলে, ঘুমের বালিশটি যেমন খুব নরম হলেও চলে না, তেমন আবার খুব শক্ত হলেও তা স্পাইনাল কডে নানা সমস্যা তৈরি করে। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার বালিশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও থাকে। কিন্তু যারা বালিশ ব্যবহার করেন, তাদেরও সঠিক বালিশ সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার।

অস্থি বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নারায়ণ মুখোপাধ্যায় জানালেন এমন কিছু নিয়মের কথা, যা মাথায় রেখে বালিশ বাছলে ঘুম তো আরামের হবেই, সঙ্গে স্পন্ডিলাইটিসের সমস্যাও কমবে অনেকটাই। দেখে নিন সেসব টিপ্?স।

আকার: ঘুমানের বালিশের আকার কেমন হবে তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম না থাকলেও চেষ্টা করুন মাথার মাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বালিশ কিনতে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিন। একটু বড় আকারের মাথা হলে সেক্ষেত্রে কিং বা কুইন সাইজের বালিশ নিন। মাথার আকার ছোট হলে মিডিয়াম বা স্ট্যান্ডার্ড আকারের বালিশ কিনুন।

উপকরণ: অনেকেই ফোমের বালিশ কেনেন। কিন্তু শরীরের জন্য তা একেবারে উপকারী নয়। বরং আস্থা রাখুন প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর। কার্পাস তুলার বালিশ হলে তা শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী।

উচ্চতা: বালিশ কেনার সময় দেখে নিন যাতে কাঁধ বা ঘাড় না বাঁকিয়েই অর্থাৎ মোটামুটি সোজা ও সমান্তরাল রেখেই ঘুমিয়ে পড়া যায়। বিশেষ কোনো পাশ ফিরে শোওয়ার সময় কাঁধের সঙ্গে গলার যতটা ফারাক, বালিশের সঙ্গেও কাঁধের যেন ততটাই ফারাক হয়। অর্থাৎ ঘাড়ের উপরিভাগ ও বালিশের শেষ ভাগ যেন একে অপরকে স্পর্শ করে থাকে। বালিশ কেনার সময় এই বিষয়টি মাথায় রেখেই কিনুন।

কভার: বালিশের ওপর একটা কভার ব্যবহার করুন। এতে মাথার তেলের জেরে বালিশ নোংরা হবে না। কভার বাছার সময় বরং বেছে নিন সুতির কাপড়কে। সুতিবস্ত্র ছাড়া অন্য কাপড়ের কভারে গরম লাগতে পারে, তা ত্বকের জন্যও খুব একটা ভালো নয়।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ