গোয়ালন্দে বাড়ছে তামাক চাষ

গোয়ালন্দে বাড়ছে তামাক চাষ

টোব্যাকো কোম্পানির লোভনীয় অফারে তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন গোয়ালন্দ উপজেলার চাষিরা। ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে তামাক চাষ। আর এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন চাষিরা। এ ছাড়া জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন তামাক চাষ করলে সেখানে অন্য ফসল চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

জানা যায়, বিভিন্ন টোব্যাকো কোম্পানির লোকজন কৃষকের বাড়িতে হাজির হন। চাষ করার আগে সার, কীটনাশক দিচ্ছেন তারা। তামাক বিক্রি করার নিশ্চয়তাও দিচ্ছেন তারা। উত্পাদনের আগেই পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেন তারা।

সূত্র জানায়, গোয়ালন্দ উপজেলার যে মাঠে এক সময় ধান, গম, ভুট্টাসহ নানা প্রকার সবজি আবাদ হতো সেখানে এখন তামাক আবাদ হচ্ছে। আবার অনেকে কুফল বুঝতে পেরে তামাক আবাদ ছেড়েও দিয়েছেন। তবে বেশির ভাগ গরিব চাষি তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। বিভিন্ন টোব্যাকো কোম্পানির কূটকৌশলের কাছে কৃষকরা হেরে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য উত্পাদন থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে করানো হচ্ছে তামাক চাষ। এতে তামাক চাষিসহ তাদের পরিবারের শিশুরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। অসুস্থ হচ্ছে অনেকেই।

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের চেয়ে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উপজেলায় বেশি তামাক আবাদ হয়েছে। তবে গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকায় ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকার মধ্যে শুধু উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মণ্ডলপাড়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি তামাক আবাদ হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকায় দৌলতদিয়া ইউনিয়নে ৩ হেক্টর, পৌরসভায় ২ হেক্টর, ছোটভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে শূন্য এবং উজানচর ইউনিয়নে সাড়ে ১৯ হেক্টর জমিতে তামাক আবাদ হয়েছে। এই উপজেলায় মোট ৭৪ জন কৃষক তামাক আবাদ করছে। তবে, প্রতিবছর ১/২ জন তামাক আবাদ বন্ধ করলেও অনেকে আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলার হাবিল মণ্ডলপাড়া এলাকার তামাক চাষিরা বলেন, তামাক আবাদে নিশ্চয়তা আছে। কোম্পানিগুলো সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখে। বিক্রির নিশ্চয়তা আছে। কিন্তু অন্য ফসলের কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবাদ বেশি হলেই বাজারে কোনো মূল্য থাকে না। সেই দিক থেকে তামাক আবাদে কৃষক মূল্যের ক্ষেত্রে ন্যায্য মূল্য পায়।

উজানচর ইউনিয়নের মেম্বর নিখিল রায় জানান, গরিব কৃষক মূল্য বেশি পাওয়ার আশায় তামাক আবাদ করে থাকে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তামাক চাষিদের পরামর্শ দিলে হয়তো তামাক আবাদ কমে আসবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়াও যে এলাকায় তামাক চাষ হয় তার আশপাশের মানুষেরও শ্বাসকষ্ট, চর্ম রোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গোয়ালন্দ কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মো. মোহায়মেন আক্তার জানান, গত বছরের চেয়ে এবার গোয়ালন্দ উপজেলায় তামাক আবাদ বেশি হয়েছে। ক্ষতিকর তামাক চাষে নিরুত্সাহিত করার জন্য মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তারা কৃষকদের এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বুঝাচ্ছেন। যাতে তারা তামাক চাষ বাদ দিয়ে কৃষিপণ্য চাষে ফিরে আসেন। তিনি আরো বলেন, তামাক চাষের ফলে জমির উর্বরতা কমে যায়।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.