ঘরে বসেই নৌযানের সার্ভে সনদ

ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে নৌযানের সার্ভে সনদ পাওয়া যাবে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দ্রুত সেবা প্রদান ও সহজীকরণের লক্ষ্যে কাজ করছে নৌপরিবহন অধিদফতর। আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ নৌযান সার্ভের জন্য একজন নৌযান মালিককে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। অনলাইন সেবা কার্যক্রম চালু হলে ম্যানুয়াল পদ্ধতির সেবাগুলো অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় নৌপরিবহন অধিদফতরে অনলাইন সেবা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার লক্ষ্যে আজ ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিআইডব্লিউটিএর মিলনায়তনে ‘সফটওয়ার ফর ইনল্যান্ড শিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ অনলাইন সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ। সভাপতিত্ব করবেন নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম।

নৌ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অনলাইন সেবা কার্যক্রম চালু হলে একজন নৌযান মালিক তার নৌযান সার্ভের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদফতরের ওয়েবসাইট www.dos.gov.bd-এ গিয়ে ‘অনলাইনে আবেদন’ অংশে ক্লিক করে নিবন্ধনভুক্ত হবেন। এরপর জাহাজ মালিক অনলাইন আবেদন ফরমটি পূরণ করে তার পছন্দ মোতাবেক সার্ভেয়ারের কাছে সাবমিট করবেন এবং পূরণকৃত আবেদনের একটি কপি প্রিন্ট করে তাতে স্বাক্ষর দিয়ে আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ সার্ভে অফিসে জমা দেবেন। নৌযানটি সরেজমিন সার্ভের পর সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার উক্ত আবেদনের ‘সার্ভেয়ারের জন্য প্রযোজ্য’ অংশটি পূরণ করে প্রধান কার্যালয়ে সাবমিট করবেন। প্রধান কার্যালয়ে আবেদনটি পাওয়ার পর প্রথমে ‘অপারেটর’ অনলাইন আবেদনটি যথাযথ আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করে সঠিক পেলে দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘চিফ ইন্সপেক্টরে’র কাছে সাবমিট করবেন। চিফ ইন্সপেক্টর আবেদনটি পরীক্ষা করে যথাযথ পেলে তৃতীয় পর্যায়ে ‘চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার’ বরাবর সাবমিট করবেন। চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার আবেদনটি যথাযথ পেলে ‘মহাপরিচালক’ বরাবর সাবমিট করবেন।

মহাপরিচালক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি আলোচ্য নৌযানটির সার্ভে সনদের নির্ধারিত স্থানে অনুমোদন প্রদান এবং সাবমিট করলে সার্ভে সনদটি স্বাক্ষরসহ আবেদনকারীর কাছে ফেরত যাবে এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারবেন। সবশেষে আবেদনকারী ঘরে বসে তার নৌযানের সার্ভে সনদটি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পন্ন করতে পারবেন।
সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার জনগণের দুর্ভোগ দূরীকরণ, সব দফতর/সংস্থার কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মানসে সেবাসমূহ জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে ই-নথির প্রবর্তন এবং সব অফিস-আদালতে অনলাইন সার্ভিস চালু করার জন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তারই ধারাবাহিকতায় নৌপরিবহন অধিদফতর ইতিমধ্যে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে অনলাইনে সব ধরনের পরীক্ষার আবেদনপত্র ও ফিস গ্রহণ, সব শ্রেণির অনলাইন ডিজিটাল কম্পিটেন্সি সনদ প্রদান, অনলাইন ভেরিফিকেশন, অনলাইন ডস (DOS) রেজিস্ট্রেশন, অনলাইন সীম্যানস আইডি (SID) প্রবর্তন করেছে। এর ফলে সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মরত নাবিকরা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে বসে তাদের সনদসমূহ ভেরিফিকেশন করতে পারছে, ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন পোতাশ্রয় ও বিমানবন্দরে বাংলাদেশ নাবিকদের হয়রানি বন্ধ হয়েছে। নৌপরিবহন অধিদফতর ইতিপূর্বে যেসব অনলাইন সেবা চালু করেছিল সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল আন্তর্জাতিক শিপিং সংশ্লিষ্ট।

নৌপরিবহন অধিদফতর থেকে অভ্যন্তরীণ শিপিং সংশ্লিষ্ট যেসব অনলাইন সেবা প্রদান করা হবে তার মধ্যে প্রধানত নৌযান সার্ভের জন্য আবেদন, রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন, নতুন নামকরণের ছাড়পত্রের আবেদন, মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত আবেদন, ভয়েজ লাইসেন্স, নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন, টাস্ক নম্বরের জন্য আবেদন প্রভৃতি।

উল্লেখ্য, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ নৌযান সার্ভের জন্য একজন নৌযান মালিককে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণ করে বিভিন্ন দফতরে দেয় নির্ধারিত ফি প্রদানের পাশাপাশি ডকুমেন্টসমূহ সার্ভে অফিসে জমা দিয়ে সরেজমিন নৌযানটি সার্ভের জন্য উপস্থাপন করতে হতো। সার্ভে সম্পন্ন হওয়ার পর নৌযানটি পরিচালনার জন্য ৪৫ দিনের সাময়িক চলাচলের মেয়াদ সংবলিত একটি টোকেন জারি করা হতো। টোকেন জারির পাশাপাশি সার্ভে অফিস থেকে সার্ভে ঘোষণাপত্রের কপি নৌপরিবহন অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে ডাক মারফত প্রেরণ করা হতো। অধিদফতর ঘোষণাপত্রটি যাচাই-বাছাই করে সঠিক পেলে নৌযানটি পরিচালনার নিমিত্তে সার্ভেয়ারের সুপারিশ মোতাবেক ১ (এক) বছর মেয়াদি চলাচলের মেয়াদ সংবলিত সার্ভে (ফিটনেস) সনদ জারি করত।

এ প্রসঙ্গে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সব সেক্টরই ডিজিটাল হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নৌ মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল হওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছে। আশা করা যায় এরপর থেকে সব ক্ষেত্রে অনলাইনে গ্রাহক সেবা পাবেন। আমরাও গ্রাহকদের ঘরে বসে সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

মানবকণ্ঠ/এএএম