ঘুমের ঔষধ খাইয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করত পিতা!

 ঘুমের ঔষধ খাইয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করত পিতা!
শহীদ উল্যা। এক মেয়ে ও তিন ছেলে সন্তানের জনক। স্থানীয় বাজারে তার চায়ের দোকান। গত ২ মাস থেকে প্রতিদিন রাতে বাড়ি ফিরে কৌশলে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ১৪ বছর বয়সি মেয়েকে ধর্ষণ করতো সে। নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ পিতাকে গ্রেফতার করে। ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার অর্জুনতলা নাজিরনগর গ্রামে। রোববার দুপুরে ভিকটিমকে ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী মেয়েকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত শহীদ উল্যাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শহীদ উল্যা এক মেয়ে ও তিন ছেলের জনক। স্থানীয় বাজারে তার একটি চা দোকান রয়েছে। গত ২মাস থেকে প্রতিদিন রাতে সেই চা দোকান বন্ধ করে এসে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে রাতের খাওয়া শেষ করতো। কিন্তুর এর মধ্যে প্রায় রাতে সবার অজান্তে তার স্ত্রী আমেনা খাতুন ও মেয়ের (১৪) খাওয়ার মধ্যে সে নেশা বা ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দিত। পরে তারা ঘুমিয়ে গেলে ঘুমের মধ্যে মেয়েকে ধর্ষণ করতো শহীদ উল্যা। কয়েকদিন আগে ঘটনা টের পেয়ে ভিকটিম তার মাকে বিষয়টি জানায়।

গত কয়েকদিন থেকে শহীদ আসার আগে তারা রাতের খাওয়া শেষ করে শুয়ে যেত এবং আমেনা মেয়েকে পাহারা দিতো। একপর্যায়ে গত দু’দিন আগে শহীদ তার মেয়ের রুমে গিয়ে ঘুমের মধ্যে ভিকটিমকে ধর্ষণ করার সময় তাকে হাতেনাতে ধরে পেলে আমেনা। পরে বিষয়টি কাউকে বললে তাদের মা-মেয়েকে হত্যা করার হুমকি দেয় শহীদ। কিন্তু এরমধ্যে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় ভিকটিমের।

পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে শনিবার বিকেলে ভিকটিম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্রধরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ছিলোনীয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে শহীদ উল্যাকে গ্রেফতার করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শহীদ উল্যা একজন মাদকসেবি ও জুয়াড়ি। এরআগেও সে মাদক ও জুয়া খেলার অপরাধে একাধিকবার পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল।

সেনবাগ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে মেয়েকে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত শহীদ উল্যা। শহীদ উল্যাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ ও ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসএ