গালগপ্পো বানিয়ে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে ফাঁসানোর চেষ্টা

গালগপ্পো বানিয়ে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় দেশের নবীন এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। নিয়োগ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বেআইনি সুবিধা আদায় করতে না পেরে সামাজিকভাবে তাকে হেয়-প্রতিপন্ন করার কৌশল নিয়েছে একটি পক্ষ। উপাচার্যকে বেকায়দায় ফেলতে গত শনিবার চট্টগ্রামে সপরিবারে থাকা বাসা ঘেরাও করে গুটি কয়েক লোক। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপাচার্য পুলিশের সহায়তায় তার পরিবারকে উদ্ধার করেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, পুলিশ বাড়ি ঘেরাওয়ের সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান। তবে লোকজন যে অভিযোগ করেছেন; তখন ভিসিকে সেখানে পাওয়া যায়নি। আর অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, দেশের আলেম-ওলামাদের শত বছরের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নিয়োগ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বেআইনি আবদার পূরণ না হওয়ায় একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। তা করতে না পারে সামাজিকভাবে আমাকে হেয়-প্রতিপন্ন করতে চাচ্ছে। সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্ভূট ঘটনা সাজিয়ে আমাকে ফাসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে যারা হাদিস গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক আহসান অন্যতম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপনা করেন এবং একই বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। গবেষণা ছাড়াও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর বিচরণ। সাহিত্য জগতে আহসান সাইয়েদ নামে তিনি সমধিক পরিচিত। সুধী মহলে তিনি বহুমাত্রিক লেখক হিসেবে পরিচিত। বহুমুখী প্রতিভা নিয়েই আধুনিক বাংলা সাহিগত্যে তাঁর দীপ্র আর্বিভাব। সাহিত্যের শাখায় তাঁর সর্দপ বিচরণ তাই প্রমাণ করে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর অধ্যাপক আহসান উল্লাহ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাস ও গবেষণাসহ বহু বিচিত্র বিষয়ে এ যাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪টি। মিশরীয় লেখক নোবেল বিজয়ী নাজীব মাহফুজের ছোটগল্প ও সেরা আরব নাট্যকার তওফীক আল-হাকীমের নাটকের বাংলা অনুবাদ গ্রন্থ তাকে এনে দিয়েছে বিরল খ্যাতি। তাঁর মৌলিক গল্পগ্রন্থ মাঝরাতে বৃষ্টি (গল্পগ্রন্থ), গৃহবধূ পিঞ্জরের পাখি (রম্যরচনা), আপোফিসের স্বপ্ন (গল্পগ্রন্থ) ভাষা ও রচনাশৈলী সাহিত্যসমাজে বেশ আলোড়ন তুলেছে। তিতাসের অট্টহাসি কিশোরদের জন্য তার অনবদ্য সৃষ্টি। হাইজ্যাকারের পাল্লায় এ গল্পগ্রন্থ কিশোরদের জন্য তাঁর দ্বিতীয় প্রয়াস। নাট্যকার হিসেবেও তিনি শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার অনেকগুলো নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ